বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৬ দিনে ৭৪৫ কোটি ছাড়িয়েছে ‘পাঠান’ পুলের ধারে বসে চুরুট ধরালেন সুস্মিতা দেশে চার হাজার ৬৩৩টি ইটভাটা অবৈধ: সংসদে পরিবেশমন্ত্রী নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে : মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী চার্লসের সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়ে কুমিল্লার জয় মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি : মেয়র আতিক দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে : রাষ্ট্রপতি আকাশে কেবিন ক্রুকে নারী যাত্রীর থাপ্পড় সাহস থাকলে দেশে আসুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পকেটে আহলে হাদিসের দুই কোটি ভোট : সংসদে এমপি রহমতুল্লাহ প্ররোচনায় পড়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা : সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারামুক্ত যুবদল নেতা নয়ন ‘ভারতীয় ছবি রিলিজের পক্ষে সবাই থাকলেও আমি নেই’-রাউজানে অভিনেতা রুবেল ইসলামপুরে দৈনিক গণমুক্তি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত অবসরে গেলেন সকলের প্রিয় ফজলু স্যার

যমুনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ডিমওয়ালা ইলিশ; কর্তৃপক্ষের খবর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা অধ্যুষিত জালালপুর, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা এ ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনা নদীতে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে। কর্তৃপক্ষের তদারকীর অভাবে শতশত নৌকা নিয়ে জেলেরা নির্বিচারে নির্বিঘেœ ইলিশ নিধন অব্যাহত রেখেছে। ফলে ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ শাহজাদপুরে ভেস্তে যেতে বসেছে।
জানা গেছে, প্রতিবারের ন্যায় ইলিশের বংশ বিস্তারে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এ সময় ইলিশ মাছ আহরণ, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু, উপজেলার জালালপুর, কৈজুরি, গালা ও সোনাতনী ইউনিয়নের যমুনা নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রায় ১২’শ জেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে দিনেরাতে সমান তালে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন করে যাচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকীর অভাবে শাহজাদপুরের যমুনা নদীতে কোনভাবেই ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানায়, ‘শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদী অধ্যুষিত জালালপুর, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা এ ৪ ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শতশত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কারেন্ট জাল দিয়ে দিনে রাতে ইলিশ মাছ শিকার করছে জেলেরা। অপরিচিত নৌকা দেখলেই জাল ও দড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর আবার অবস্থা বুঝে ফেরত এসে আবারও নদীতে কারেন্ট জাল ফেলছে জেলেরা। প্রতিদিন নৌকা প্রতি ৩০ কেজি থেকে দেড়-দুইমন ডিমওয়ালা ইলিশ ধরে কিছু নদীতেই আবার কিছু স্থানীয় হাটবাজারে গোপনে ৩’শ টাকা থেকে ৭’শ টাকায় কেজিপ্রতি ইলিশ বিক্রি করছে তারা।
শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল সোনতনী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি লুৎফর রহমানসহ বেশ কয়েজকজন এলাকাবাসী আরও জানান, উপজেলার যমুনা অধ্যুষিত বাসুরিয়া, দৈকান্দি, বানিয়া সিন্ধুলি, বাঙ্গালা, চামতারা, ছোট চামতারা, হাটপাচিল, বড় চামতারা, মাকড়া, মৌকুড়ি, শিমুলকান্দি, বিনোটিয়া, তারুটিয়া, গুপিয়াখালীর চর, কৈজুরীর চর, জামিরতা ভাটপাড়া, জগতলা, কাশিপুর, বর্ণিয়া, র্ধীতপুর, বারোপাখিয়া এলাকায় সংশ্লিষ্টদের তদারকীর অবাধে জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ মাছ শিকার করছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের হাটপাচিল, কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের যমুনা নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা যায় কিছুদূর পর পরই শতশত নৌকা নিয়ে জেলেরা ইলিশ মাছ শিকার করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘স্যার, গরীব মানুষ আমরা। যমুনার ভাঙুনি মানুষ, কি আর করমু আমরা। হাতে কোন কাজকামও নাই। দু’চারটা মাছ ধইর‌্যাই তা বেইচ্যা কোনমতে ছাওয়াল পাওয়াল নিয়্যা কুনুমতে দিন কাটাইতেছি।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগীর মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *