ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক দেউলিয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩
  • / ৪৭১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: বন্ধ হয়ে গেছে মার্কিন প্রযুক্তি খাতের অন্যতম- সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক। গুজবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃত সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিপি) দেউলিয়া হয়ে গেছে।

এসভিপির কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার (১০ মার্চ) এসভিপির সবগুলো শাখায় মোট ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ ছিল। কিন্তু গ্রাহকদের প্রায় সবাই টাকা তুলে নেওয়ার পর এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ কারণে এসভিপির সমস্ত শাখা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এর আগে বুধবারও অন্যান্য ব্যাংকের মতো এসভিপি বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করে। তবে এর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একদম দেউলিয়া হয়ে যায় ব্যাংকটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দেশটির ব্যাংকের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা এসভিপির সমস্ত শাখা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, বুধবার ব্যাংকটির নামে গুজন উঠে। বলা হয়, গুরুতর আর্থিক ঘাটতিতে ভুগছে এসভিপি। ঘাটতির পরিমাণ এতটাই যে, ব্যাংকের ব্যালান্স শিটের কিনারা করতেই প্রয়োজন অন্তত ২২৫ কোটি ডলার।

এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক পড়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত হাজার হাজার গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসাব খালি করে টাকা তুলে নেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক আমেরিকার অর্ধেকের বেশি স্টার্ট-আপ ভেঞ্চার কম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে। এই ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ এক পর্যায়ে ২১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় এবং ব্যাংকের বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এমন সফলতার কারণে ব্যাংকটি আমেরিকার ব্যাংকিং খাতে ১৬তম স্থান দখল করে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পায়।

বিগত বেশ কিছুদিন ধরে আমেরিকার প্রযুক্তি খাত ভয়ানক খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এই সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর। স্টার্ট-আপ ভেঞ্চার প্রযুক্তি কম্পানির খারাপ অবস্থার করাণে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের সম্পদের মান খারাপ হতে থাকে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই ব্যাংক খুবই নিম্নমানের দুর্বল বন্ড পোর্টফলিওতে প্রায় ৯১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার বিপরীতে সম্ভাব্য ক্ষতির (আনরিয়ালাইজড লস) পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। সব কিছু মিলিয়ে আমেরিকার মধ্যম শ্রেণির সুপ্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে যায়।

আর এই খবরে ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এই বিনিয়োগ থেকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক ধরনের প্যানিক সেল শুরু হয়। ফলে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের শেয়ারে ব্যাপক দরপতন ঘটে এবং এই ব্যাংকের বাজার মূলধন ৪৪ বিলিয়ন ডলার থেকে হ্রাস পেয়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার নেমে আসে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সংঘটিত অর্থনৈতিক মন্দার ধকল কাটিয়ে ওঠার পর থেকে আমেরিকার অর্থনীতির মন্দার সম্মুখীন না হওয়া এবং সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে এই প্রযুক্তি খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান। দেড় যুগ ধরে আমেরিকায় একটি ধারণা একরকম প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে আছে যে আমেরিকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে পাঁচটি বৃহৎ প্রযুক্তি কম্পানি এবং সেগুলো হচ্ছে—১. ফেসবুক, ২. অ্যামাজান, ৩. অ্যাপল, ৪. নেটফ্লিক্স এবং ৫. গুগল।

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এই বৃহৎ প্রযুক্তি কম্পানিগুলো খুব খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে, যার নেতিবাচক প্রভাবে এরই মধ্যে তাদের শেয়ারমূল্য পড়তে শুরু করেছে। অ্যাপলের শেয়ারমূল্য হ্রাস পেয়েছে ২৫ শতাংশ, ফেসবুকের প্যারেন্ট কম্পানি মেটা প্ল্যাটফরমের শেয়ারমূল্য হ্রাস পেয়েছে ৬৫ শতাংশ এবং অ্যামাজানের শেয়ারমূল্য হ্রাস পেয়েছে ৪৯ শতাংশ।

সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক দেউলিয়া

আপডেট সময় : ১২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: বন্ধ হয়ে গেছে মার্কিন প্রযুক্তি খাতের অন্যতম- সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক। গুজবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃত সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিপি) দেউলিয়া হয়ে গেছে।

এসভিপির কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার (১০ মার্চ) এসভিপির সবগুলো শাখায় মোট ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ ছিল। কিন্তু গ্রাহকদের প্রায় সবাই টাকা তুলে নেওয়ার পর এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ কারণে এসভিপির সমস্ত শাখা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এর আগে বুধবারও অন্যান্য ব্যাংকের মতো এসভিপি বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করে। তবে এর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একদম দেউলিয়া হয়ে যায় ব্যাংকটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দেশটির ব্যাংকের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা এসভিপির সমস্ত শাখা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, বুধবার ব্যাংকটির নামে গুজন উঠে। বলা হয়, গুরুতর আর্থিক ঘাটতিতে ভুগছে এসভিপি। ঘাটতির পরিমাণ এতটাই যে, ব্যাংকের ব্যালান্স শিটের কিনারা করতেই প্রয়োজন অন্তত ২২৫ কোটি ডলার।

এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক পড়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত হাজার হাজার গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসাব খালি করে টাকা তুলে নেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক আমেরিকার অর্ধেকের বেশি স্টার্ট-আপ ভেঞ্চার কম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে। এই ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ এক পর্যায়ে ২১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় এবং ব্যাংকের বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এমন সফলতার কারণে ব্যাংকটি আমেরিকার ব্যাংকিং খাতে ১৬তম স্থান দখল করে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পায়।

বিগত বেশ কিছুদিন ধরে আমেরিকার প্রযুক্তি খাত ভয়ানক খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এই সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর। স্টার্ট-আপ ভেঞ্চার প্রযুক্তি কম্পানির খারাপ অবস্থার করাণে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের সম্পদের মান খারাপ হতে থাকে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই ব্যাংক খুবই নিম্নমানের দুর্বল বন্ড পোর্টফলিওতে প্রায় ৯১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার বিপরীতে সম্ভাব্য ক্ষতির (আনরিয়ালাইজড লস) পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। সব কিছু মিলিয়ে আমেরিকার মধ্যম শ্রেণির সুপ্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে যায়।

আর এই খবরে ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এই বিনিয়োগ থেকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক ধরনের প্যানিক সেল শুরু হয়। ফলে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের শেয়ারে ব্যাপক দরপতন ঘটে এবং এই ব্যাংকের বাজার মূলধন ৪৪ বিলিয়ন ডলার থেকে হ্রাস পেয়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার নেমে আসে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সংঘটিত অর্থনৈতিক মন্দার ধকল কাটিয়ে ওঠার পর থেকে আমেরিকার অর্থনীতির মন্দার সম্মুখীন না হওয়া এবং সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে এই প্রযুক্তি খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান। দেড় যুগ ধরে আমেরিকায় একটি ধারণা একরকম প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে আছে যে আমেরিকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে পাঁচটি বৃহৎ প্রযুক্তি কম্পানি এবং সেগুলো হচ্ছে—১. ফেসবুক, ২. অ্যামাজান, ৩. অ্যাপল, ৪. নেটফ্লিক্স এবং ৫. গুগল।

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এই বৃহৎ প্রযুক্তি কম্পানিগুলো খুব খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে, যার নেতিবাচক প্রভাবে এরই মধ্যে তাদের শেয়ারমূল্য পড়তে শুরু করেছে। অ্যাপলের শেয়ারমূল্য হ্রাস পেয়েছে ২৫ শতাংশ, ফেসবুকের প্যারেন্ট কম্পানি মেটা প্ল্যাটফরমের শেয়ারমূল্য হ্রাস পেয়েছে ৬৫ শতাংশ এবং অ্যামাজানের শেয়ারমূল্য হ্রাস পেয়েছে ৪৯ শতাংশ।

সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে।