ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মাগুরার শ্রীপুরে প্রধান শিক্ষককে মিথ্যা ভাবে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আশরাফ হোসেন পল্টু, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
  • / ৫০৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করার সু-বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রভাষ রঞ্জন দেবজ্যোতি। রবিবার দুপুরে শ্রীপুর প্রেস ক্লাবে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দ্বারা গঠিত ফুটবল দল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খুলনা বিভাগীয় রানার্স আপ ও ২০২২ সাল থেকে পরপর চারবার বিভাগীয় চাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে।
বর্তমানে তার বিদ্যালয়ের ২১ জন খেলোয়ার বিকেএসপিতে খেলছে, তারমধ্যে ১২ জন খেলোয়ার জাতীয় মহিলা দল রয়েছে। সকল বিষয়ে তার অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তার বিদ্যালয়ের খেলোয়াররা সাফ গেমসসহ বিভিন্ন দলে খেলে বহু সুনাম অর্জন করেছে।
এছাড়া তিনি কয়েকবার উপজেলা ও জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। তার এই সফলতায় মুগ্ধ হয়ে চৌগাছী গ্রামের পরিমল মন্ডল তার তার মেঝো কন্যাকে শিক্ষকের সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু কিছুদিন পর মেঝো কন্যার অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে তিন বছর পর পুনরায় ছোট মেয়ের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। এই বিয়ের প্রস্তাবের সূত্রধরে একপর্যায়ে ছোট মেয়ের সঙ্গে উক্ত শিক্ষকের সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এদিকে তার এই অভাবনীয় সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে গ্রামের কতিপয় ব্যক্তিরা তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পরিমলকে সুকৌশলে ওই ব্যক্তিরা তাদের কব্জায় নিয়ে নেয়। এদিকে পরিমল মেয়ে বিয়ের দেওয়ার অজুহাতে নানাভাবে ছলনা করে জমি বন্ধক রাখাসহ স্ত্রী ও মেয়েদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজন দেখিয়ে ৫ লক্ষাধীক টাকা গ্রহণ করেন। উক্ত টাকা ফেরত চাইলে গেলে  তিনি নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং টাকা ফেরত না দিয়ে শিক্ষককে হয়রানি করতে বিভিন্ন পথ খুজতে থাকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পরিমল মন্ডল পাশের বাড়ির একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে সুকৌশলে শিক্ষককে ডেকে এনে পরিমল ও তার ভাই অতুল মন্ডল  তিন কন্যাকে লেলিয়ে দিয়ে বাড়ির পাশের ব্রিজের উপর শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে।
এরপর থেকে উভয়ের পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত কয়েকদিন আগে গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে পরিমলের এক আত্মীয়ের সাথে শিক্ষকের কথা বলা দেখতে পেয়ে পরিমল মন্ডল  ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের গেঞ্জির কলার চেপে শ্বাসরুদ্ধ করে কিল ঘুষি,লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষকের  অন্ডকোষে লাথি মেরে আহত করেন। পরে আহত অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এদিকে উভয়ের ধস্তাধস্তির সময় পরিমল মন্ডল পাশের বাঁশের বেড়ার উপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিষয়টি নিয়ে চৌগাছী গ্রামের বাসিন্দা ও দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মহিদুল আলম মীমাংসার জন্য একাধীকবার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন।
সৃষ্ট ঘটনাকে পুঁজি করে চৌগাছী গ্রামের একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিমলের মেয়েকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ সামাজিক গণমাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে তার সুনাম ও সুখ্যাতি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগি শিক্ষক বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

মাগুরার শ্রীপুরে প্রধান শিক্ষককে মিথ্যা ভাবে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪
বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করার সু-বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রভাষ রঞ্জন দেবজ্যোতি। রবিবার দুপুরে শ্রীপুর প্রেস ক্লাবে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দ্বারা গঠিত ফুটবল দল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খুলনা বিভাগীয় রানার্স আপ ও ২০২২ সাল থেকে পরপর চারবার বিভাগীয় চাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে।
বর্তমানে তার বিদ্যালয়ের ২১ জন খেলোয়ার বিকেএসপিতে খেলছে, তারমধ্যে ১২ জন খেলোয়ার জাতীয় মহিলা দল রয়েছে। সকল বিষয়ে তার অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তার বিদ্যালয়ের খেলোয়াররা সাফ গেমসসহ বিভিন্ন দলে খেলে বহু সুনাম অর্জন করেছে।
এছাড়া তিনি কয়েকবার উপজেলা ও জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। তার এই সফলতায় মুগ্ধ হয়ে চৌগাছী গ্রামের পরিমল মন্ডল তার তার মেঝো কন্যাকে শিক্ষকের সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু কিছুদিন পর মেঝো কন্যার অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে তিন বছর পর পুনরায় ছোট মেয়ের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। এই বিয়ের প্রস্তাবের সূত্রধরে একপর্যায়ে ছোট মেয়ের সঙ্গে উক্ত শিক্ষকের সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এদিকে তার এই অভাবনীয় সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে গ্রামের কতিপয় ব্যক্তিরা তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পরিমলকে সুকৌশলে ওই ব্যক্তিরা তাদের কব্জায় নিয়ে নেয়। এদিকে পরিমল মেয়ে বিয়ের দেওয়ার অজুহাতে নানাভাবে ছলনা করে জমি বন্ধক রাখাসহ স্ত্রী ও মেয়েদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজন দেখিয়ে ৫ লক্ষাধীক টাকা গ্রহণ করেন। উক্ত টাকা ফেরত চাইলে গেলে  তিনি নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং টাকা ফেরত না দিয়ে শিক্ষককে হয়রানি করতে বিভিন্ন পথ খুজতে থাকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পরিমল মন্ডল পাশের বাড়ির একজনকে দিয়ে ফোন করিয়ে সুকৌশলে শিক্ষককে ডেকে এনে পরিমল ও তার ভাই অতুল মন্ডল  তিন কন্যাকে লেলিয়ে দিয়ে বাড়ির পাশের ব্রিজের উপর শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে।
এরপর থেকে উভয়ের পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত কয়েকদিন আগে গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে পরিমলের এক আত্মীয়ের সাথে শিক্ষকের কথা বলা দেখতে পেয়ে পরিমল মন্ডল  ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের গেঞ্জির কলার চেপে শ্বাসরুদ্ধ করে কিল ঘুষি,লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষকের  অন্ডকোষে লাথি মেরে আহত করেন। পরে আহত অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এদিকে উভয়ের ধস্তাধস্তির সময় পরিমল মন্ডল পাশের বাঁশের বেড়ার উপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিষয়টি নিয়ে চৌগাছী গ্রামের বাসিন্দা ও দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মহিদুল আলম মীমাংসার জন্য একাধীকবার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন।
সৃষ্ট ঘটনাকে পুঁজি করে চৌগাছী গ্রামের একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিমলের মেয়েকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ সামাজিক গণমাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে তার সুনাম ও সুখ্যাতি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগি শিক্ষক বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বাখ//আর