ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রার্থী নিখোঁজে সরকারি বাহিনী জড়িত নয় : ইসি আনিছুর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৭৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপ-নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবু আসিফের নিখোঁজের ঘটনায় সরকারি কোনো বাহিনী জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনিছুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ আত্মগোপনে আছেন বলে মনে করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা একটা ভিডিও দেখেছি, তাতে মনে হয় আত্মগোপনের পরিকল্পনা আগেই করা ছিল এবং সেটাই ঘটেছে। তাকে খুঁজে পেলে বিষয়টি জানা যাবে। আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে যে, তাকে খুঁজে বের করে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে হবে। পারিপার্শ্বিক যে কথাগুলো আসছে, যেগুলো ভাইরাল হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি আত্মগোপনে আছেন। আমাদের কাছে তথ্য আছে সরকারি কোনো বাহিনী এই কাজটি করেনি। প্রার্থীকে খুঁজে না পাওয়ায় ভোটের মাঠে নতুন মেরূকরণ হবে না।

তিনি বলেন, আমরা মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি ডিসি, এসপি ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। কী ঘটেছে- সেই রিপোর্ট চেয়েছি। তারা বলেছে, ওই ব্যক্তি কোথায় আছেন, তা একবার চিহ্নিত করা গিয়েছিল, পরে আর যায়নি ফোন বন্ধ ছিল বলে। সব এজেন্সি প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

ইসি আনিছুর বলেন, নিখোঁজ হলে থানায় বা রিটার্নিং অফিসারকে কেন পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়নি। থানায় একটা জিডি তো করতে হয়, আপনারা তো করেননি। কেন করেননি তার স্ত্রীকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন সময় পাননি। রিটার্নিং অফিসার আমাদের কাছে একটা জিনিস পাঠিয়েছেন। সেখানে তারা স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে সুস্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি উদঘাটনে দায়িত্বরতদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা তাকে লোকেট করা মাত্রই মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসা হবে।

তিনি বলেন, একটা লোক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে থাকে, তাহলে তো তাকে খুঁজে বের করা কঠিন।আমাদের কাছে যে তথ্য-উপাত্ত আছে, তাতে ধারণা করা যায়। এ ছাড়া যে রেকর্ড আছে, তাতে তিনি স্ত্রীকে বলছেন যে, কী কী আনতে হবে। সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দিতে হবে এবং ১০ মিনিট পর তিনি বের হয়ে চালু করতে। এর মানে কী? মানে হলো যে, তারা একটা পরিকল্পনা করেছে, এটিই আমরা অনুমান করছি। হয়তো তার অন্য কোনো উদ্দেশ্যে থাকতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হলে থানায় বা রিটার্নিং অফিসারকে কেন জানাননি যে নিখোঁজ? একটা জিডিও তো করতে হয় থানায়। কেন করেননি এমন প্রশ্ন তার স্ত্রীকে করা হলে তিনি বলেন- আমি সময় পাইনি। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি তাকে খুঁজে বের করার জন্য। তাদের রিপোর্টে আছে নিখোঁজ। এখন নিখোঁজ বলতে তো আত্মগোপনও হতে পারে। এছাড়া তাদের যে রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে, তাতে তো মনে হয় আত্মগোপনেই আছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে একটি জিনিস পাঠিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। সেখানে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে সুস্পষ্ট কিছু আসে নাই। এ নিয়ে কেউ যদি মনে করে এটি বিতর্ক, তাহলে কিছু করার নেই। আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাকে শনাক্ত করা মাত্রই মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসা হবে।

ছয় আসনে ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি আনিছুর রহমান বলেন, যথারীতি আগে অন্যান্য জায়গায় যেরকম সব প্রস্তুতি আছে। খালি একটাই নাই, সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করি নাই। বাকি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা যা করা দরকার, সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে সাড়ে আটটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোট চলবে। ইভিএমে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার এডুকেশন যথেষ্ট করা হচ্ছে।’ আগামীকাল সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে সুষ্ঠু সুন্দর ভোট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কমিশনার।

মিডিয়াতে দেখেছেন তার ওপরে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাপের বিষয় মিডিয়াতে দেখেছি একটা লোক নিখোঁজ হয়েছে, সেটাকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। এখন তার তরফ থেকে স্ত্রী যদি বলতো কে কীভাবে কোথায় কাকে, এগুলোর কোনও ভিত্তি আছে। মেসেজ আছে। কাকে খুঁজবেন আপনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রার্থী নিখোঁজে সরকারি বাহিনী জড়িত নয় : ইসি আনিছুর

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপ-নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবু আসিফের নিখোঁজের ঘটনায় সরকারি কোনো বাহিনী জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনিছুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ আত্মগোপনে আছেন বলে মনে করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা একটা ভিডিও দেখেছি, তাতে মনে হয় আত্মগোপনের পরিকল্পনা আগেই করা ছিল এবং সেটাই ঘটেছে। তাকে খুঁজে পেলে বিষয়টি জানা যাবে। আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে যে, তাকে খুঁজে বের করে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে হবে। পারিপার্শ্বিক যে কথাগুলো আসছে, যেগুলো ভাইরাল হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি আত্মগোপনে আছেন। আমাদের কাছে তথ্য আছে সরকারি কোনো বাহিনী এই কাজটি করেনি। প্রার্থীকে খুঁজে না পাওয়ায় ভোটের মাঠে নতুন মেরূকরণ হবে না।

তিনি বলেন, আমরা মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি ডিসি, এসপি ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। কী ঘটেছে- সেই রিপোর্ট চেয়েছি। তারা বলেছে, ওই ব্যক্তি কোথায় আছেন, তা একবার চিহ্নিত করা গিয়েছিল, পরে আর যায়নি ফোন বন্ধ ছিল বলে। সব এজেন্সি প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

ইসি আনিছুর বলেন, নিখোঁজ হলে থানায় বা রিটার্নিং অফিসারকে কেন পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়নি। থানায় একটা জিডি তো করতে হয়, আপনারা তো করেননি। কেন করেননি তার স্ত্রীকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন সময় পাননি। রিটার্নিং অফিসার আমাদের কাছে একটা জিনিস পাঠিয়েছেন। সেখানে তারা স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে সুস্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি উদঘাটনে দায়িত্বরতদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা তাকে লোকেট করা মাত্রই মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসা হবে।

তিনি বলেন, একটা লোক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে থাকে, তাহলে তো তাকে খুঁজে বের করা কঠিন।আমাদের কাছে যে তথ্য-উপাত্ত আছে, তাতে ধারণা করা যায়। এ ছাড়া যে রেকর্ড আছে, তাতে তিনি স্ত্রীকে বলছেন যে, কী কী আনতে হবে। সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দিতে হবে এবং ১০ মিনিট পর তিনি বের হয়ে চালু করতে। এর মানে কী? মানে হলো যে, তারা একটা পরিকল্পনা করেছে, এটিই আমরা অনুমান করছি। হয়তো তার অন্য কোনো উদ্দেশ্যে থাকতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হলে থানায় বা রিটার্নিং অফিসারকে কেন জানাননি যে নিখোঁজ? একটা জিডিও তো করতে হয় থানায়। কেন করেননি এমন প্রশ্ন তার স্ত্রীকে করা হলে তিনি বলেন- আমি সময় পাইনি। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি তাকে খুঁজে বের করার জন্য। তাদের রিপোর্টে আছে নিখোঁজ। এখন নিখোঁজ বলতে তো আত্মগোপনও হতে পারে। এছাড়া তাদের যে রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে, তাতে তো মনে হয় আত্মগোপনেই আছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে একটি জিনিস পাঠিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। সেখানে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে সুস্পষ্ট কিছু আসে নাই। এ নিয়ে কেউ যদি মনে করে এটি বিতর্ক, তাহলে কিছু করার নেই। আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাকে শনাক্ত করা মাত্রই মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসা হবে।

ছয় আসনে ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি আনিছুর রহমান বলেন, যথারীতি আগে অন্যান্য জায়গায় যেরকম সব প্রস্তুতি আছে। খালি একটাই নাই, সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করি নাই। বাকি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা যা করা দরকার, সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে সাড়ে আটটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোট চলবে। ইভিএমে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার এডুকেশন যথেষ্ট করা হচ্ছে।’ আগামীকাল সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে সুষ্ঠু সুন্দর ভোট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কমিশনার।

মিডিয়াতে দেখেছেন তার ওপরে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাপের বিষয় মিডিয়াতে দেখেছি একটা লোক নিখোঁজ হয়েছে, সেটাকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। এখন তার তরফ থেকে স্ত্রী যদি বলতো কে কীভাবে কোথায় কাকে, এগুলোর কোনও ভিত্তি আছে। মেসেজ আছে। কাকে খুঁজবেন আপনি।