ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৮৮, আহত ৯০০

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩
  • / ৪৬৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উড়িষ্যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে কলকাতার হাওড়া-চেন্নাইগামী ট্রেন করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২ জুন) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৯০০ জন আহত হয়েছে। উড়িষ্যার ডিজিপি ফায়ার সার্ভিসের শীর্ষ কর্মকর্তা সুধাংশু সারাঙ্গি জানিয়েছেন মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮৮।

শুক্রবার বিকেলে ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শালিমার স্টেশন থেকে ছেড়েছিল এবং চেন্নাই যাচ্ছিল। ট্রেনটিতে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বহু বাংলাদেশি নাগরিক দক্ষিণের ভেলোরে চিকিৎসা নিতে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন অনেক বাংলাদেশি।

জানা গিয়েছে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে ৭টার মধ্যে বালেশ্বর স্টেশন থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে বাহানাগা স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে যায় ট্রেনটির একাধিক বগি। মালগাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগেই ট্রেনটির তিনটি বগি বাদ দিয়ে ১৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়। লাইনচ্যুত হয়েছে ট্রেনটির ইঞ্জিনের পর থেকে স্লিপার ক্লাস, প্যান্ট্রি কারসহ যাত্রীবাহী বগিগুলো। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনটি মালগাড়ির উপর উঠে গিয়েছে।

রেল সূত্রে জানানো হয়েছে ঘটনায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে ঠিক কত যাত্রী আহত বা কেউ নিহত হয়েছেন কী না তা এখনও রেলের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। বিশেষত রাতের অন্ধকারে ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঠিক কতটা ভয়াবহ হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধার কাজে হাত লাগান। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেল কর্মকর্তা-কর্মীসহ বিশাল পুলিশ ও উদ্ধারকারী বাহিনী। রিলিফ ভ্যান ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার সকাল ১০টায় ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড আকাশপথে উড়িষ্যার বালেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দক্ষিণ ভারতগামী সব ট্রেন বাতিল
করমণ্ডল এক্সপ্রেস মূলত পশ্চীম বাংলা থেকে দক্ষিণ ভারতের হাসপাতালগুলিতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতি দিন বহু মানুষ করমণ্ডল এক্সপ্রেসে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকে যান। দুর্ঘটনার জেরে চিকিৎসা করাতে দক্ষিণ ভারতে যাওয়া যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার জেরে শুক্রবার হাওড়া থেকে দক্ষিণ ভারতগামী সমস্ত ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ওড়িশাগামী ট্রেনও চালানো যাচ্ছে না। এর ফলে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। বাতিল-হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুরীগামী আপ জগন্নাথ এক্সপ্রেস, আপ পুরী এক্সপ্রেস, যশবন্তপুর এক্সপ্রেস, চেন্নাই মেল। শিয়ালদহ-পুরী দুরন্ত এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছে। হাওড়ার শালিমার স্টেশন থেকে শালিমার-পুরী ধৌলি এক্সপ্রেস এবং শালিমার-হায়দরাবাদ ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। শনিবার অর্থাৎ ৩ জুনও বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু ট্রেন। সেগুলির মধ্যে অন্যতম হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া-সেকেন্দরাবাদ ফলকনুমা এক্সপ্রেস, হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-তিরুপতি হমসফর এক্সপ্রেস। শনিবার খড়্গপুর থেকেও বাতিল করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। সেগুলি হল খড়্গপুর-খুর্দা রোড এক্সপ্রেস, খড়্গপুর-ভদ্রক মেমু স্পেশাল।দুর্ঘটনার কারণে বেশ কয়েকটি ট্রেনের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ২২৮০৭ সাঁতরাগাছি-চেন্নাই সেন্ট্রাল এসএফ এক্সপ্রেস, দীঘা-বিশাখাপত্তনম এক্সপ্রেস, ১৮৪০৯ শালিমার-পুরী এক্সপ্রেস, ২২৮১৭ হাওড়া-মাইসুরু এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন।১৮০৪৩ হাওড়া-জলেশ্বর বাঘাযতীন এক্সপ্রেস, ১৮০৩৭ খড়্গপুর-জাজপুর এক্সপ্রেস, ১২৭০৪ সেকেন্দ্রাবাদ-হাওড়া ফলকনামা এক্সপ্রেস, ০৮৪১৫ জলেশ্বর-পুরী এক্সপ্রেস-সহ বেশ কয়েকটি ট্রেন সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথে চলবে বলেও রেলের তরফে জানানো হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ
করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পিছু এককালীন ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রেল। গুরুতর আহতদের এককালীন ২ লক্ষ টাকা এবং অল্প চোট-আঘাত যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। শুক্রবার রাতেই ভারতের রেলমন্ত্রী দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অকুস্থলে পৌঁছন রেলবোর্ডের চেয়ারম্যান অনিলকুমার লাহোটিও। রেলমন্ত্রী জানান ভুবনেশ্বর এবং কলকাতা থেকে উদ্ধারকারী দল আনা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য সরকারের উদ্ধারকারী দল এবং বায়ুসেনাকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দুঃখপ্রকাশ মোদী-শাহের
করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘‘ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই দুঃসময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতেরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।’’ প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলেছেন। সর্ব শেষ পরিস্থিতির খবর রাখছেন। তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও টুইট করেন, ‘‘ওড়িশার বালেশ্বরে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (এনডিআরএফ) ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। অন্যান্য দলও উদ্ধারকাজে যোগ দিতে ছুটে গিয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’’

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৮৮, আহত ৯০০

আপডেট সময় : ১১:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উড়িষ্যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে কলকাতার হাওড়া-চেন্নাইগামী ট্রেন করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২ জুন) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৯০০ জন আহত হয়েছে। উড়িষ্যার ডিজিপি ফায়ার সার্ভিসের শীর্ষ কর্মকর্তা সুধাংশু সারাঙ্গি জানিয়েছেন মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮৮।

শুক্রবার বিকেলে ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শালিমার স্টেশন থেকে ছেড়েছিল এবং চেন্নাই যাচ্ছিল। ট্রেনটিতে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বহু বাংলাদেশি নাগরিক দক্ষিণের ভেলোরে চিকিৎসা নিতে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন অনেক বাংলাদেশি।

জানা গিয়েছে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে ৭টার মধ্যে বালেশ্বর স্টেশন থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে বাহানাগা স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে যায় ট্রেনটির একাধিক বগি। মালগাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগেই ট্রেনটির তিনটি বগি বাদ দিয়ে ১৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়। লাইনচ্যুত হয়েছে ট্রেনটির ইঞ্জিনের পর থেকে স্লিপার ক্লাস, প্যান্ট্রি কারসহ যাত্রীবাহী বগিগুলো। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনটি মালগাড়ির উপর উঠে গিয়েছে।

রেল সূত্রে জানানো হয়েছে ঘটনায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে ঠিক কত যাত্রী আহত বা কেউ নিহত হয়েছেন কী না তা এখনও রেলের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। বিশেষত রাতের অন্ধকারে ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঠিক কতটা ভয়াবহ হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধার কাজে হাত লাগান। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেল কর্মকর্তা-কর্মীসহ বিশাল পুলিশ ও উদ্ধারকারী বাহিনী। রিলিফ ভ্যান ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার সকাল ১০টায় ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড আকাশপথে উড়িষ্যার বালেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দক্ষিণ ভারতগামী সব ট্রেন বাতিল
করমণ্ডল এক্সপ্রেস মূলত পশ্চীম বাংলা থেকে দক্ষিণ ভারতের হাসপাতালগুলিতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতি দিন বহু মানুষ করমণ্ডল এক্সপ্রেসে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকে যান। দুর্ঘটনার জেরে চিকিৎসা করাতে দক্ষিণ ভারতে যাওয়া যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার জেরে শুক্রবার হাওড়া থেকে দক্ষিণ ভারতগামী সমস্ত ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ওড়িশাগামী ট্রেনও চালানো যাচ্ছে না। এর ফলে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। বাতিল-হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুরীগামী আপ জগন্নাথ এক্সপ্রেস, আপ পুরী এক্সপ্রেস, যশবন্তপুর এক্সপ্রেস, চেন্নাই মেল। শিয়ালদহ-পুরী দুরন্ত এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছে। হাওড়ার শালিমার স্টেশন থেকে শালিমার-পুরী ধৌলি এক্সপ্রেস এবং শালিমার-হায়দরাবাদ ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। শনিবার অর্থাৎ ৩ জুনও বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু ট্রেন। সেগুলির মধ্যে অন্যতম হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া-সেকেন্দরাবাদ ফলকনুমা এক্সপ্রেস, হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-তিরুপতি হমসফর এক্সপ্রেস। শনিবার খড়্গপুর থেকেও বাতিল করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। সেগুলি হল খড়্গপুর-খুর্দা রোড এক্সপ্রেস, খড়্গপুর-ভদ্রক মেমু স্পেশাল।দুর্ঘটনার কারণে বেশ কয়েকটি ট্রেনের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ২২৮০৭ সাঁতরাগাছি-চেন্নাই সেন্ট্রাল এসএফ এক্সপ্রেস, দীঘা-বিশাখাপত্তনম এক্সপ্রেস, ১৮৪০৯ শালিমার-পুরী এক্সপ্রেস, ২২৮১৭ হাওড়া-মাইসুরু এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন।১৮০৪৩ হাওড়া-জলেশ্বর বাঘাযতীন এক্সপ্রেস, ১৮০৩৭ খড়্গপুর-জাজপুর এক্সপ্রেস, ১২৭০৪ সেকেন্দ্রাবাদ-হাওড়া ফলকনামা এক্সপ্রেস, ০৮৪১৫ জলেশ্বর-পুরী এক্সপ্রেস-সহ বেশ কয়েকটি ট্রেন সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথে চলবে বলেও রেলের তরফে জানানো হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ
করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পিছু এককালীন ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রেল। গুরুতর আহতদের এককালীন ২ লক্ষ টাকা এবং অল্প চোট-আঘাত যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। শুক্রবার রাতেই ভারতের রেলমন্ত্রী দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অকুস্থলে পৌঁছন রেলবোর্ডের চেয়ারম্যান অনিলকুমার লাহোটিও। রেলমন্ত্রী জানান ভুবনেশ্বর এবং কলকাতা থেকে উদ্ধারকারী দল আনা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য সরকারের উদ্ধারকারী দল এবং বায়ুসেনাকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দুঃখপ্রকাশ মোদী-শাহের
করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘‘ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই দুঃসময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতেরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।’’ প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলেছেন। সর্ব শেষ পরিস্থিতির খবর রাখছেন। তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও টুইট করেন, ‘‘ওড়িশার বালেশ্বরে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (এনডিআরএফ) ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। অন্যান্য দলও উদ্ধারকাজে যোগ দিতে ছুটে গিয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’’