ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মাত্র একজন কর্মচারী দ্বারা চলছে নাঙ্গলকোট উপজেলা মৎস্য অফিস

কাজী মো. ফখরুল ইসলাম, নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:২২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাত্র একজন কর্মচারী দ্বারা চলছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা মৎস্য অফিস। জনবল সংকটের কারণে ৫ লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ উপজেলার মৎস্যচাষী ও এ পেশায় জড়িত ব্যক্তিগণ কাঙ্খিত বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন চাষীগণ।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছর থেকে উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ক্ষেত্র সহকারি এবং অফিস সহায়কের পদ শূণ্য রয়েছে। ১লা ফেব্রুয়ারি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া অবসরজনিত ছুটিতে চলে যায়। লাকসাম উপজেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শওকত আলীকে নাঙ্গলকোট উপজেলা মৎস্য অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি মাঝে মধ্যে এসে শুধু গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল কাজকর্ম করে চলে যায়। বর্তমানে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নুরুল আমিন একা অফিসটির দেখভাল করছেন। নুরুল আমিনকে কোন কাজে বাহিরে যেতে হলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিতে হয়। এতে মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নাঙ্গলকোট উপজেলার মৎস্য চাষীরা মৎস্য অফিসে এসে কোন ধরণের সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।

জানা যায়, উপজেলায় ছোট বড় সব মিলে প্রায় তিনশটি মৎস্য খামার রয়েছে। তাছাড়া ২০টি মৎস্য হ্যচারী এবং মৎস্য খাদ্য দোকান রয়েছে অর্ধশতাধিক। নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১হাজার ৮শ ১২ জন। এসব মৎস্য খামারি, হ্যাচারী মালিক এবং জেলেরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসে এসে বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ ও সেবা গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

তাছাড়া মৎস্য খামারিরা মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের আওতায় মৎস্য চাষের কারিগরি জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং মৎস্য চাষের উপর পরামর্শ গ্রহণ করেন। কিন্তু উপজেলা মৎস্য অফিসটি কর্মকর্তা-কর্মচারী শূণ্য থাকায় মৎস্য চাষী ও বিভিন্ন ব্যক্তিগণ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ওষুধ দোকানদার বা ঔষধ কোম্পানির ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাছের চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ব্যবসায় লোকসান গুনছেন। ফলে চাষীরা মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

মৎস্য চাষী আবুল কাশেম গাফুরী বলেন, চাষীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মাছের রোগ বালাই দমনে মৎস্য কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগীতা প্রয়োজন। কিন্তু এ উপজেলা মৎস্য অফিসে কোন লোকজন না থাকায় চাষীরা কোন ধরণের সহযোগীতা পাচ্ছে না। ফলে মৎস্য চাষে খ্যাত নাঙ্গলকোটের মাছ চাষীরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, ৪১ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ একজনকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শ্রীঘ্রই তিনি যোগদান করবেন। এছাড়া একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে সম্পন্ন হলে অন্যান্য শূন্য পদগুলোও পূরণ করা হবে।

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

মাত্র একজন কর্মচারী দ্বারা চলছে নাঙ্গলকোট উপজেলা মৎস্য অফিস

আপডেট সময় : ০৩:২২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

মাত্র একজন কর্মচারী দ্বারা চলছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা মৎস্য অফিস। জনবল সংকটের কারণে ৫ লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ উপজেলার মৎস্যচাষী ও এ পেশায় জড়িত ব্যক্তিগণ কাঙ্খিত বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন চাষীগণ।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছর থেকে উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ক্ষেত্র সহকারি এবং অফিস সহায়কের পদ শূণ্য রয়েছে। ১লা ফেব্রুয়ারি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া অবসরজনিত ছুটিতে চলে যায়। লাকসাম উপজেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শওকত আলীকে নাঙ্গলকোট উপজেলা মৎস্য অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি মাঝে মধ্যে এসে শুধু গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল কাজকর্ম করে চলে যায়। বর্তমানে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নুরুল আমিন একা অফিসটির দেখভাল করছেন। নুরুল আমিনকে কোন কাজে বাহিরে যেতে হলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিতে হয়। এতে মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নাঙ্গলকোট উপজেলার মৎস্য চাষীরা মৎস্য অফিসে এসে কোন ধরণের সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।

জানা যায়, উপজেলায় ছোট বড় সব মিলে প্রায় তিনশটি মৎস্য খামার রয়েছে। তাছাড়া ২০টি মৎস্য হ্যচারী এবং মৎস্য খাদ্য দোকান রয়েছে অর্ধশতাধিক। নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১হাজার ৮শ ১২ জন। এসব মৎস্য খামারি, হ্যাচারী মালিক এবং জেলেরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসে এসে বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ ও সেবা গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

তাছাড়া মৎস্য খামারিরা মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের আওতায় মৎস্য চাষের কারিগরি জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং মৎস্য চাষের উপর পরামর্শ গ্রহণ করেন। কিন্তু উপজেলা মৎস্য অফিসটি কর্মকর্তা-কর্মচারী শূণ্য থাকায় মৎস্য চাষী ও বিভিন্ন ব্যক্তিগণ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ওষুধ দোকানদার বা ঔষধ কোম্পানির ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাছের চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ব্যবসায় লোকসান গুনছেন। ফলে চাষীরা মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

মৎস্য চাষী আবুল কাশেম গাফুরী বলেন, চাষীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মাছের রোগ বালাই দমনে মৎস্য কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগীতা প্রয়োজন। কিন্তু এ উপজেলা মৎস্য অফিসে কোন লোকজন না থাকায় চাষীরা কোন ধরণের সহযোগীতা পাচ্ছে না। ফলে মৎস্য চাষে খ্যাত নাঙ্গলকোটের মাছ চাষীরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, ৪১ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ একজনকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শ্রীঘ্রই তিনি যোগদান করবেন। এছাড়া একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে সম্পন্ন হলে অন্যান্য শূন্য পদগুলোও পূরণ করা হবে।

বাখ//আর