ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্বজনদের দাবী স্বামী কর্তৃক হত্যা

ব্রাহ্মণপাড়ায় নিখোঁজের ১৯ ঘন্টা পর ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

মো. শরীফুল ইসলাম, কসবা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নিখোঁজের ১৯ ঘন্টা পর বাড়ির পাশের ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে শিউলি আক্তার আরুদা (৩৫) নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের লাড়চৌ (১নং ওয়ার্ড) এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।
স্বামী কর্তৃক পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবী করেছেন গৃহবধুর স্বজনরা। এঘনায় নিহতের স্বামীকে অভিযুক্ত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। শিউলি আক্তার আরুদা লাড়চৌ (১নং ওয়ার্ড) এলাকার জানু সরকার বাড়ির সুমন মিয়ার স্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিউলি আক্তার আরুদা তার বসতঘরে ছিলো। রাত আনুমানিক ৮টা থেকে সে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন দিকে খোঁজাখোজি করে তাকে পাওয়া যায় নি। পরদিন শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে তার স্বজনদের খবর দিলে স্বজনরা শিউলির স্বামীর বাড়িতে এসে তারও খোঁজাখোজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে স্বামীর বসতবাড়ির দেড়শো গজ পশ্চিমে ছোট একটি ডুবায় কচুরিপানার নিচে কাপরের অংশ দেখা যায়। স্বজনা ওই কাপরে টান দিলে কচুরিপানার নিচ থেকে হাত পা বাঁধা শিউলির মরদেহ বের হয়ে আসে। এসময় স্বজনরা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের ছেলে মো. রিহান জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে ঘরে এসে দিখে মা শুয়ে আছে। আমাকে বলে ভাত নিয়ে খাও। তখন আমি ভাত না খেয়ে একটু ঘুরতে বের হই। পরে রাত ৯টার দিকে এসে দেখি আমাদের ঘরের দরজা খর দিয়ে আটকানো। ঘরে কেউ নেই। এরপর ঘরে ঢুকে মাকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজকে (শনিবার) বিকেলে আমার নানার বাড়ির লোকজনসহ খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি ডোবায় কচুরিপানার নিচে কাপরের অংশ দেখা যায়। আমরা ওই কাপরে টান দিলে কচুরিপানার নিচ থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় আমার মায়ের লাশ বের হয়ে আসে।
শিউলির বাবা দেলোয়ার হোসেন ও মা ঝর্ণা বেগম জানান, বিশ বছর পূর্বে সুমন মিয়া সাথে আমার মেয়ে শিউলি আক্তার আরুদার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুমন মিয়া আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় মারধর করতো। ঘর থেকে বের করে দিতো। ওই সময় শিউলি আমাদের কাছে এলে তার সন্তানদের কথা চিন্তা করে তাকে বুজিয়ে আবারও স্বামী সংসারে পাঠাতাম। পূর্বে এ নিয়ে একধিক বার বৈঠক করে শিউলির স্বামী সমুন মিয়াকে সংশোধন হতে বলা হয় এবং মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সুমনকে বিভিন্ন সময়ে তার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন অংকে নগদ টাকা ও গরু দেওয়া হয়। গত কয়েকদিন পূর্বে আমার মেয়েকে টাকা জন্য মারধর করে আমাদের কাছে পাঠালে আমরা তাকে আবারও ত্রিশ হাজার টাকা দেই। সেই টাকা নিয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যা রাতে শিউলি ও তার স্বামী সুমন মিয়ার মধ্যে ঝগড়া হয়। তার পর থেকে আমার মেয়ে শিউলি আক্তারকে আর খোঁজে পাওয়া যায় নাই। খবর পেয়ে পরদিন (শনিবার) বিকেলে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি ডোবায় কচুরিপানার নিচে থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় আমাদের মেয়ে শিউলির মরদেহ পাওয়া যায়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিথুন কুমার মন্ডল জানান, খবর পেয়ে নিহত গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় তার হাত পা বাঁধা ছিল। কপালে ও গালেসহ বিভিন্ন স্থানে কোপের যখম পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাতে যে কোন সময় তাকে হত্যার উদ্দ্যোশে অথবা হত্যার পর ওই ডুবায় ফেলে আসা হয়।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ডুবায় লাশ দেখে শিউলির স্বজনরা খবর দেয়। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত শিউলি আক্তারের স্বামী সুমন মিয়াকে অভিযুক্ত করে নিহতের মা ঝর্ণা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তৎপর রয়েছে।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বজনদের দাবী স্বামী কর্তৃক হত্যা

ব্রাহ্মণপাড়ায় নিখোঁজের ১৯ ঘন্টা পর ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নিখোঁজের ১৯ ঘন্টা পর বাড়ির পাশের ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে শিউলি আক্তার আরুদা (৩৫) নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের লাড়চৌ (১নং ওয়ার্ড) এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।
স্বামী কর্তৃক পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবী করেছেন গৃহবধুর স্বজনরা। এঘনায় নিহতের স্বামীকে অভিযুক্ত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। শিউলি আক্তার আরুদা লাড়চৌ (১নং ওয়ার্ড) এলাকার জানু সরকার বাড়ির সুমন মিয়ার স্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিউলি আক্তার আরুদা তার বসতঘরে ছিলো। রাত আনুমানিক ৮টা থেকে সে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন দিকে খোঁজাখোজি করে তাকে পাওয়া যায় নি। পরদিন শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে তার স্বজনদের খবর দিলে স্বজনরা শিউলির স্বামীর বাড়িতে এসে তারও খোঁজাখোজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে স্বামীর বসতবাড়ির দেড়শো গজ পশ্চিমে ছোট একটি ডুবায় কচুরিপানার নিচে কাপরের অংশ দেখা যায়। স্বজনা ওই কাপরে টান দিলে কচুরিপানার নিচ থেকে হাত পা বাঁধা শিউলির মরদেহ বের হয়ে আসে। এসময় স্বজনরা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের ছেলে মো. রিহান জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে ঘরে এসে দিখে মা শুয়ে আছে। আমাকে বলে ভাত নিয়ে খাও। তখন আমি ভাত না খেয়ে একটু ঘুরতে বের হই। পরে রাত ৯টার দিকে এসে দেখি আমাদের ঘরের দরজা খর দিয়ে আটকানো। ঘরে কেউ নেই। এরপর ঘরে ঢুকে মাকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজকে (শনিবার) বিকেলে আমার নানার বাড়ির লোকজনসহ খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি ডোবায় কচুরিপানার নিচে কাপরের অংশ দেখা যায়। আমরা ওই কাপরে টান দিলে কচুরিপানার নিচ থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় আমার মায়ের লাশ বের হয়ে আসে।
শিউলির বাবা দেলোয়ার হোসেন ও মা ঝর্ণা বেগম জানান, বিশ বছর পূর্বে সুমন মিয়া সাথে আমার মেয়ে শিউলি আক্তার আরুদার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুমন মিয়া আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় মারধর করতো। ঘর থেকে বের করে দিতো। ওই সময় শিউলি আমাদের কাছে এলে তার সন্তানদের কথা চিন্তা করে তাকে বুজিয়ে আবারও স্বামী সংসারে পাঠাতাম। পূর্বে এ নিয়ে একধিক বার বৈঠক করে শিউলির স্বামী সমুন মিয়াকে সংশোধন হতে বলা হয় এবং মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সুমনকে বিভিন্ন সময়ে তার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন অংকে নগদ টাকা ও গরু দেওয়া হয়। গত কয়েকদিন পূর্বে আমার মেয়েকে টাকা জন্য মারধর করে আমাদের কাছে পাঠালে আমরা তাকে আবারও ত্রিশ হাজার টাকা দেই। সেই টাকা নিয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যা রাতে শিউলি ও তার স্বামী সুমন মিয়ার মধ্যে ঝগড়া হয়। তার পর থেকে আমার মেয়ে শিউলি আক্তারকে আর খোঁজে পাওয়া যায় নাই। খবর পেয়ে পরদিন (শনিবার) বিকেলে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি ডোবায় কচুরিপানার নিচে থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় আমাদের মেয়ে শিউলির মরদেহ পাওয়া যায়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিথুন কুমার মন্ডল জানান, খবর পেয়ে নিহত গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় তার হাত পা বাঁধা ছিল। কপালে ও গালেসহ বিভিন্ন স্থানে কোপের যখম পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাতে যে কোন সময় তাকে হত্যার উদ্দ্যোশে অথবা হত্যার পর ওই ডুবায় ফেলে আসা হয়।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ডুবায় লাশ দেখে শিউলির স্বজনরা খবর দেয়। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত শিউলি আক্তারের স্বামী সুমন মিয়াকে অভিযুক্ত করে নিহতের মা ঝর্ণা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তৎপর রয়েছে।
বাখ//আর