ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে আছে সোনালী স্বপ্ন, পাঁকা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত  কৃষক!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
শাহজাদপুর উপজেলা অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে তুলনামূলক নীচু এলাকা। ফলে স্বাভাবিক বর্ষা হলেই নদীর উপচে ওঠা জলে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ ফসলী মাঠ। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এ উপজেলাতে বারবার আমনের মৌসুম এসে ঘুরে গেলেও কৃষকের হাত গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না। তবে এ বছর তুলনামূলক বর্ষার পানি কম থাকায় চিত্র পাল্টে গেছে  মাঠের। আগের বছরগুলোতে যে জমিতে এসময় লিকলিক করতো রবি শষ্যের থকথকে সবুজে। সে মাঠেই ঝিলিক দিচ্ছে পাঁকা ধানের সোনালী স্বপ্ন। মূলত আমাদের দেশে ধান উৎপাদনের দ্বিতীয় বৃহত্তর মৌসুম হলো আমন মৌসুম। আর এই মৌসুমে বসে নেই শাহজাদপুরের কৃষকরা।  মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সোনালী রংয়ের পাঁকা ধান কাটতে শুরু করেছে স্থানীয় কৃষকরা। মুঠোয় মুঠোয় গুছিয়ে আনছেন ছিটানো স্বপ্ন। আর এই মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে উপচে পড়ছে সোনালী হাসির ঝিলিক।
একদিকে বর্ষার পানিতেই আমন চাষ হওয়া আলাদা করে সেচ খরচ লাগেনা অপরদিকে রাসায়নিক সারের পরিমাণও একেবারেই কম লাগে। আর এ বছর বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হওয়ায়, রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণও কম থাকায় মাত্র সাড়ে তিন মাসেই ফসল ঘরে তুলতে পারছে কৃষক। এতে করে একদিকে খরচ কম অন্যদিকে ধানের বাজার মূল্য ভালো থাকায় আমন চাষাবাদে ব্যাপক লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। এদিকে নিউজিল্যান্ড খ্যাত শাহজাদপুরে গোখাদ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায়  আমন ধানের খর কৃষকদের অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে শাহজাদপুরে আমন চাষে ব্যপক আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। আগামী মৌসুমে পরিবেশ অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শাহজাদপুরে প্রায় ২২০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এ উপজেলা তুলনা মূলকভাবে নীচু হওয়ায় আমনের আবাদ বেশি হয়না। কিন্তু এ বছর বন্যা কম হওয়ায় উপজেলার কৈজুরি, জালালপুর, খুকনীর মত নিচু এলাকাতেও আমনের আবাদ হয়েছে। এছাড়া গাড়াদহ, নরিনা, হাবিবুল্লাহনগর, পোরজনা সহ প্রায় সব ইউনিয়নেই আমনের আবাদ হয়েছে। আমন মৌসুমে ধানের একটি জনপ্রিয় জাত হলো বিনা ধান-১৭। এ জাতের আমন ধান চষে বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয় ২০-২২ মণ। সাড়ে তিন মাসেই এ ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারে। ফলে ধান কাটার ৫-৭ দিন আগেই রিলে ফসল আকারে সরিষা বোপন করতে পারে কৃষক। আর এ কারণে রিলে ফসল চাষে ঝুঁকছে স্থানীয় আমন চাষীরা!
উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান- অন্যান্য বছরের মত এ বছরও ৩ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। এর মধ্যে ৫০ শতক জমিতে বিনা ধান-১৭ জাতের আমন আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রাসরণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রিলে ফসল আকারে চাষ করেছি। ফলে বোরো আবাদ শুরু হওয়ার আগেই নিশ্চিন্তে সরিষার আবাদ ঘরে তুলতে পারবো। এই পদ্ধতিতে আমন ধান চাষে বিঘা প্রতি প্রায় ১২ হাজার টাকা উৎপাদন ব্যয় ও উৎপাদিত ধান ও খর বিক্রি করে প্রায় ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এতে আমন ধান চাষে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি কৃষকের প্রায় ১৪ হাজার টাকা লাভ হয়। ফলে আমন ধান চাষে কৃষক লাভবান হচ্ছে।
হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ডায়া গ্রামের কৃষক কালাচান জানান- এ এলাকায় সাদা বায়াইল্যা, লাল বায়াইল্য, সাদা আশ্বিনা, লাল আশ্বিনা জাতের স্থানীয় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ জাতের স্থানীয় আমন ধান বিঘাপ্রতি ফলন হয় ১০-১২ মণ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. এহসানুল হক বলেন- আমনের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ ও সার দিয়েছি। আধুনিক জাতের ধানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রদর্শনী দিচ্ছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম জানান, কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে আধুনিক জাতের ধান এবং সার বিতরণ করেছি। আমনের আবাদ বাড়াতে এ এলাকায় প্রধান সমস্যা হলো বন্যা। যদি সবকিছু অনুকূলে থাকে তাহলে এই আধুনিক জাতের মাধ্যমে আমনের আবাদ এই এলাকায় বৃদ্ধি পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে আছে সোনালী স্বপ্ন, পাঁকা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত  কৃষক!

আপডেট সময় : ০৪:০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
শাহজাদপুর উপজেলা অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে তুলনামূলক নীচু এলাকা। ফলে স্বাভাবিক বর্ষা হলেই নদীর উপচে ওঠা জলে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ ফসলী মাঠ। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এ উপজেলাতে বারবার আমনের মৌসুম এসে ঘুরে গেলেও কৃষকের হাত গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না। তবে এ বছর তুলনামূলক বর্ষার পানি কম থাকায় চিত্র পাল্টে গেছে  মাঠের। আগের বছরগুলোতে যে জমিতে এসময় লিকলিক করতো রবি শষ্যের থকথকে সবুজে। সে মাঠেই ঝিলিক দিচ্ছে পাঁকা ধানের সোনালী স্বপ্ন। মূলত আমাদের দেশে ধান উৎপাদনের দ্বিতীয় বৃহত্তর মৌসুম হলো আমন মৌসুম। আর এই মৌসুমে বসে নেই শাহজাদপুরের কৃষকরা।  মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সোনালী রংয়ের পাঁকা ধান কাটতে শুরু করেছে স্থানীয় কৃষকরা। মুঠোয় মুঠোয় গুছিয়ে আনছেন ছিটানো স্বপ্ন। আর এই মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে উপচে পড়ছে সোনালী হাসির ঝিলিক।
একদিকে বর্ষার পানিতেই আমন চাষ হওয়া আলাদা করে সেচ খরচ লাগেনা অপরদিকে রাসায়নিক সারের পরিমাণও একেবারেই কম লাগে। আর এ বছর বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হওয়ায়, রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণও কম থাকায় মাত্র সাড়ে তিন মাসেই ফসল ঘরে তুলতে পারছে কৃষক। এতে করে একদিকে খরচ কম অন্যদিকে ধানের বাজার মূল্য ভালো থাকায় আমন চাষাবাদে ব্যাপক লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। এদিকে নিউজিল্যান্ড খ্যাত শাহজাদপুরে গোখাদ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায়  আমন ধানের খর কৃষকদের অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে শাহজাদপুরে আমন চাষে ব্যপক আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। আগামী মৌসুমে পরিবেশ অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শাহজাদপুরে প্রায় ২২০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এ উপজেলা তুলনা মূলকভাবে নীচু হওয়ায় আমনের আবাদ বেশি হয়না। কিন্তু এ বছর বন্যা কম হওয়ায় উপজেলার কৈজুরি, জালালপুর, খুকনীর মত নিচু এলাকাতেও আমনের আবাদ হয়েছে। এছাড়া গাড়াদহ, নরিনা, হাবিবুল্লাহনগর, পোরজনা সহ প্রায় সব ইউনিয়নেই আমনের আবাদ হয়েছে। আমন মৌসুমে ধানের একটি জনপ্রিয় জাত হলো বিনা ধান-১৭। এ জাতের আমন ধান চষে বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয় ২০-২২ মণ। সাড়ে তিন মাসেই এ ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারে। ফলে ধান কাটার ৫-৭ দিন আগেই রিলে ফসল আকারে সরিষা বোপন করতে পারে কৃষক। আর এ কারণে রিলে ফসল চাষে ঝুঁকছে স্থানীয় আমন চাষীরা!
উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান- অন্যান্য বছরের মত এ বছরও ৩ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। এর মধ্যে ৫০ শতক জমিতে বিনা ধান-১৭ জাতের আমন আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রাসরণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রিলে ফসল আকারে চাষ করেছি। ফলে বোরো আবাদ শুরু হওয়ার আগেই নিশ্চিন্তে সরিষার আবাদ ঘরে তুলতে পারবো। এই পদ্ধতিতে আমন ধান চাষে বিঘা প্রতি প্রায় ১২ হাজার টাকা উৎপাদন ব্যয় ও উৎপাদিত ধান ও খর বিক্রি করে প্রায় ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এতে আমন ধান চাষে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি কৃষকের প্রায় ১৪ হাজার টাকা লাভ হয়। ফলে আমন ধান চাষে কৃষক লাভবান হচ্ছে।
হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ডায়া গ্রামের কৃষক কালাচান জানান- এ এলাকায় সাদা বায়াইল্যা, লাল বায়াইল্য, সাদা আশ্বিনা, লাল আশ্বিনা জাতের স্থানীয় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ জাতের স্থানীয় আমন ধান বিঘাপ্রতি ফলন হয় ১০-১২ মণ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. এহসানুল হক বলেন- আমনের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ ও সার দিয়েছি। আধুনিক জাতের ধানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রদর্শনী দিচ্ছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম জানান, কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে আধুনিক জাতের ধান এবং সার বিতরণ করেছি। আমনের আবাদ বাড়াতে এ এলাকায় প্রধান সমস্যা হলো বন্যা। যদি সবকিছু অনুকূলে থাকে তাহলে এই আধুনিক জাতের মাধ্যমে আমনের আবাদ এই এলাকায় বৃদ্ধি পাবে।