ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াচ্ছে গ্যাসের চুলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

রান্নার কাজে গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত ৯ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সংস্থা কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশনের (সিপিএসসি) অন্যতম কমিশনার রিচার্ড ট্রুমকা জুনিয়র মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানান, তারা গ্যাস হব নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এটিকে ‘গোপন বিপদ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার এই মন্তব্যে ফুঁসে ওঠেন রক্ষণশীলরা। অনেকেই এর জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন।

টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রনি জ্যাকসন টুইটারে ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের পাগলরা যদি চুলা নিতে আসে, তারা আমার মৃতের মতো ঠান্ডা হাত থেকে সেটি ছিনিয়ে নিতে পারে। এসো, নিয়ে যাও!’ অ্যান্ড্রু গ্রুয়েল নামে টেলিভিশনের এক তারকা শেফ ওই পরিকল্পনার প্রতিবাদে টেপ দিয়ে নিজেকে চুলার সঙ্গে বাঁধেন।

এমনকি কিছু ডেমোক্র্যাটও ক্ষোভপ্রকাশ করেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সিনেটর জো মানচিন এই নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘বিপর্যয়ের রেসিপি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু হঠাৎ গ্যাসের চুলা যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলো কেন? দেশটিতে প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবারে গ্যাসের চুলা রয়েছে। যদিও রাজ্যভেদে এর হার ভিন্ন হতে পারে। অনেকের মতে, এগুলো বৈদ্যুতিক চুলার তুলনায় সস্তা এবং বেশি কার্যকরী, এমনকি গ্যাসের চুলায় রান্না করা খাবারের স্বাদও নাকি বেশি ভালো।

১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিজ্ঞাপনের সেøাগান ছিল ‘কুকিং উইথ গ্যাস’ (গ্যাস দিয়ে রান্না)। এটি মার্কিনিদের মনে পাকাপোক্ত আসন করে নিয়েছে। আমেরিকান গ্যাস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি বাণিজ্যিক সংগঠন কুকিং উইথ গ্যাস ডট অর্গ ওয়েবসাইটে নিয়মিত রেসিপি প্রকাশ করে থাকে। স্পনসর করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেশটির ইনফ্লুয়েন্সাররাও তাদের গ্যাসের চুলা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব চুলা নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন দূষণকারী পদার্থ নির্গত করে এবং হাঁপানিসহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নানা ঝুঁকি তৈরি করে।

ভেন্টিলেশন বা বায়ু চলাচলের উন্নত ব্যবস্থা থাকলে এসব বিপদের ঝুঁকি হয়তো কিছুটা কমানো সম্ভব। কিন্তু তাতেও অভ্যন্তরীণ দূষণ খুব একটা কমে না। জ্বলন্ত গ্যাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেনসহ নানা গ্রিনহাউস গ্যাসও নির্গত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রাহকদের গ্যাসের চুলার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে ৮৪০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। কিন্তু দেশটিতে যেহেতু ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎই গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদিত হয়, তাই গ্যাসের চুলার বিকল্পও পুরোপুরি সবুজ বা নিরাপদ থাকছে না।

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর চেষ্টায় বেশ কিছু ডেমোক্র্যাট-শাসিত সিটি কাউন্সিল গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে আইন পাস করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নতুন ভবনগুলোতে হিটিং ও রান্নার কাজে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বার্কলে। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়ার রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন নগর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করেছিল (পরে এক বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন)।

চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটিতে কিছু নতুন ভবনে গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জন্য প্রস্তাবিত অনুরূপ পরিকল্পনাটি গত বছর আইনসভায় পাস হতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে সেখানকার ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোচুল হয়তো আবার চেষ্টা করতে পারেন। সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াচ্ছে গ্যাসের চুলা

আপডেট সময় : ১১:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

রান্নার কাজে গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত ৯ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সংস্থা কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশনের (সিপিএসসি) অন্যতম কমিশনার রিচার্ড ট্রুমকা জুনিয়র মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানান, তারা গ্যাস হব নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এটিকে ‘গোপন বিপদ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার এই মন্তব্যে ফুঁসে ওঠেন রক্ষণশীলরা। অনেকেই এর জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন।

টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রনি জ্যাকসন টুইটারে ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের পাগলরা যদি চুলা নিতে আসে, তারা আমার মৃতের মতো ঠান্ডা হাত থেকে সেটি ছিনিয়ে নিতে পারে। এসো, নিয়ে যাও!’ অ্যান্ড্রু গ্রুয়েল নামে টেলিভিশনের এক তারকা শেফ ওই পরিকল্পনার প্রতিবাদে টেপ দিয়ে নিজেকে চুলার সঙ্গে বাঁধেন।

এমনকি কিছু ডেমোক্র্যাটও ক্ষোভপ্রকাশ করেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সিনেটর জো মানচিন এই নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘বিপর্যয়ের রেসিপি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু হঠাৎ গ্যাসের চুলা যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলো কেন? দেশটিতে প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবারে গ্যাসের চুলা রয়েছে। যদিও রাজ্যভেদে এর হার ভিন্ন হতে পারে। অনেকের মতে, এগুলো বৈদ্যুতিক চুলার তুলনায় সস্তা এবং বেশি কার্যকরী, এমনকি গ্যাসের চুলায় রান্না করা খাবারের স্বাদও নাকি বেশি ভালো।

১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিজ্ঞাপনের সেøাগান ছিল ‘কুকিং উইথ গ্যাস’ (গ্যাস দিয়ে রান্না)। এটি মার্কিনিদের মনে পাকাপোক্ত আসন করে নিয়েছে। আমেরিকান গ্যাস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি বাণিজ্যিক সংগঠন কুকিং উইথ গ্যাস ডট অর্গ ওয়েবসাইটে নিয়মিত রেসিপি প্রকাশ করে থাকে। স্পনসর করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেশটির ইনফ্লুয়েন্সাররাও তাদের গ্যাসের চুলা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব চুলা নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন দূষণকারী পদার্থ নির্গত করে এবং হাঁপানিসহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নানা ঝুঁকি তৈরি করে।

ভেন্টিলেশন বা বায়ু চলাচলের উন্নত ব্যবস্থা থাকলে এসব বিপদের ঝুঁকি হয়তো কিছুটা কমানো সম্ভব। কিন্তু তাতেও অভ্যন্তরীণ দূষণ খুব একটা কমে না। জ্বলন্ত গ্যাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেনসহ নানা গ্রিনহাউস গ্যাসও নির্গত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রাহকদের গ্যাসের চুলার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে ৮৪০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। কিন্তু দেশটিতে যেহেতু ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎই গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদিত হয়, তাই গ্যাসের চুলার বিকল্পও পুরোপুরি সবুজ বা নিরাপদ থাকছে না।

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর চেষ্টায় বেশ কিছু ডেমোক্র্যাট-শাসিত সিটি কাউন্সিল গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে আইন পাস করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নতুন ভবনগুলোতে হিটিং ও রান্নার কাজে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বার্কলে। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়ার রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন নগর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করেছিল (পরে এক বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন)।

চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটিতে কিছু নতুন ভবনে গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জন্য প্রস্তাবিত অনুরূপ পরিকল্পনাটি গত বছর আইনসভায় পাস হতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে সেখানকার ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোচুল হয়তো আবার চেষ্টা করতে পারেন। সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট।