ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মায়ের লাশ কবরে নামাতে না পারা অমানবিক: গয়েশ্বর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি :

হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ির কারণে গাজীপুরে বিএনপি নেতা আলী আজমের মায়ের লাশ কবরে নামাতে না পারাকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গায়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা আলী আজমের বাড়িতে আসেন। গ্রেফতার বিএনপির নেতা আলী আজমের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং তার স্ত্রীর হাতে নগদ অর্থ অনুদান তুলে দেন।

মায়ের জানাজার সময়ও ডান্ডাবেড়ি পরানোর তীব্র নিন্দা ও গায়েবি মামলায় জেলে থাকা ওই বিএনপি নেতার মুক্তি দাবি করেন গয়েশ্বর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গায়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মো. আলী আজম একজন সাহসী রাজনৈতিক কর্মী। যে মামলায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে সেই মামলার একহাজারভুক্ত আসামি নন তিনি। সবচেয়ে করুন দৃশ্য হচ্ছে আলী আজমের মা মারা গেলো এরপর প্যারোলে সে জানাজায় আসলেন কিন্তু মায়ের কবরে নামতে পারলেন না। সে চোর কিংবা ডাকাতও না। তবুও ডান্ডাবেড়ি পরেই মায়ের জানাজা পড়ালেন। এতে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।

গায়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, আমরা অবৈধ পার্লামেন্ট দ্রুত সময়ের মধ্যে বিলুপ্তির দাবি করছি। সুষ্ঠু পরিবেশে অবাধ নির্বাচন করার জন্য সরকারের কাছে আহবান করেছি। এই সরকার একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। যা নিয়ে দেশ-বিদেশে নিন্দা হচ্ছে।

আলী আজমের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার লিপি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমরা। তবে আমার স্বামী নির্দোষ। তার নামে কোনো মামলা ছিল না। আমার স্বামীর শোকে শাশুড়ি মা মারা গেছেন। সবচেয়ে কষ্ট লেগেছে সে বাড়িতে আসার পরেও কথা বলতে পারেনি। মায়ের জানাজায় আসার পরও তার ডান্ডাবেড়ি এবং হাতকড়া খুঁলে দেওয়া হয়নি এটা আমাদের ও এলাকাবাসীকে কষ্ট দিয়েছে। জানাজা শেষে তিনি পানি খেতে চেয়েছিলেন কিন্তু সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই নির্দোষ মানুষটির মুক্তি চাই।

গত ২০ ডিসেম্বর ডান্ডাবেড়ি পরে মায়ের জানাজায় অংশ নেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বিএনপি নেতা আলী আজম খান। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। আলী আজম চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গত ২৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ২ ডিসেম্বর গ্রেফতার হন।

এসময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সায়েদুল আলম, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. সালাম আজাদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমদ, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান, কালিকাপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মায়ের লাশ কবরে নামাতে না পারা অমানবিক: গয়েশ্বর

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২২

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি :

হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ির কারণে গাজীপুরে বিএনপি নেতা আলী আজমের মায়ের লাশ কবরে নামাতে না পারাকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গায়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা আলী আজমের বাড়িতে আসেন। গ্রেফতার বিএনপির নেতা আলী আজমের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং তার স্ত্রীর হাতে নগদ অর্থ অনুদান তুলে দেন।

মায়ের জানাজার সময়ও ডান্ডাবেড়ি পরানোর তীব্র নিন্দা ও গায়েবি মামলায় জেলে থাকা ওই বিএনপি নেতার মুক্তি দাবি করেন গয়েশ্বর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গায়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মো. আলী আজম একজন সাহসী রাজনৈতিক কর্মী। যে মামলায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে সেই মামলার একহাজারভুক্ত আসামি নন তিনি। সবচেয়ে করুন দৃশ্য হচ্ছে আলী আজমের মা মারা গেলো এরপর প্যারোলে সে জানাজায় আসলেন কিন্তু মায়ের কবরে নামতে পারলেন না। সে চোর কিংবা ডাকাতও না। তবুও ডান্ডাবেড়ি পরেই মায়ের জানাজা পড়ালেন। এতে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।

গায়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, আমরা অবৈধ পার্লামেন্ট দ্রুত সময়ের মধ্যে বিলুপ্তির দাবি করছি। সুষ্ঠু পরিবেশে অবাধ নির্বাচন করার জন্য সরকারের কাছে আহবান করেছি। এই সরকার একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। যা নিয়ে দেশ-বিদেশে নিন্দা হচ্ছে।

আলী আজমের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার লিপি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমরা। তবে আমার স্বামী নির্দোষ। তার নামে কোনো মামলা ছিল না। আমার স্বামীর শোকে শাশুড়ি মা মারা গেছেন। সবচেয়ে কষ্ট লেগেছে সে বাড়িতে আসার পরেও কথা বলতে পারেনি। মায়ের জানাজায় আসার পরও তার ডান্ডাবেড়ি এবং হাতকড়া খুঁলে দেওয়া হয়নি এটা আমাদের ও এলাকাবাসীকে কষ্ট দিয়েছে। জানাজা শেষে তিনি পানি খেতে চেয়েছিলেন কিন্তু সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই নির্দোষ মানুষটির মুক্তি চাই।

গত ২০ ডিসেম্বর ডান্ডাবেড়ি পরে মায়ের জানাজায় অংশ নেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বিএনপি নেতা আলী আজম খান। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। আলী আজম চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গত ২৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ২ ডিসেম্বর গ্রেফতার হন।

এসময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সায়েদুল আলম, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. সালাম আজাদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমদ, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান, কালিকাপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ প্রমুখ।