ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মালি থেকে সব সেনা সরিয়ে নিল জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৪৮২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক দশক পর মালি থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সব সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হলো। দেশটিতে এখনো ক্রমবর্ধমান সংকট থাকলেও জান্তা সরকার মিশনের উপস্থিতি চাইছে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সশস্ত্র বিদ্রোহীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালে দেশটিতে শান্তিরক্ষী মোতায়েন করে জাতিসংঘ মিশন। এই এক দশকে ৩১০ শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধান এল-ঘাসিম ওয়ান জানান, তারা অনেক কিছু করেছে তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। একটি রেকর্ড করা বিবৃতিতে তিনি বলেন , আমাদের যা করতে আদেশ করা হয়েছিল এবং আমরা যা করেছি তার মধ্যে ব্যবধান ছিল।

গত বছর মালির নিয়ন্ত্রণ নেয় সামরিক নেতৃত্ব। এরপর দেশটি থেকে ফ্রান্স তার সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। মালি একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। ইতিমধ্যে মালির সামরিক নেতৃত্ব দেশটিতে রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধাদের নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াগনারের এক হাজারের মতো যোদ্ধা রয়েছে মালিতে।

এর আগে মালি সরকার জানায়, জাতিসংঘের ১২ হাজার শান্তিরক্ষীকে তাদের দেশ ছাড়তে হবে। গত কয়েক মাস ধরেই ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নিচ্ছিল জাতিসংঘ। কথা ছিল, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে। মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদোলায়ে দিওপ বলেছিলেন, মালিতে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাতিসংঘের বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন মালির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তুলেছে, যা শান্তি, ঐক্য ও দেশের পুনর্গঠনের জন্য বাধা।’

২০১৩ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের মধ্যে হাত মেলায়। তারা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট মালির উত্তরাঞ্চলের দখল নিয়ে নেয়। সেখানে তারা পৃথক এক দেশ গঠন করতে চেয়েছিল। এ অবস্থায় জাতিসংঘ দেশটিতে শান্তি রক্ষা মিশনের যাত্রা শুরু করে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালির উত্তরাঞ্চলীয় তিমবুক্তু অঞ্চলে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্পটি সময় শেষ হওয়ার আগেই গত শুক্রবার সরকারের কাছে হস্তান্তর করে জাতিসংঘ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মালি থেকে সব সেনা সরিয়ে নিল জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০১:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

এক দশক পর মালি থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সব সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হলো। দেশটিতে এখনো ক্রমবর্ধমান সংকট থাকলেও জান্তা সরকার মিশনের উপস্থিতি চাইছে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সশস্ত্র বিদ্রোহীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালে দেশটিতে শান্তিরক্ষী মোতায়েন করে জাতিসংঘ মিশন। এই এক দশকে ৩১০ শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধান এল-ঘাসিম ওয়ান জানান, তারা অনেক কিছু করেছে তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। একটি রেকর্ড করা বিবৃতিতে তিনি বলেন , আমাদের যা করতে আদেশ করা হয়েছিল এবং আমরা যা করেছি তার মধ্যে ব্যবধান ছিল।

গত বছর মালির নিয়ন্ত্রণ নেয় সামরিক নেতৃত্ব। এরপর দেশটি থেকে ফ্রান্স তার সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। মালি একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। ইতিমধ্যে মালির সামরিক নেতৃত্ব দেশটিতে রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধাদের নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াগনারের এক হাজারের মতো যোদ্ধা রয়েছে মালিতে।

এর আগে মালি সরকার জানায়, জাতিসংঘের ১২ হাজার শান্তিরক্ষীকে তাদের দেশ ছাড়তে হবে। গত কয়েক মাস ধরেই ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নিচ্ছিল জাতিসংঘ। কথা ছিল, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে। মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদোলায়ে দিওপ বলেছিলেন, মালিতে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাতিসংঘের বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন মালির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তুলেছে, যা শান্তি, ঐক্য ও দেশের পুনর্গঠনের জন্য বাধা।’

২০১৩ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের মধ্যে হাত মেলায়। তারা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট মালির উত্তরাঞ্চলের দখল নিয়ে নেয়। সেখানে তারা পৃথক এক দেশ গঠন করতে চেয়েছিল। এ অবস্থায় জাতিসংঘ দেশটিতে শান্তি রক্ষা মিশনের যাত্রা শুরু করে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মালির উত্তরাঞ্চলীয় তিমবুক্তু অঞ্চলে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্পটি সময় শেষ হওয়ার আগেই গত শুক্রবার সরকারের কাছে হস্তান্তর করে জাতিসংঘ।