ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভোলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পেলেন ১২৩৪ টি গৃহহীন পরিবার

মোঃ জহিরুল হক, ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪
  • / ৪১৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের আবাসন কর্মসূচীর আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় ১২৩৪ টি গৃহহীন-ভূমিহীনদের গৃহ হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদুল আযহার উপহার হিসেবে মঙ্গরবার গণভবন থেকে বেলা ১১-৩০মিঃ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভুমিহীন পরিবারের মাঝে জমির মালিকানার দলিল ও ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারাদেশে ঈদুল আযহা উপহারের ঘর পেয়েছে ১৮ হাজার ৫৬৬টি পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর পঞ্চম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে এসব ঘর পেয়েছে তারা। ২৬টি জেলার ৭০ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ভোলার চরফ্যাশন, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীন প্রত্যেক মানুষের হাতে দুই শতক করে জমিসহ ১৮ হাজার ৫৬৬টি ঘরের দলিলপত্র হস্তান্তর করেন।

তারই অংশ হিসেবে আজ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কচ্ছপিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এ হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ভার্চুয়ালি ভোলার চরফ্যাশনের দু’জন উপকারভোগী’র সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার একজন হলেন বিবি আয়শা দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কচ্ছপিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া বিবি আয়েশা জানাচ্ছিলেন তার অনুভূতি। নতুন ঠিকানা পেয়ে কীভাবে তিনি নতুন জীবন পেলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিবি আয়েশা বলেন মাইনসের বাড়িতে উকরাইত থাকতাম, কত কষ্ট করছি। আমাগো কেউ নাই, আল্লাহ আমাদের একজন শেখ হাসিনা দিছেন। হের বাপেও ভালো কাজ করছে, হেও (শেখ হাসিনা) করতেছে।

তিনি বলেন, একসময় আমাগো সবই ছিল। নদী সব খেয়ে ফেলেছে। অভাবের সময়ে স্বামী, ছেলে, মেয়ে সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। ছোট ছেলেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে থাকি। এজন্য প্রতি ওয়াক্তে নামাজ পড়ে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি। যে ঘর দিল তার জন্য দোয়া করব না তো কার জন্য দোয়া করব। এভাবেই উপকারভোগীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ভোলায় ১২৩৪ টি গৃহহীন পরিবারের কাছে জমিসহ গৃহের দলিল হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ভোলা জেলার বাকি ছয়টি উপজেলাগুলোকেও ভূমিহীন মুক্ত করার লক্ষ্যে চরফ্যাশন, বোরহানউদ্দিন ও মনপুরা উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হবে।

আজ এসব স্থানে ১ হাজার ২৩৪টি ঘর সরাসরি ভূমিহীনদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হযেছে। এ সকল গৃহহীন মানুষকে জমিসহ ঘর উপহার দিয়ে গৃহহীনমুক্ত করায় ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

ভোলায় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ভোলা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী, বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: শহীদুল্লাহ,পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান বিপিএম পিপিএম , ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, চরফ্যাশন উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আখন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরীন হক।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বিবি আয়েশার মতো আরও ১৩৫টি পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জাহানপুরের পাঁচ কপাট আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫০টি পরিবার, পশ্চিম এওয়াজপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড আশ্রয়কেন্দ্রে আরও ১৭৫টি পরিবার নতুন স্বপ্নে নিজেদের ঘর সাজিয়েছে। বাড়ির উঠানে লাগিয়েছে সবজি ও ফলের গাছ। লালন-পালন করছে হাঁস ও মুরগি।সাবলম্বী হচ্ছে প্রতিটি পরিবার।

এ নিয়ে জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, ভোলা একটি নদীভাঙন কবলিত এলাকা। এখানে প্রতিনিয়ত মানুষ নদীভাঙনের শিকার হয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ে। সেসব নিঃস্ব, অসহায় মানুষকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। মূলত এই প্রকল্পটি বিশ্বে একটি নন্দিত প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি যারা অসহায়, নিঃস্ব, আশ্রয়হীন মানুষ রয়েছেন, তাদের চেহারা ও আত্মবিশ্বাসকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। ভোলা জেলায় ঘরগুলো যেসব পরিবারকে হস্তান্তর করতে যাচ্ছে, সেই ঘরগুলো এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের আর্থসামাজিক উন্নতিসহ তাদের জীবনমানে উন্নয়ন ঘটবে।

এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষ যেভাবে উপকারভোগী হবে, তাতে আগামীর উন্নত, সমৃদ্ধ স্মার্ট ভোলা হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

ভোলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পেলেন ১২৩৪ টি গৃহহীন পরিবার

আপডেট সময় : ০৬:৪১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের আবাসন কর্মসূচীর আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় ১২৩৪ টি গৃহহীন-ভূমিহীনদের গৃহ হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদুল আযহার উপহার হিসেবে মঙ্গরবার গণভবন থেকে বেলা ১১-৩০মিঃ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভুমিহীন পরিবারের মাঝে জমির মালিকানার দলিল ও ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারাদেশে ঈদুল আযহা উপহারের ঘর পেয়েছে ১৮ হাজার ৫৬৬টি পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর পঞ্চম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে এসব ঘর পেয়েছে তারা। ২৬টি জেলার ৭০ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ভোলার চরফ্যাশন, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীন প্রত্যেক মানুষের হাতে দুই শতক করে জমিসহ ১৮ হাজার ৫৬৬টি ঘরের দলিলপত্র হস্তান্তর করেন।

তারই অংশ হিসেবে আজ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কচ্ছপিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এ হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ভার্চুয়ালি ভোলার চরফ্যাশনের দু’জন উপকারভোগী’র সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার একজন হলেন বিবি আয়শা দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কচ্ছপিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া বিবি আয়েশা জানাচ্ছিলেন তার অনুভূতি। নতুন ঠিকানা পেয়ে কীভাবে তিনি নতুন জীবন পেলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিবি আয়েশা বলেন মাইনসের বাড়িতে উকরাইত থাকতাম, কত কষ্ট করছি। আমাগো কেউ নাই, আল্লাহ আমাদের একজন শেখ হাসিনা দিছেন। হের বাপেও ভালো কাজ করছে, হেও (শেখ হাসিনা) করতেছে।

তিনি বলেন, একসময় আমাগো সবই ছিল। নদী সব খেয়ে ফেলেছে। অভাবের সময়ে স্বামী, ছেলে, মেয়ে সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। ছোট ছেলেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে থাকি। এজন্য প্রতি ওয়াক্তে নামাজ পড়ে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি। যে ঘর দিল তার জন্য দোয়া করব না তো কার জন্য দোয়া করব। এভাবেই উপকারভোগীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ভোলায় ১২৩৪ টি গৃহহীন পরিবারের কাছে জমিসহ গৃহের দলিল হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ভোলা জেলার বাকি ছয়টি উপজেলাগুলোকেও ভূমিহীন মুক্ত করার লক্ষ্যে চরফ্যাশন, বোরহানউদ্দিন ও মনপুরা উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হবে।

আজ এসব স্থানে ১ হাজার ২৩৪টি ঘর সরাসরি ভূমিহীনদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হযেছে। এ সকল গৃহহীন মানুষকে জমিসহ ঘর উপহার দিয়ে গৃহহীনমুক্ত করায় ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

ভোলায় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ভোলা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী, বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: শহীদুল্লাহ,পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান বিপিএম পিপিএম , ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা, চরফ্যাশন উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আখন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরীন হক।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বিবি আয়েশার মতো আরও ১৩৫টি পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জাহানপুরের পাঁচ কপাট আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫০টি পরিবার, পশ্চিম এওয়াজপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড আশ্রয়কেন্দ্রে আরও ১৭৫টি পরিবার নতুন স্বপ্নে নিজেদের ঘর সাজিয়েছে। বাড়ির উঠানে লাগিয়েছে সবজি ও ফলের গাছ। লালন-পালন করছে হাঁস ও মুরগি।সাবলম্বী হচ্ছে প্রতিটি পরিবার।

এ নিয়ে জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, ভোলা একটি নদীভাঙন কবলিত এলাকা। এখানে প্রতিনিয়ত মানুষ নদীভাঙনের শিকার হয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ে। সেসব নিঃস্ব, অসহায় মানুষকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। মূলত এই প্রকল্পটি বিশ্বে একটি নন্দিত প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি যারা অসহায়, নিঃস্ব, আশ্রয়হীন মানুষ রয়েছেন, তাদের চেহারা ও আত্মবিশ্বাসকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। ভোলা জেলায় ঘরগুলো যেসব পরিবারকে হস্তান্তর করতে যাচ্ছে, সেই ঘরগুলো এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের আর্থসামাজিক উন্নতিসহ তাদের জীবনমানে উন্নয়ন ঘটবে।

এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষ যেভাবে উপকারভোগী হবে, তাতে আগামীর উন্নত, সমৃদ্ধ স্মার্ট ভোলা হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাখ//আর