ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভোলায় রিমালের তান্ডবে ঘরচাপায় নিহত ৩, ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪
  • / ৪৫২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ঘরচাপায় এক শিশুসহ তিন জন নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।ঝড়ের কবলে বেড়ি বাঁধ ধসে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩০ গ্রাম।

নিহতরা হলেন, মনেজা খাতুন (৫৪), জাহাঙ্গীর (৫০) ও মাইশা (৪)। ইনকিলাবের লালমোহন উপজেলা সংবাদদাতা মাহফুজুল হক জানান নিহত মনেজা খাতুন লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরউমেদ গ্রামের তেলী বাড়ির আব্দুল কাদেরের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, ওই নারী ও তার এক নাতী ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঝড়ো বাতাসে টিনের ঘর ভেঙে চাপা পড়ে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। তবে তার নাতীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অপর দিকে দৌলতখান উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে গাছ উপড়ে পড়ে ঘরের ভিতর চাপা পড়ে মাইশা নামের ৪ বছেরর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মাইশা একই এলাকার প্রতিবন্ধী মমিনের মেয়ে। এছাড়া বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর (৫০) নামের এক ঘর চাপায় নিহত হয়েছে।

এদিকে ঝড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধীক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বেড়িবাঁধ ধসে প্লাবিত হয়ে অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ পানি বন্দী রয়েছে। ঝড় বাতাসে গাছ পালা উপরে পড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিড়ে গত রোববার সকাল থেকে বিদ্যুৎহীন রয়েছে জেলাবাসী।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ব্যাপক কাচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। গবাদিপশু গরু, মহীষ, হাঁস মুরগী, ছাগল,পুকুরের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। পানের বরজ ও ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেড়ীবাঁধের বাহিরে চর অঞ্চলের মানুষ এখনো অনেকে জোয়ারের পানিতে আটকা পড়ে আছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরিন হক ইনকিলাবকে জানান চরফ্যাশনের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ঢালচর, পাতিলা, কুকরি মুকরি চরের অনেক গবাদিপশু জোয়ারের কারনে ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

স্থানীয়রা জানান ঢালচর,পাতিলা,চর কুকরি মুকরি সহ বিভিন্ন চলের মানুষ এখনো নিরাপদ স্থানে আসতে পারে নাই। এ ছাড়াও ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন,দৌলতখান, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, মনপুরার অনেক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। পওর ডিভিশন ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান জানান বেরী বাধের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তবে বাধের ভিতরে পানি ঢুকে নাই। তারা সার্বিক সতর্কতায় রয়েছে।

পওর ডিভিশন ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান রিমেলের কারনে জোয়ারের কারনে বেরীবাধের বাহিরে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে বাধের কিছু ক্ষতি হয়েছে। বিকেলের জোয়ারের কি হয় তা এখনো বলা যাচ্ছে না। ভোলাবাসীর যে কোন ক্ষয় ক্ষতির রক্ষার্থে ভোলা পওর সকল কর্মকর্তারা সকল বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন।

ভোলার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান জানান, নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে তালিকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রীতদের শুকনো খাবারের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

ভোলায় রিমালের তান্ডবে ঘরচাপায় নিহত ৩, ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

 

ভোলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ঘরচাপায় এক শিশুসহ তিন জন নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।ঝড়ের কবলে বেড়ি বাঁধ ধসে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩০ গ্রাম।

নিহতরা হলেন, মনেজা খাতুন (৫৪), জাহাঙ্গীর (৫০) ও মাইশা (৪)। ইনকিলাবের লালমোহন উপজেলা সংবাদদাতা মাহফুজুল হক জানান নিহত মনেজা খাতুন লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরউমেদ গ্রামের তেলী বাড়ির আব্দুল কাদেরের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, ওই নারী ও তার এক নাতী ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঝড়ো বাতাসে টিনের ঘর ভেঙে চাপা পড়ে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। তবে তার নাতীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অপর দিকে দৌলতখান উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে গাছ উপড়ে পড়ে ঘরের ভিতর চাপা পড়ে মাইশা নামের ৪ বছেরর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মাইশা একই এলাকার প্রতিবন্ধী মমিনের মেয়ে। এছাড়া বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর (৫০) নামের এক ঘর চাপায় নিহত হয়েছে।

এদিকে ঝড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধীক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বেড়িবাঁধ ধসে প্লাবিত হয়ে অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ পানি বন্দী রয়েছে। ঝড় বাতাসে গাছ পালা উপরে পড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিড়ে গত রোববার সকাল থেকে বিদ্যুৎহীন রয়েছে জেলাবাসী।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ব্যাপক কাচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। গবাদিপশু গরু, মহীষ, হাঁস মুরগী, ছাগল,পুকুরের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। পানের বরজ ও ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেড়ীবাঁধের বাহিরে চর অঞ্চলের মানুষ এখনো অনেকে জোয়ারের পানিতে আটকা পড়ে আছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরিন হক ইনকিলাবকে জানান চরফ্যাশনের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ঢালচর, পাতিলা, কুকরি মুকরি চরের অনেক গবাদিপশু জোয়ারের কারনে ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ।

স্থানীয়রা জানান ঢালচর,পাতিলা,চর কুকরি মুকরি সহ বিভিন্ন চলের মানুষ এখনো নিরাপদ স্থানে আসতে পারে নাই। এ ছাড়াও ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন,দৌলতখান, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, মনপুরার অনেক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। পওর ডিভিশন ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান জানান বেরী বাধের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তবে বাধের ভিতরে পানি ঢুকে নাই। তারা সার্বিক সতর্কতায় রয়েছে।

পওর ডিভিশন ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান রিমেলের কারনে জোয়ারের কারনে বেরীবাধের বাহিরে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে বাধের কিছু ক্ষতি হয়েছে। বিকেলের জোয়ারের কি হয় তা এখনো বলা যাচ্ছে না। ভোলাবাসীর যে কোন ক্ষয় ক্ষতির রক্ষার্থে ভোলা পওর সকল কর্মকর্তারা সকল বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন।

ভোলার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান জানান, নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে তালিকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রীতদের শুকনো খাবারের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

বাখ//আর