ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মাগুরার শ্রীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক : থানায় মামলা

আশরাফ হোসেন পল্টু ,শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪৯০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চরচৌগাছি গ্রামের মোছাঃ মনিকা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে রবিবার দিনদুপুরে সু-পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে টিপু সুলতান (৩০) নামে এক পাষন্ড স্বামী। ঘাতক টিপু সুলতান দ্বারিয়াপুর নতুনপাড়ার গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের পুত্র্ । নিহত গৃহবধূ মনিকা আক্তারের পিতা মাজেদ শেখ বাদী হয়ে ঘাতক টিপু সুলতানকে প্রধান আসামী করে ৪’জনের নামে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত মনিকার ছোটভাই মামুন শেখ, তার মাতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, তিন বছর আগে লেখাপড়ার সূত্রধরে টিপু সুলতানের সাথে মনিকা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এভাবে প্রেমের সম্পর্কের কারণে গত দুই বছর আগে তারা পালিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

বিয়ের বিষয়টি টিপুর পরিবারের কাছে গোপন রাখা হলেও মনিকার পরিবারসহ চরচৌগাছি গ্রামের সবাই জানতেন । টিপু তার পরিবারের কাছে বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে শশুর বাড়িতে প্রতিনিয়তই যাতায়াত করত এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উভয়ই চলাচল করত।

এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর টিপুর পরিবার বিয়ের বিষয়টি জেনে যায় এবং মনিকাকে ত্যাগ করতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একপর্যায়ে টিপু সুলতার তার পরিবারের চাপে এবং পিতামাতা ও বড়ভাইদের সম্মতিতে একই উপজেলার ঘাসিয়াড়া গ্রামে নাজমীম খাতুন (১৮)কে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে সংসার করতে থাকে। আর মনিকা আক্তার দরিদ্র পিতা-মাতার পরিবারেই বসবাস করত। টিপু সুলতান দ্বিতীয় বিয়েকে গোপন রেখে মাঝে মধ্যে প্রথম স্ত্রী মনিকার ওখানেও স্বামী হিসেবে বসবাস করত। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রথম ও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টিও সকলের কাছে প্রকাশ পেয়ে যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইবধূ একদিকে মনিকা অপরদিকে ন্জমীমের মধ্যে টানপোড়েন শুরু হয়ে যায়। তখন কোন দিশেহারা খুজে না পেয়ে টিপু তার পরিবারের চাপে মনিকাকে জীবন থেকে সরিয়ে দিতে বিভিন্নভাবে শারীরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করে। মনিকাকে ইতিপূর্বেও অনেকবার শারীরীক নির্যাতন করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

একপর্যায় টিপু সুলতান তার জীবন থেকে মনিকাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা আটতে থাকে এবং গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন থেকে সে প্রথম স্ত্রী হিসেবে মনিকাদের বাড়িতেই রাতদিন থাকতে শুরু করে এবং মনিকাকে হত্যার নীল নকশা মনে মনে আকতে থাকে। ১৪ এপ্রিল রবিবার শুভ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কিছু নতুন কাপড়-চোপড় কেনা-কাটা ও বিনোদনের প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রী মনিকাকে শশুর থেকে ওইদিন সকাল ১০ টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে বের হয়ে যায়।

কাপড়-চোপড় কেনা-কাটা ও বিনোদন তো দূরে কথা মনিকাকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের মালাইনগর গ্রামের মালাইনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ফাঁকা মাঠের দুলাল কাজীর পুকুরের পাড়ের ঝোপ-ঝাড় আর কলা বাগানে ঘেরা নির্জন স্থানে। সেখানে নিয়ে মনিকাকে ঠান্ডা মাথায় সু-পরিকল্পিতভাবে শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে টিপু সুলতান। পরে মনিকার মৃত্যু নিশ্চিত হলে বিকেলে সুচতুর টিপু সুলতান মনিকাকে নিহত অবস্থায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ছুটে এসে কান্না ও ক্ষোভে ফেটে পরেন। ওইদিন সন্ধ্যায় শ্রীপুর থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন এবং সোমবার সকালে লাশটি ময়না তদন্তের মাগুরা মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মাজেদ শেখ বাদী হয়ে ঘাতক টিপু সুলতানকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের নামে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার সন্ধ্যার পূর্ব মূহুর্তে মনিকার নিথর দেহ চরচৌগাছি গ্রামে পৌছালে শোকে,তাপে আর কান্নার আহাজারিতে গোটা এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ তাসমীম আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও টিপু সুলতানকে আটক করতে পারলেই হত্যার মূল রহস্য জানা যাবে। তবে ঘটনার পর থেকেই স্বামী টিপু পলাতক রয়েছেন। তবে তাকে আটকের বিষয়ে পুলিশ বিশেষভাবে তৎপর রয়েছে।

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

মাগুরার শ্রীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক : থানায় মামলা

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চরচৌগাছি গ্রামের মোছাঃ মনিকা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে রবিবার দিনদুপুরে সু-পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে টিপু সুলতান (৩০) নামে এক পাষন্ড স্বামী। ঘাতক টিপু সুলতান দ্বারিয়াপুর নতুনপাড়ার গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের পুত্র্ । নিহত গৃহবধূ মনিকা আক্তারের পিতা মাজেদ শেখ বাদী হয়ে ঘাতক টিপু সুলতানকে প্রধান আসামী করে ৪’জনের নামে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত মনিকার ছোটভাই মামুন শেখ, তার মাতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, তিন বছর আগে লেখাপড়ার সূত্রধরে টিপু সুলতানের সাথে মনিকা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এভাবে প্রেমের সম্পর্কের কারণে গত দুই বছর আগে তারা পালিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

বিয়ের বিষয়টি টিপুর পরিবারের কাছে গোপন রাখা হলেও মনিকার পরিবারসহ চরচৌগাছি গ্রামের সবাই জানতেন । টিপু তার পরিবারের কাছে বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে শশুর বাড়িতে প্রতিনিয়তই যাতায়াত করত এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উভয়ই চলাচল করত।

এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর টিপুর পরিবার বিয়ের বিষয়টি জেনে যায় এবং মনিকাকে ত্যাগ করতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একপর্যায়ে টিপু সুলতার তার পরিবারের চাপে এবং পিতামাতা ও বড়ভাইদের সম্মতিতে একই উপজেলার ঘাসিয়াড়া গ্রামে নাজমীম খাতুন (১৮)কে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে সংসার করতে থাকে। আর মনিকা আক্তার দরিদ্র পিতা-মাতার পরিবারেই বসবাস করত। টিপু সুলতান দ্বিতীয় বিয়েকে গোপন রেখে মাঝে মধ্যে প্রথম স্ত্রী মনিকার ওখানেও স্বামী হিসেবে বসবাস করত। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রথম ও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টিও সকলের কাছে প্রকাশ পেয়ে যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইবধূ একদিকে মনিকা অপরদিকে ন্জমীমের মধ্যে টানপোড়েন শুরু হয়ে যায়। তখন কোন দিশেহারা খুজে না পেয়ে টিপু তার পরিবারের চাপে মনিকাকে জীবন থেকে সরিয়ে দিতে বিভিন্নভাবে শারীরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করে। মনিকাকে ইতিপূর্বেও অনেকবার শারীরীক নির্যাতন করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

একপর্যায় টিপু সুলতান তার জীবন থেকে মনিকাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা আটতে থাকে এবং গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন থেকে সে প্রথম স্ত্রী হিসেবে মনিকাদের বাড়িতেই রাতদিন থাকতে শুরু করে এবং মনিকাকে হত্যার নীল নকশা মনে মনে আকতে থাকে। ১৪ এপ্রিল রবিবার শুভ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কিছু নতুন কাপড়-চোপড় কেনা-কাটা ও বিনোদনের প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রী মনিকাকে শশুর থেকে ওইদিন সকাল ১০ টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে বের হয়ে যায়।

কাপড়-চোপড় কেনা-কাটা ও বিনোদন তো দূরে কথা মনিকাকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের মালাইনগর গ্রামের মালাইনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ফাঁকা মাঠের দুলাল কাজীর পুকুরের পাড়ের ঝোপ-ঝাড় আর কলা বাগানে ঘেরা নির্জন স্থানে। সেখানে নিয়ে মনিকাকে ঠান্ডা মাথায় সু-পরিকল্পিতভাবে শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে টিপু সুলতান। পরে মনিকার মৃত্যু নিশ্চিত হলে বিকেলে সুচতুর টিপু সুলতান মনিকাকে নিহত অবস্থায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ছুটে এসে কান্না ও ক্ষোভে ফেটে পরেন। ওইদিন সন্ধ্যায় শ্রীপুর থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন এবং সোমবার সকালে লাশটি ময়না তদন্তের মাগুরা মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মাজেদ শেখ বাদী হয়ে ঘাতক টিপু সুলতানকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের নামে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার সন্ধ্যার পূর্ব মূহুর্তে মনিকার নিথর দেহ চরচৌগাছি গ্রামে পৌছালে শোকে,তাপে আর কান্নার আহাজারিতে গোটা এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ তাসমীম আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও টিপু সুলতানকে আটক করতে পারলেই হত্যার মূল রহস্য জানা যাবে। তবে ঘটনার পর থেকেই স্বামী টিপু পলাতক রয়েছেন। তবে তাকে আটকের বিষয়ে পুলিশ বিশেষভাবে তৎপর রয়েছে।

বাখ//আর