ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে আবারও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ। একাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে শপথ নেয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিশ্ববাসীকে নতুন বার্তা দেয় বাংলাদেশ। এই সরকারের নেতৃত্বেই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আসে স্বাধীনতা।

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে গণহত্যা চালায় পাকিস্তানী বাহিনী। এ প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর ১০ এপ্রিল সরকার গঠন এবং ১৭ এপ্রিল সেই সরকার শপথগ্রহণ করে, যা ভাবতেও পারেনি পাকিস্তানিরা।

১৭ এপ্রিল ছিল শনিবার। মেহেরপুরে ১১টা ১০ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মন্ত্রীরা। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের চিফ হুইপ অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করেন মুজিবনগর। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মেহেরপুর মহকুমার তৎকালীন প্রশাসক তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

১২টি মন্ত্রণালয় নিয়ে গঠিত সরকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। কর্নেল এম এ জি ওসমানী পান সেনাপ্রধানের দায়িত্ব। শপথের পর পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের গার্ড অব অনার দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি আদায়ে এ সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এদের তৎপরতায় পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ১২:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে আবারও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ। একাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে শপথ নেয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিশ্ববাসীকে নতুন বার্তা দেয় বাংলাদেশ। এই সরকারের নেতৃত্বেই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আসে স্বাধীনতা।

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে গণহত্যা চালায় পাকিস্তানী বাহিনী। এ প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর ১০ এপ্রিল সরকার গঠন এবং ১৭ এপ্রিল সেই সরকার শপথগ্রহণ করে, যা ভাবতেও পারেনি পাকিস্তানিরা।

১৭ এপ্রিল ছিল শনিবার। মেহেরপুরে ১১টা ১০ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মন্ত্রীরা। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের চিফ হুইপ অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করেন মুজিবনগর। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মেহেরপুর মহকুমার তৎকালীন প্রশাসক তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

১২টি মন্ত্রণালয় নিয়ে গঠিত সরকারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। কর্নেল এম এ জি ওসমানী পান সেনাপ্রধানের দায়িত্ব। শপথের পর পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের গার্ড অব অনার দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি আদায়ে এ সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এদের তৎপরতায় পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।