ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বৈশাখের খরতাপে জনজীবন অতিষ্ঠ, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বৈশাখের শুরুতে বৃষ্টির দেখা মেলেনি, উপরোন্ত প্রচন্ড তাবদাহ আর ভ্যাপশা গরমে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ আশপাশের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সেই সাথে হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ।

তীব্র তাপদাহে অনেকে জ্বর, নিউমেনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভিড় করছেন। তবে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এই গরমে বয়স্ক ও শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে কোন বেড ফাঁকা নেই। জরুরী বিভাগ এবং বহিঃবিভাগে রোগীর ব্যাপক চাপের কারণে চিকিৎসকদেরও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়ে সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়ায়সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন অনেকেই। চিকিৎসকরা বলছেন,তীব্র গরমে পানির চাহিদা বেড়েছে। এসময় তাপ এড়িয়ে ঠান্ডা স্থানে থাকতে হবে। তরল এবং ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেতে হবে।

পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন কর্মজীবী মানুষ সেইসাথে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তাপদাহ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে ঠান্ডা পানীয় গুলোর। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে শরবত,ডাবের পানি,আখের রস খেয়ে শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম করছেন। প্রচন্ড তাপদাহের কারণে শহরের সড়কগুলোতেও মানুষের উপস্থিতিও ছিল কম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানাগেছে, শনিবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে বিভিন্ন রোগে কয়েকশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। কথা হয় জরুরী বিভাগে দায়ীত্বরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা.আব্দুর রউফ এর সাথে।

তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। অনেকে পেটের নানা সমস্যা নিয়ে আসছেন। তীব্র গরমে গুরুপাক খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। বেশি করে পানি পান করতে হবে। ঠান্ডা জাতীয় পানীয় বিশেষ করে লেবুর শরবত, ডাবের পানি বেশি করে পান করতে হবে। এসময় তাপ এড়িয়ে ঠান্ডা স্থানে থাকতে হবে, সেইসাথে শিশু এবং বয়স্কদের বাড়তী খেয়াল রাখতে হবে।

পৌর শহরের নিমতলা মোড় এলাকায় ভ্যান-রিকশা মাসুদ রানা, রফিকুল ইসলাম ও ভুট্রু বলেন, ‘ভ্যাপসা গরমে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যাত্রীও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। রোদের কারণে রাস্তায় থাকাই মুশকিল। তারা বলেন, কি আর করবো আমরা গরিব মানুষ, রোজগার না করলে খাবো কি? এটা দিয়েই আমাদের সংসার চালাতে হয়। তার উপর আবার প্রতি সপ্তাহে কিস্তি আছে। বাসুদেবপুর গ্রামে জমিতেকাজ করা শ্রমিক ফজলু মিঞা বলেন, ‘কড়া রোদ,তিব্র গরমে কাজ করতে পারছি না। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে গাছের নিচে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি। আমরা তো গরিব, কাজ না করলে পুরো পরিবার না খেয়ে থাকতে হবে।

আবহাওয়া অফিস বলছে,আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই,তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে,সামনের দিনগুলোতে মাঝারি থেকে তীব্র ধরনের তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

বৈশাখের খরতাপে জনজীবন অতিষ্ঠ, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

বৈশাখের শুরুতে বৃষ্টির দেখা মেলেনি, উপরোন্ত প্রচন্ড তাবদাহ আর ভ্যাপশা গরমে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ আশপাশের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সেই সাথে হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ।

তীব্র তাপদাহে অনেকে জ্বর, নিউমেনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভিড় করছেন। তবে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এই গরমে বয়স্ক ও শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে কোন বেড ফাঁকা নেই। জরুরী বিভাগ এবং বহিঃবিভাগে রোগীর ব্যাপক চাপের কারণে চিকিৎসকদেরও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়ে সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়ায়সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন অনেকেই। চিকিৎসকরা বলছেন,তীব্র গরমে পানির চাহিদা বেড়েছে। এসময় তাপ এড়িয়ে ঠান্ডা স্থানে থাকতে হবে। তরল এবং ঠান্ডা জাতীয় খাবার খেতে হবে।

পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন কর্মজীবী মানুষ সেইসাথে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তাপদাহ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে ঠান্ডা পানীয় গুলোর। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে শরবত,ডাবের পানি,আখের রস খেয়ে শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম করছেন। প্রচন্ড তাপদাহের কারণে শহরের সড়কগুলোতেও মানুষের উপস্থিতিও ছিল কম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানাগেছে, শনিবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে বিভিন্ন রোগে কয়েকশ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। কথা হয় জরুরী বিভাগে দায়ীত্বরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা.আব্দুর রউফ এর সাথে।

তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। অনেকে পেটের নানা সমস্যা নিয়ে আসছেন। তীব্র গরমে গুরুপাক খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। বেশি করে পানি পান করতে হবে। ঠান্ডা জাতীয় পানীয় বিশেষ করে লেবুর শরবত, ডাবের পানি বেশি করে পান করতে হবে। এসময় তাপ এড়িয়ে ঠান্ডা স্থানে থাকতে হবে, সেইসাথে শিশু এবং বয়স্কদের বাড়তী খেয়াল রাখতে হবে।

পৌর শহরের নিমতলা মোড় এলাকায় ভ্যান-রিকশা মাসুদ রানা, রফিকুল ইসলাম ও ভুট্রু বলেন, ‘ভ্যাপসা গরমে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যাত্রীও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। রোদের কারণে রাস্তায় থাকাই মুশকিল। তারা বলেন, কি আর করবো আমরা গরিব মানুষ, রোজগার না করলে খাবো কি? এটা দিয়েই আমাদের সংসার চালাতে হয়। তার উপর আবার প্রতি সপ্তাহে কিস্তি আছে। বাসুদেবপুর গ্রামে জমিতেকাজ করা শ্রমিক ফজলু মিঞা বলেন, ‘কড়া রোদ,তিব্র গরমে কাজ করতে পারছি না। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে গাছের নিচে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি। আমরা তো গরিব, কাজ না করলে পুরো পরিবার না খেয়ে থাকতে হবে।

আবহাওয়া অফিস বলছে,আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই,তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে,সামনের দিনগুলোতে মাঝারি থেকে তীব্র ধরনের তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বাখ//আর