ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মহিপুরে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার খামখেয়ালীপনায় নবজাতকের মৃত্যু

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পটুয়াখালীর মহিপুর থানার মহিপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগমের খামখেয়ালপিনায় অবারও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্রসবকালীন সময়ে প্রসূতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষনে এখন প্রসূতি এমন দাবী পরিবারের। রবিবারে এ ঘটনার বিষয়টি জানার পর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন পটুয়াখালী।
প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মিরপুর গ্রমের শাহ-আলমের মেয়ে শারমিন বেগমের (২১ এপ্রিল রবিবার) রাতে প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরিবারের লোকজন প্রসূতিকে তাৎক্ষনিক মহিপুর কেয়ার মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারহানা রহমান সুমী প্রসূতিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটপন্ন দেখে প্রসূতিকে কলাপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সিজারের পরামর্শ দেন।
কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগম নরমালে বাচ্চা প্রসবের আশ্বাসে প্রসূতিকে মহিপুরে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। এজন্য ফি দাবী করেন ৩ হাজার টাকা। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনার পর নুরজাহান বেগম ৫ ঘন্টা নরমালে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এসময় পরিবারের লোকজন শারমিনকে সিজারে নিতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন নুরজাহান। রাত ১২টায় মৃত মেয়ে সন্তান প্রসব করে শারমিন। পরিবারে অভিযোগ, এসময়ে নরমাল ভেলিভারীর জন্য শারমিনকে মারধর করেন নুরজাহান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শারমিন এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষনে।
স্থানীয়রা জানায়, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগম ২৮ বছর ধরে মহিপুরে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে বহু এরকম ঘটনা ঘটিয়েছেন। এনিয়ে ভুক্তোভোগী পরিবার অবিযোগ তুললেও অদৃশ্য শক্তিতে সব মিটমাট হয়ে যায়।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকা নুরজাহান বলেন, গর্ভ থেকে মৃত বাচ্চা প্রসব করেছে। প্রতিটিট প্রসবই আমি একটি ফি নিয়ে থাকি। তাদের সাথে তিন হাজার টাকা চুক্তিতে কাজ করেছি।
ডাক্তার ফারজানা রহমান সুমি বলেন, রবিবার বিকেলে শারমিনকে নিয়ে আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ক্রিটিকাল মোমেন্ট দেখতে পাই। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সিজারের পরামর্শ দিয়েছি।
ফ্যামিলি প্লানিং মেডিকেল অফিসার মো. মেহেদী হাসান রনি বলেন, রোগী অবস্থা ক্রিটিকাল হলে সে আমাদের অবগত করবে। সে যেটা করেছে এটা চরম অপরাধ, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

মহিপুরে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার খামখেয়ালীপনায় নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৬:৫২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
পটুয়াখালীর মহিপুর থানার মহিপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগমের খামখেয়ালপিনায় অবারও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্রসবকালীন সময়ে প্রসূতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষনে এখন প্রসূতি এমন দাবী পরিবারের। রবিবারে এ ঘটনার বিষয়টি জানার পর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন পটুয়াখালী।
প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মিরপুর গ্রমের শাহ-আলমের মেয়ে শারমিন বেগমের (২১ এপ্রিল রবিবার) রাতে প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরিবারের লোকজন প্রসূতিকে তাৎক্ষনিক মহিপুর কেয়ার মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারহানা রহমান সুমী প্রসূতিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটপন্ন দেখে প্রসূতিকে কলাপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সিজারের পরামর্শ দেন।
কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগম নরমালে বাচ্চা প্রসবের আশ্বাসে প্রসূতিকে মহিপুরে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। এজন্য ফি দাবী করেন ৩ হাজার টাকা। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনার পর নুরজাহান বেগম ৫ ঘন্টা নরমালে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এসময় পরিবারের লোকজন শারমিনকে সিজারে নিতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন নুরজাহান। রাত ১২টায় মৃত মেয়ে সন্তান প্রসব করে শারমিন। পরিবারে অভিযোগ, এসময়ে নরমাল ভেলিভারীর জন্য শারমিনকে মারধর করেন নুরজাহান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শারমিন এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষনে।
স্থানীয়রা জানায়, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগম ২৮ বছর ধরে মহিপুরে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে বহু এরকম ঘটনা ঘটিয়েছেন। এনিয়ে ভুক্তোভোগী পরিবার অবিযোগ তুললেও অদৃশ্য শক্তিতে সব মিটমাট হয়ে যায়।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকা নুরজাহান বলেন, গর্ভ থেকে মৃত বাচ্চা প্রসব করেছে। প্রতিটিট প্রসবই আমি একটি ফি নিয়ে থাকি। তাদের সাথে তিন হাজার টাকা চুক্তিতে কাজ করেছি।
ডাক্তার ফারজানা রহমান সুমি বলেন, রবিবার বিকেলে শারমিনকে নিয়ে আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ক্রিটিকাল মোমেন্ট দেখতে পাই। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে সিজারের পরামর্শ দিয়েছি।
ফ্যামিলি প্লানিং মেডিকেল অফিসার মো. মেহেদী হাসান রনি বলেন, রোগী অবস্থা ক্রিটিকাল হলে সে আমাদের অবগত করবে। সে যেটা করেছে এটা চরম অপরাধ, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাখ//আর