ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

যমুনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ডিমওয়ালা ইলিশ; কর্তৃপক্ষের খবর নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৯০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা অধ্যুষিত জালালপুর, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা এ ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনা নদীতে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে। কর্তৃপক্ষের তদারকীর অভাবে শতশত নৌকা নিয়ে জেলেরা নির্বিচারে নির্বিঘেœ ইলিশ নিধন অব্যাহত রেখেছে। ফলে ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ শাহজাদপুরে ভেস্তে যেতে বসেছে।
জানা গেছে, প্রতিবারের ন্যায় ইলিশের বংশ বিস্তারে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এ সময় ইলিশ মাছ আহরণ, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু, উপজেলার জালালপুর, কৈজুরি, গালা ও সোনাতনী ইউনিয়নের যমুনা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রায় ১২’শ জেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে দিনেরাতে সমান তালে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন করে যাচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকীর অভাবে শাহজাদপুরের যমুনা নদীতে কোনভাবেই ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানায়, ‘শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদী অধ্যুষিত জালালপুর, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা এ ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শতশত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কারেন্ট জাল দিয়ে দিনে রাতে ইলিশ মাছ শিকার করছে জেলেরা। অপরিচিত নৌকা দেখলেই জাল ও দড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর আবার অবস্থা বুঝে ফেরত এসে আবারও নদীতে কারেন্ট জাল ফেলছে জেলেরা। প্রতিদিন নৌকা প্রতি ৩০ কেজি থেকে দেড়-দুইমন ডিমওয়ালা ইলিশ ধরে কিছু নদীতেই আবার কিছু স্থানীয় হাটবাজারে গোপনে ৩’শ টাকা থেকে ৭’শ টাকায় কেজিপ্রতি ইলিশ বিক্রি করছে তারা।
শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল সোনতনী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি লুৎফর রহমানসহ বেশ কয়েজকজন এলাকাবাসী আরও জানান, উপজেলার যমুনা অধ্যুষিত বাসুরিয়া, দৈকান্দি, বানিয়া সিন্ধুলি, বাঙ্গালা, চামতারা, ছোট চামতারা, হাটপাচিল, বড় চামতারা, মাকড়া, মৌকুড়ি, শিমুলকান্দি, বিনোটিয়া, তারুটিয়া, গুপিয়াখালীর চর, কৈজুরীর চর, জামিরতা ভাটপাড়া, জগতলা, কাশিপুর, বর্ণিয়া, র্ধীতপুর, বারোপাখিয়া এলাকায় সংশ্লিষ্টদের তদারকীর অবাধে জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ মাছ শিকার করছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের হাটপাচিল, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের যমুনা নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা যায় কিছুদূর পর পরই শতশত নৌকা নিয়ে জেলেরা ইলিশ মাছ শিকার করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘স্যার, গরীব মানুষ আমরা। যমুনার ভাঙুনি মানুষ, কি আর করমু আমরা। হাতে কোন কাজকামও নাই। দু’চারটা মাছ ধইর‌্যাই তা বেইচ্যা কোনমতে ছাওয়াল পাওয়াল নিয়্যা কুনুমতে দিন কাটাইতেছি।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগীর মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

যমুনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ডিমওয়ালা ইলিশ; কর্তৃপক্ষের খবর নেই

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা অধ্যুষিত জালালপুর, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা এ ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনা নদীতে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে। কর্তৃপক্ষের তদারকীর অভাবে শতশত নৌকা নিয়ে জেলেরা নির্বিচারে নির্বিঘেœ ইলিশ নিধন অব্যাহত রেখেছে। ফলে ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ শাহজাদপুরে ভেস্তে যেতে বসেছে।
জানা গেছে, প্রতিবারের ন্যায় ইলিশের বংশ বিস্তারে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এ সময় ইলিশ মাছ আহরণ, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু, উপজেলার জালালপুর, কৈজুরি, গালা ও সোনাতনী ইউনিয়নের যমুনা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রায় ১২’শ জেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে দিনেরাতে সমান তালে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন করে যাচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকীর অভাবে শাহজাদপুরের যমুনা নদীতে কোনভাবেই ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানায়, ‘শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদী অধ্যুষিত জালালপুর, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা এ ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শতশত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কারেন্ট জাল দিয়ে দিনে রাতে ইলিশ মাছ শিকার করছে জেলেরা। অপরিচিত নৌকা দেখলেই জাল ও দড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর আবার অবস্থা বুঝে ফেরত এসে আবারও নদীতে কারেন্ট জাল ফেলছে জেলেরা। প্রতিদিন নৌকা প্রতি ৩০ কেজি থেকে দেড়-দুইমন ডিমওয়ালা ইলিশ ধরে কিছু নদীতেই আবার কিছু স্থানীয় হাটবাজারে গোপনে ৩’শ টাকা থেকে ৭’শ টাকায় কেজিপ্রতি ইলিশ বিক্রি করছে তারা।
শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল সোনতনী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি লুৎফর রহমানসহ বেশ কয়েজকজন এলাকাবাসী আরও জানান, উপজেলার যমুনা অধ্যুষিত বাসুরিয়া, দৈকান্দি, বানিয়া সিন্ধুলি, বাঙ্গালা, চামতারা, ছোট চামতারা, হাটপাচিল, বড় চামতারা, মাকড়া, মৌকুড়ি, শিমুলকান্দি, বিনোটিয়া, তারুটিয়া, গুপিয়াখালীর চর, কৈজুরীর চর, জামিরতা ভাটপাড়া, জগতলা, কাশিপুর, বর্ণিয়া, র্ধীতপুর, বারোপাখিয়া এলাকায় সংশ্লিষ্টদের তদারকীর অবাধে জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ মাছ শিকার করছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের হাটপাচিল, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের যমুনা নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা যায় কিছুদূর পর পরই শতশত নৌকা নিয়ে জেলেরা ইলিশ মাছ শিকার করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘স্যার, গরীব মানুষ আমরা। যমুনার ভাঙুনি মানুষ, কি আর করমু আমরা। হাতে কোন কাজকামও নাই। দু’চারটা মাছ ধইর‌্যাই তা বেইচ্যা কোনমতে ছাওয়াল পাওয়াল নিয়্যা কুনুমতে দিন কাটাইতেছি।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগীর মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।