ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বেলকুচির এমপি মমিন মন্ডলের এপিএস সেলিমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
  • / ৫৬০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভার মেয়র ও তার তিন বছরের শিশুসন্তানের ওপর হামলার প্রধান আসামী এমপি মমিন মন্ডলের এপিএস সেলিমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশ অনেক বছর আগে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন সেলিম সরকার। হয়েছিলেন সিরাজগঞ্জ বেলকুচি ডিগ্রি কলেজের জিএস। তখন থেকেই তিনি ছিলেন বেপরোয়া। ছাত্রলীগের জিএস পদ শেষ হলে দীর্ঘদিন ছিলেন না বেলকুচিতে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ -৫ (বেলকুচি চৌহালী) আসনে জয়ী হন আব্দুল মমিন মন্ডল। সেলিমকে বানানো হয় একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস)। এমপির এপিএস হওয়ার সুবাদে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন সেলিম। একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে এপিএস সেলিমের। এমপির আদলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব খাটানো, ত্রাস সৃষ্টি, টেন্ডারবাজি, প্রতিদ্বন্দ্বী কমাতে মারপিটসহ বিভিন্ন অপকর্ম করছে সেলিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। আরও অভিযোগ রয়েছে, বেলকুচি থানা পুলিশ বেশ সন্মান ও সমীহ করে এই সেলিমকে।

স্থানীয়রা অভিযোগে আরও জানান, সেলিম ও তার মাদকাসক্ত ছোট ভাই বাঘা বাবু এমন কোন অপকর্ম নাই করে না। সেলিম নিজেকে এমন কিছু ভাবে তিনি নিজেই এমপি-মন্ত্রী। তার আঙ্গুলের ইশারায় চালাতে চায় পুরা বেলকুচি। এসব অপকর্মের শক্তির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন ক্ষমতাসীন দলের বেপরোয়া নেতাকর্মী ও চরমপন্থীদের। গত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন থেকে উপজেলা নির্বাচন পরর্বতী যতগুলো হামলা মারপিট, বোমা বিস্ফোরণ, প্রথম ধাপের বেলকুচি উপজেলা নির্বাচন পরর্বতী প্রতিপক্ষের সমর্থক মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল আলীমকে পিটানোর পর চিকিৎসা অবস্থায় মারা যাওয়ার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার থাকার কথা সবার মুখে মুখে।

অভিযোগ রয়েছে, গত উপজেলা নির্বাচনে ইঞ্জিয়ারিং করে সদ্য বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুলকে জয় এনে দিয়েছেন এপিএস সেলিম ও তার সহযোগী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুব আলী শেখ।
এদিকে, এমপি মমিন মন্ডলের আশীর্বাদপুষ্ট এপিএস সেলিমের সহযোগী হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুব আলী করছেন মাদক ব্যবসা। ব্যবসায় সহযোগীতা করেন তার আপন ছোট ভাই মোস্তফা। আব্দুল মান্নান তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। ইউসুব শেখ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ছোট ভাই মোস্তফার চায়ের দেকানে বসে থাকতেন ভাই মোস্তফা ও মান্নান ওপেনে ইয়াবা গাজা বিক্রি করতো। ইউসুব শেখ স্থানীয় এমপির সমর্থীত হওয়ায় প্রশাসন জেনেও কিছু বলতো না।

বেলকুচি আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌর মেয়র রেজাকে মারপিটের ঘটনায় গত শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এতে সেলিমকে প্রধান, তার ছোট ভাই বাঘ বাবু দ্বিতীয় ও ইউসুফ শেখকে ৩নং আসামী করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিচার ও জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে গত শুক্রবার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ বিশ্বাস বলেন, “স্থানীয় এমপি’র এপিএস হওয়ার আগে এলাকায়ই দেখা যায়নি সেলিমকে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেলিমের চাচা সাবেক উপজেলা যুবলীগের প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন লিচর সখ্য ছিল যমুনার চরাঞ্চলের সর্বহারা চরমপন্থীদের সাথে। তার সেই রাস্তা ধরে চলছে সেলিম।”

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আশানুর বিশ্বাস বলেন, “ছাত্রলীগ যুবলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে এমপির প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করছে সেলিম।”

পৌরসভার মেয়র রেজা বলেন, বেলকুচি থানা পুলিশে ছত্রছায়ায় সেলিম, আমিনুল, ইউসুফ একের পর এক অন্যায় করছে। ধীরে ধীরে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

এপিএস সেলিম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। সর্বহারা চরমপন্থীদের সাখে আমার সম্পৃক্ততা নেই। চাচার ছিল কিনা আমি জানি না।”

এমপি মমিন মন্ডল বলেন,” সেলিম আমার এপিএস হলেও তার নিজস্ব পরিচয় আছে। তার সাথে আমার রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। সে যা করছে এর জন্য আমি দায়ী নই।”

বেলকুচি থানার ওসি মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান বলেন, দ্রুত বিচার আইনের ধারায় মেয়র রেজার লিখিত এজাহারটি মামলা হিসেবে নেওয়ার আগে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা এবং অভিযোগ যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

ডিবির ওসি জুলহাস উদ্দিন বলেন, মেয়র রেজার মারধরের ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বেলকুচির এমপি মমিন মন্ডলের এপিএস সেলিমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভার মেয়র ও তার তিন বছরের শিশুসন্তানের ওপর হামলার প্রধান আসামী এমপি মমিন মন্ডলের এপিএস সেলিমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশ অনেক বছর আগে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন সেলিম সরকার। হয়েছিলেন সিরাজগঞ্জ বেলকুচি ডিগ্রি কলেজের জিএস। তখন থেকেই তিনি ছিলেন বেপরোয়া। ছাত্রলীগের জিএস পদ শেষ হলে দীর্ঘদিন ছিলেন না বেলকুচিতে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ -৫ (বেলকুচি চৌহালী) আসনে জয়ী হন আব্দুল মমিন মন্ডল। সেলিমকে বানানো হয় একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস)। এমপির এপিএস হওয়ার সুবাদে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন সেলিম। একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে এপিএস সেলিমের। এমপির আদলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব খাটানো, ত্রাস সৃষ্টি, টেন্ডারবাজি, প্রতিদ্বন্দ্বী কমাতে মারপিটসহ বিভিন্ন অপকর্ম করছে সেলিম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। আরও অভিযোগ রয়েছে, বেলকুচি থানা পুলিশ বেশ সন্মান ও সমীহ করে এই সেলিমকে।

স্থানীয়রা অভিযোগে আরও জানান, সেলিম ও তার মাদকাসক্ত ছোট ভাই বাঘা বাবু এমন কোন অপকর্ম নাই করে না। সেলিম নিজেকে এমন কিছু ভাবে তিনি নিজেই এমপি-মন্ত্রী। তার আঙ্গুলের ইশারায় চালাতে চায় পুরা বেলকুচি। এসব অপকর্মের শক্তির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন ক্ষমতাসীন দলের বেপরোয়া নেতাকর্মী ও চরমপন্থীদের। গত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন থেকে উপজেলা নির্বাচন পরর্বতী যতগুলো হামলা মারপিট, বোমা বিস্ফোরণ, প্রথম ধাপের বেলকুচি উপজেলা নির্বাচন পরর্বতী প্রতিপক্ষের সমর্থক মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল আলীমকে পিটানোর পর চিকিৎসা অবস্থায় মারা যাওয়ার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার থাকার কথা সবার মুখে মুখে।

অভিযোগ রয়েছে, গত উপজেলা নির্বাচনে ইঞ্জিয়ারিং করে সদ্য বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুলকে জয় এনে দিয়েছেন এপিএস সেলিম ও তার সহযোগী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুব আলী শেখ।
এদিকে, এমপি মমিন মন্ডলের আশীর্বাদপুষ্ট এপিএস সেলিমের সহযোগী হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুব আলী করছেন মাদক ব্যবসা। ব্যবসায় সহযোগীতা করেন তার আপন ছোট ভাই মোস্তফা। আব্দুল মান্নান তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। ইউসুব শেখ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ছোট ভাই মোস্তফার চায়ের দেকানে বসে থাকতেন ভাই মোস্তফা ও মান্নান ওপেনে ইয়াবা গাজা বিক্রি করতো। ইউসুব শেখ স্থানীয় এমপির সমর্থীত হওয়ায় প্রশাসন জেনেও কিছু বলতো না।

বেলকুচি আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌর মেয়র রেজাকে মারপিটের ঘটনায় গত শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এতে সেলিমকে প্রধান, তার ছোট ভাই বাঘ বাবু দ্বিতীয় ও ইউসুফ শেখকে ৩নং আসামী করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিচার ও জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে গত শুক্রবার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ বিশ্বাস বলেন, “স্থানীয় এমপি’র এপিএস হওয়ার আগে এলাকায়ই দেখা যায়নি সেলিমকে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেলিমের চাচা সাবেক উপজেলা যুবলীগের প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন লিচর সখ্য ছিল যমুনার চরাঞ্চলের সর্বহারা চরমপন্থীদের সাথে। তার সেই রাস্তা ধরে চলছে সেলিম।”

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আশানুর বিশ্বাস বলেন, “ছাত্রলীগ যুবলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে এমপির প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করছে সেলিম।”

পৌরসভার মেয়র রেজা বলেন, বেলকুচি থানা পুলিশে ছত্রছায়ায় সেলিম, আমিনুল, ইউসুফ একের পর এক অন্যায় করছে। ধীরে ধীরে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

এপিএস সেলিম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। সর্বহারা চরমপন্থীদের সাখে আমার সম্পৃক্ততা নেই। চাচার ছিল কিনা আমি জানি না।”

এমপি মমিন মন্ডল বলেন,” সেলিম আমার এপিএস হলেও তার নিজস্ব পরিচয় আছে। তার সাথে আমার রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। সে যা করছে এর জন্য আমি দায়ী নই।”

বেলকুচি থানার ওসি মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান বলেন, দ্রুত বিচার আইনের ধারায় মেয়র রেজার লিখিত এজাহারটি মামলা হিসেবে নেওয়ার আগে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা এবং অভিযোগ যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

ডিবির ওসি জুলহাস উদ্দিন বলেন, মেয়র রেজার মারধরের ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।