ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মাধকাসক্ত স্বামী এনামুল করিমের নির্যাতনের শিকার রোমানা বিচারের দাবীতে ঘুরছে

কাজী মকবুল, গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪
  • / ৪৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা খিলক্ষেত মধ্যপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল গনির কন্যা রোমানা আক্তারের সাথে বিগত ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি টাংগাইল জেলার আকুরঠাকুর পাড়া নিবাসী মৃতঃ সিরাজুল হকের পুত্র মোঃ এনামুল করিম তালুকদারের সহিত মুসলিম শরা-শরিয়ত মোতাবেক রেজিষ্ট্রীকৃত কাবিননামা মূলে বিয়ে হয়।

তবে এটি রুমানা’র ২য় এবং এনামুলের ৪র্থ বিয়ে বলে জানা যায়। রোমানা আক্তারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তিনি তার স্বামীর কথা-বার্তা আচার-আচরন এবং কর্মকান্ডে বুঝতে পারেন তার স্বামী একজন নারী লোভী, মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী।

এনামুল করিম রোমানার আগেও আরো তিনটি বিয়ে করেছে বলে জানতে পারেন তিনি। স্বামীকে নেশা ও মাদক ব্যবসা থেকে বিরত রাখতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রানপন চেষ্টা করেন রোমানা। কিন্তু এতে তার স্বামী ক্ষিপ্ত ও উগ্র হয়ে রোমানাকে প্রতিনিয়ত যৌতুকের জন্য শারীরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। শারীরিক নির্যাতনের কারণে রোমানার গর্বের সন্তানও নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

সংসার ও দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি রক্ষার্থে রোমানা তার পিতা-মাতা ও তার নিজস্ব সঞ্চয় থেকে বিভিন্নভাবে স্বামীর নেশা করার অর্থের যোগান এবং স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের জন্য টংগী পূর্ব থানাস্থ বৌ-বাজার টপটেন টাওয়ারে অবস্থিত ফ্ল্যাটের ভাড়া ও সংসার খরচ চালাতে থাকে। স্বামী এনামুল করিম লাভ ও লোভের বশঃবর্তী হয়ে স্ত্রী রোমানা আক্তারকে যৌতুকের টাকার জন্য নিয়মিত দৈহিক নির্যাতন করতে থাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিতা মামলা করার জন্য টংগী পূর্ব থানায় যায়।

থানায় মামলা না নেওয়ায় গাজীপুর জেলার বিজ্ঞ জুডিসিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি, আর, মামলা নং- ৬৩০/২০২০ দায়ের করায় এনামুল করিম গ্রেফতার হয়ে ১৯ (উনিশ) দিন জেল-হাজতে থাকে। পরে বিজ্ঞ আদালত স্ত্রী তথা বাদী রোমানা আক্তারের জিম্মায় মাদকের চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে আসামী এনামুল করিমকে জামিন দেওয়া হয়।

পরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাকালীন সময়ে স্ত্রীর অগোচরে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে পলিয়ে যায় স্বামী। পরবর্তীতে এনামুল করিমের নিকট আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে এবং টংগীস্থ টপটেন টাওয়ারের বাসায় হামলা চালিয়ে রোমানাকে নির্যাতন করে, জিম্মি করে টাকা-পয়সা লুন্ঠন করে।

এ বিষয়ে টংগী পূর্ব থানাকে অবহিত করলে মামলা না নেওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করা হয়। শুধু তাই নয়, সি, আর, মামলার বিভিন্ন তদন্ত কাজে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাগণ তাদের কর্তব্য কাজে অবহেলা ও হয়রানী করে বলে বাদী রোমানা জানায়।

এই হয়রানীর বিষয়ে ভুক্তভোগী রোমানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইজিপিকে অবহিত করার পরও কোন এক অশুভ চক্রান্তের কারণে রোমানা আক্তারের আর্তনাদ কেউই শুনছেন না এবং বিচারের বানি তার এখন নিবৃত্তে কাঁদছে।

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

মাধকাসক্ত স্বামী এনামুল করিমের নির্যাতনের শিকার রোমানা বিচারের দাবীতে ঘুরছে

আপডেট সময় : ১১:৫৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

ঢাকা খিলক্ষেত মধ্যপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল গনির কন্যা রোমানা আক্তারের সাথে বিগত ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি টাংগাইল জেলার আকুরঠাকুর পাড়া নিবাসী মৃতঃ সিরাজুল হকের পুত্র মোঃ এনামুল করিম তালুকদারের সহিত মুসলিম শরা-শরিয়ত মোতাবেক রেজিষ্ট্রীকৃত কাবিননামা মূলে বিয়ে হয়।

তবে এটি রুমানা’র ২য় এবং এনামুলের ৪র্থ বিয়ে বলে জানা যায়। রোমানা আক্তারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তিনি তার স্বামীর কথা-বার্তা আচার-আচরন এবং কর্মকান্ডে বুঝতে পারেন তার স্বামী একজন নারী লোভী, মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী।

এনামুল করিম রোমানার আগেও আরো তিনটি বিয়ে করেছে বলে জানতে পারেন তিনি। স্বামীকে নেশা ও মাদক ব্যবসা থেকে বিরত রাখতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রানপন চেষ্টা করেন রোমানা। কিন্তু এতে তার স্বামী ক্ষিপ্ত ও উগ্র হয়ে রোমানাকে প্রতিনিয়ত যৌতুকের জন্য শারীরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। শারীরিক নির্যাতনের কারণে রোমানার গর্বের সন্তানও নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

সংসার ও দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি রক্ষার্থে রোমানা তার পিতা-মাতা ও তার নিজস্ব সঞ্চয় থেকে বিভিন্নভাবে স্বামীর নেশা করার অর্থের যোগান এবং স্বামী-স্ত্রীর বসবাসের জন্য টংগী পূর্ব থানাস্থ বৌ-বাজার টপটেন টাওয়ারে অবস্থিত ফ্ল্যাটের ভাড়া ও সংসার খরচ চালাতে থাকে। স্বামী এনামুল করিম লাভ ও লোভের বশঃবর্তী হয়ে স্ত্রী রোমানা আক্তারকে যৌতুকের টাকার জন্য নিয়মিত দৈহিক নির্যাতন করতে থাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিতা মামলা করার জন্য টংগী পূর্ব থানায় যায়।

থানায় মামলা না নেওয়ায় গাজীপুর জেলার বিজ্ঞ জুডিসিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি, আর, মামলা নং- ৬৩০/২০২০ দায়ের করায় এনামুল করিম গ্রেফতার হয়ে ১৯ (উনিশ) দিন জেল-হাজতে থাকে। পরে বিজ্ঞ আদালত স্ত্রী তথা বাদী রোমানা আক্তারের জিম্মায় মাদকের চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে আসামী এনামুল করিমকে জামিন দেওয়া হয়।

পরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাকালীন সময়ে স্ত্রীর অগোচরে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে পলিয়ে যায় স্বামী। পরবর্তীতে এনামুল করিমের নিকট আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে এবং টংগীস্থ টপটেন টাওয়ারের বাসায় হামলা চালিয়ে রোমানাকে নির্যাতন করে, জিম্মি করে টাকা-পয়সা লুন্ঠন করে।

এ বিষয়ে টংগী পূর্ব থানাকে অবহিত করলে মামলা না নেওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করা হয়। শুধু তাই নয়, সি, আর, মামলার বিভিন্ন তদন্ত কাজে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাগণ তাদের কর্তব্য কাজে অবহেলা ও হয়রানী করে বলে বাদী রোমানা জানায়।

এই হয়রানীর বিষয়ে ভুক্তভোগী রোমানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইজিপিকে অবহিত করার পরও কোন এক অশুভ চক্রান্তের কারণে রোমানা আক্তারের আর্তনাদ কেউই শুনছেন না এবং বিচারের বানি তার এখন নিবৃত্তে কাঁদছে।

বাখ//আর