বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৬ দিনে ৭৪৫ কোটি ছাড়িয়েছে ‘পাঠান’ পুলের ধারে বসে চুরুট ধরালেন সুস্মিতা দেশে চার হাজার ৬৩৩টি ইটভাটা অবৈধ: সংসদে পরিবেশমন্ত্রী নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে : মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী চার্লসের সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়ে কুমিল্লার জয় মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি : মেয়র আতিক দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার বাড়ছে : রাষ্ট্রপতি আকাশে কেবিন ক্রুকে নারী যাত্রীর থাপ্পড় সাহস থাকলে দেশে আসুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পকেটে আহলে হাদিসের দুই কোটি ভোট : সংসদে এমপি রহমতুল্লাহ প্ররোচনায় পড়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা : সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারামুক্ত যুবদল নেতা নয়ন ‘ভারতীয় ছবি রিলিজের পক্ষে সবাই থাকলেও আমি নেই’-রাউজানে অভিনেতা রুবেল ইসলামপুরে দৈনিক গণমুক্তি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত অবসরে গেলেন সকলের প্রিয় ফজলু স্যার

ভিক্ষা করতে চান না পঙ্গু সানোয়ার: জলপাই বেঁচেই চালান সংসার

ভিক্ষা করতে চান না পঙ্গু সানোয়ার: জলপাই বেঁচেই চালান সংসার
পঙ্গু সানোয়ার: জলপাই বেঁচেই চালান সংসার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শারীরীক প্রতিবন্ধকতা দুইহাতে ঠেলে মাথা উঁচু করে বাঁচার অদম্য এক লড়াকু সৈনিকের নাম সানোয়ার হোসেন! সে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের হাসনা গ্রামের আজাহার আলী শেখের ছেলে। হতদরিদ্র বাবার একার আয়ে সংসার চলে না। তাই খুব ছোট বেলা থেকেই বাবার সাথে শ্রমিকের কাজ করেন। একটু ডাঙ্গর হতেই বাবা তার বিয়ে দেন। অল্প বয়েসেই স্ত্রী হাসিনা খাতুনের কোল আলো করে আসে দুই ছেলে। সংসার খরচ রেড়ে যায়। তাই সানোয়ার শ্রমিকের কাজ ছেড়ে সামান্য পুঁজি নিয়ে শুরু করেন জলপাইয়ের ব্যবসা। সংসার তার ভালই চলছিল। একদিন জলপাই পাড়ার সময় হঠাৎ গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তার কোমড় ভেঙ্গে যায়। সংসারে নেমে আসে ঘোর অমাবস্যা। হাতের পুঁজি ও ধার দেনা করে চিকিৎসা করেও তিনি আর ভালো হন না। চিকিৎসকের ভুলে মাত্র ৩০ বছর বয়েসে তিনি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান। সংসার ও চিকিৎসা খরচ চালাতে হুইলচেয়ারে বসে শুরু করেন ভিক্ষাবৃত্তি। দু‘বছর পর দুই ছেলেকে ফেলে স্ত্রী হাসিনা খাতুন অন্যের হাত ধরে চলে যায়। সেই থেকে দীর্ঘ ১০ বছর তিনি ভিক্ষা করেন। কিন্তু মানুষের কাছে আর হাত পাততে তার ভালো লাগে না। অবশেষে তিনি ধারদেনা করে কিছু টাকা গুছিয়ে আবারও শুরু করেন জলপাইয়ের ব্যবসা। হুইলচেয়ারে বসেই তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে জলপাই গাছ কেনেন। এরপর শ্রমিক দিয়ে গাছ থেকে জলপাই পেরে বাগবাটি হাটে এনে সেই জলপাই বিক্রি করেন। এ থেকে যে আয় হয় তা দিয়েই চলে তার সংসার। বড় ছেলে হাসান শেখ বাবার এ অবস্থা দেখে অল্প বয়সেই রাজমিন্ত্রীর জোগালির কাজ করে। আর ছোট ছেলে শাকিল শেখ ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি আগের চেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিলেন। হঠাৎ করোনা মহামারিতে ২ বছর ব্যবসা না থাকায় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেলের দাম আকাশ চুম্বি বেড়ে যাওয়ায় তার এ সামান্য আয়ে আর সংসার চলে না। তাই তিনি আবারও গভির সংকটে পড়েছেন। কিন্তু তিনি আর ভিক্ষা করতে চান না। তিনি চান সমাজে আর সবার মত মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে। কিন্তু তার নিজের কোন পুঁজি নেই। ধারদেনা শোধ করার পর তার আর কিছু থাকে না। তাই তার ব্যবসার জন্য কিছু পুঁজির দরকার।
এ বিষয়ে পঙ্গু সানোয়ার হোসেন বলেন, আমি প্রায় ১০ বছর ধরে পঙ্গু হয়ে হুইলচেয়ারে বসেই প্রশ্রাব-পায়খানা সারি। এতে খুবই কষ্ট হয়। জীর্ণ ঘরটি দিয়েও বৃষ্টি এলে পানি পড়ে। ঘরটি মেরামত করার মতও অর্থ নাই আমার কাছে। এখন জীবনের সাথে লড়াই করতে করতে আমি হাপিয়ে উঠেছি। তারপরেও ভিক্ষা করতে আর আমার ভালো লাগে না। একদিন ছেড়ে দুইদিন একজন মানুষের দ্বারে গেলে লোকে মন্দ কয়। গালি দেয়। দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তাই ব্যবসা করে সমাজে মাথা উচু করে বাঁচতে চাই। এ জন্য আমার নগদ পুঁজির প্রয়োজন। কিন্তু নিজের কোন পুঁজি না থাকায় ভালো করে ব্যবসাও করতে পারছি না। তাই কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আমাকে ব্যবসা করা জন্য কিছু পুঁজির জোগান দিতো তবে তাকে প্রাণ ভরে দোয়া করতাম। সেই সাথে পরিবার পরিজন নিয়ে একটু ভালৈা ভাবে চলতে পারতাম।

এ বিষয়ে পঙ্গু সানোয়ার হোসেনের বৃদ্ধ বাবা বলেন, আমার ছেলে ভিক্ষুক না। সে কর্মঠ। খুব ছোট বেলা থেকেই কাজ করে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে আজ পঙ্গু। তাকে কেউ আর্থিক সাহায্য করলে সে ব্যবসা করে জীবন জীবিকা চালাতে পারতো। তিনি দেশের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে হাত বাড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *