ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বেলকুচিতে ৪ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ কাজ : ক্ষোভ স্থানীয়দের 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৫১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে চার বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ কাজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় কাজের এমন ধীর গতিতে ব্রিজটিতে মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সুূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ আক্টোবর মাস থেকে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ৯২ হাজার ৬শ ৪৬ টাকা ব্যায়ে ৭২ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করে মঈনুদ্দিন বাশি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সিরাজগঞ্জের উথান নামের একজন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেন। তিনি যথা সময়ে ব্রিজের কাজ শুরু করলেও ২০২২ সালে এসে শেষ করার কথা থাকলেও কাজটি শেষ করতে পারেনি।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজের বাড়তি সময়ের আবেদন করলে তাও দেয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে ব্রিজ এলাকায় গিয়ে জানা যায়, বেলকুচি পৌর এলাকাস্থ চর দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক হইতে বক্কার প্রামানিকের বাড়ি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের  বাস্তবায়নাধীন ৭২ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে ধীর গতিতে। প্রায় ৬ মাস কাজ বন্ধের পর  সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ চলছে ধীর গতিতে।
চর দেলুয়া গ্রামের আবু বক্কার, মোতালে সরকার, সাজু রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, বহু কাঙ্খিত চর দেলুয়া গ্রামে যমুনা নদীর শাখার ওপর দিয়ে ব্রিজে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়াতে আমরা বেশ খুশি হয়ে ছিলাম। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ তিন বছরেও শেষ করতে পারেনি। মাঝ খানে প্রায় ৬ মাস কাজ অজ্ঞাত কারণে বন্ধ ছিল। এখন আবার কাজ শুরু করেছে। তাও আবার ঠিকমতো শ্রমিক থাকে না । যেভাবে কাজ চলছে তাতে ৫ বছরে কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আমরা জানি যে ২ বছরের ব্রিজের কাজ শেষ হবার কথা ছিল কিন্তু তিন বছরেও শেষ হয়নি। যেভাবে কাজ চলছে তাতে  কতোদিনে শেষ হবে তা তারাই ভালো জানে। আমাদের তো মনে হয় না যে ৫ বছরে এই ব্রিজের কাজ শেষ হবে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল শহিদুল জানান, এই গ্রামের জন্য ব্রিজটি সম্পূর্ণ হওয়া জরুরি। ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে চরদেলুয়া গ্রাম সহ চরাঞ্চলের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে বেশী। কেননা এই ব্রিজটি যমুনা নদীর শাখার ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু সঠিক সময় ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এ এলাকার মানুষের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে যে আধো ব্রিজের কাজ শেষ হবে কি না। আমাদের দাবী থাকবে দ্রুত সময়ে যেন ব্রিজের কাজ শেষ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী উত্থানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে না পেয়ে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তবে তার ম্যানেজার মানিক জানান, ব্রিজের কাজ বন্ধ থাকার পর কয়েক দিন হলো শুরু করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কাজটও তাড়াতাড়ি শেষ করতে।
উপজেলা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ব্রিজটির কাজ বর্ষা মৌসুমের জন্য  বন্ধ ছিল। বর্তমানে কাজ সচল রয়েছে। যদিও যথা সময়ে ব্রিজটি কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময় বাড়তি চেয়ে আবেদন করেছিল। তাকে তা দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটির কাজ শেষ করতে পারবো।
আর সিরাজগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সে সময়ের মধ্যে যদি তিনি ব্রিজের কাজ শেষ না করতে পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

বেলকুচিতে ৪ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ কাজ : ক্ষোভ স্থানীয়দের 

আপডেট সময় : ১১:০৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে চার বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ কাজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় কাজের এমন ধীর গতিতে ব্রিজটিতে মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সুূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ আক্টোবর মাস থেকে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ৯২ হাজার ৬শ ৪৬ টাকা ব্যায়ে ৭২ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করে মঈনুদ্দিন বাশি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সিরাজগঞ্জের উথান নামের একজন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেন। তিনি যথা সময়ে ব্রিজের কাজ শুরু করলেও ২০২২ সালে এসে শেষ করার কথা থাকলেও কাজটি শেষ করতে পারেনি।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজের বাড়তি সময়ের আবেদন করলে তাও দেয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে ব্রিজ এলাকায় গিয়ে জানা যায়, বেলকুচি পৌর এলাকাস্থ চর দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক হইতে বক্কার প্রামানিকের বাড়ি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের  বাস্তবায়নাধীন ৭২ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে ধীর গতিতে। প্রায় ৬ মাস কাজ বন্ধের পর  সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ চলছে ধীর গতিতে।
চর দেলুয়া গ্রামের আবু বক্কার, মোতালে সরকার, সাজু রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, বহু কাঙ্খিত চর দেলুয়া গ্রামে যমুনা নদীর শাখার ওপর দিয়ে ব্রিজে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়াতে আমরা বেশ খুশি হয়ে ছিলাম। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ তিন বছরেও শেষ করতে পারেনি। মাঝ খানে প্রায় ৬ মাস কাজ অজ্ঞাত কারণে বন্ধ ছিল। এখন আবার কাজ শুরু করেছে। তাও আবার ঠিকমতো শ্রমিক থাকে না । যেভাবে কাজ চলছে তাতে ৫ বছরে কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আমরা জানি যে ২ বছরের ব্রিজের কাজ শেষ হবার কথা ছিল কিন্তু তিন বছরেও শেষ হয়নি। যেভাবে কাজ চলছে তাতে  কতোদিনে শেষ হবে তা তারাই ভালো জানে। আমাদের তো মনে হয় না যে ৫ বছরে এই ব্রিজের কাজ শেষ হবে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল শহিদুল জানান, এই গ্রামের জন্য ব্রিজটি সম্পূর্ণ হওয়া জরুরি। ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে চরদেলুয়া গ্রাম সহ চরাঞ্চলের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে বেশী। কেননা এই ব্রিজটি যমুনা নদীর শাখার ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু সঠিক সময় ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এ এলাকার মানুষের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে যে আধো ব্রিজের কাজ শেষ হবে কি না। আমাদের দাবী থাকবে দ্রুত সময়ে যেন ব্রিজের কাজ শেষ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী উত্থানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে না পেয়ে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তবে তার ম্যানেজার মানিক জানান, ব্রিজের কাজ বন্ধ থাকার পর কয়েক দিন হলো শুরু করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কাজটও তাড়াতাড়ি শেষ করতে।
উপজেলা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ব্রিজটির কাজ বর্ষা মৌসুমের জন্য  বন্ধ ছিল। বর্তমানে কাজ সচল রয়েছে। যদিও যথা সময়ে ব্রিজটি কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময় বাড়তি চেয়ে আবেদন করেছিল। তাকে তা দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটির কাজ শেষ করতে পারবো।
আর সিরাজগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সে সময়ের মধ্যে যদি তিনি ব্রিজের কাজ শেষ না করতে পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে