ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩
  • / ৪৫৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তলানীতে। তবে এই ব্যবধানকে দূরে ঠেলে ইংলিশদের বিপক্ষেই চমক দেখাল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে ইতিহাস গড়ল সাকিব আল হাসানের দল।তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়। গত বছর আগের দেখায় জিতেছিল ইংলিশরা।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ফিল সল্ট ও জস বাটলারের ব্যাটে ভালো শুরু ইংল্যান্ডের। বাটলারের সহজ ক্যাচ মিস করেছেন সাকিব।

দশম ওভারে ব্রেক থ্রু পায় বাংলাদেশ। সল্টকে ৩৮ রানে থামান নাসুম। মালানকে বেশিক্ষন টিকতে দেননি সাকিব। জীবন পাওয়া বাটলার ৪১ বলে করেন ৬৭ রান। শেষদিকে রানের গতি আটকে রাখে টাইগার বোলাররা। হাসান মাহমুদ নেন ২ উইকেট।

জবাবে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের। চতুর্থ ওভারে ভাঙে ৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। আট বছর পর ফিরে ২১ রান রনির ব্যাটে। লিটন ফেরেন ১২ রান কোরে।

নাজমুল শান্তর ঝোড়ো ব্যাটিং আর হৃদয়ের দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন শান্ত। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে, সাকিব-আফিফ অনায়াসে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

১৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মারেন লিটন দাস। এরপর ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন দলে সুযোগ পাওয়া রনি তালুকদার। এই ওভার থেকে ১০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

এরপর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে চার মারেন রনি। পঞ্চম বলে ফের চার মারেন রনি। এই ওভার থেকে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন জোফরা আর্চার। ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন লিটন। এরপর ওভারের শেষ বলে চার মারেন রনি। এই ওভার থেকে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে স্পিনার আলিদ রশিদকে বোলিংয়ে আনেন বাটলার। ওভারের দ্বিতীয় বলে রনিকে বোল্ড করেন রশিদ। দলীয় ৩৩ রানে ১৪ বলে ২১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান রনি। ক্রিজে এসে ওভারের শেষ বলে চার মারেন শান্ত।

এরপর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফের বোলিংয়ে আসেন আর্চার। ওভারের পঞ্চম বলে লিটন দাসকে আউট করেন আর্চার। দলীয় ৪৩ রানে ১০ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান লিটন। তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়।

হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন শান্ত। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ওকসের বলে টানা চারটি চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ১৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের অষ্টম এক চারের সাহায্যে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ইনিংসের নবম ওভারে ফের বোলিংয়ে আসেন স্যাম কুরান। ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এরপর ইনিংসের দশম ওভারে চতুর্থ বলে চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ৮ রান নেয় বাংলাদেশ।

ইনিংসের ১১ তম ওভারের তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান হৃদয়। অন্যদিকে ২৭ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন শান্ত। তবে দলীয় ১০৮ রানে ১৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন হৃদয়।

এরপরে দলীয় ১১২ রানে সাজঘরে ফিরে যান শান্ত। ৩০ বলে ৫১ রান করে আউট হন শান্ত। শান্তর বিদায়ের পর আফিফ হোসেন ও সাকিব মিলে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন। এই দুই ব্যাটারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ।

শেষ পর্যন্ত আর কোন উইকেট না হারিয়ে ১২ বল হাতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সাকিব ২৪ বলে ৩৪ ও আফিফ ১৩ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তলানীতে। তবে এই ব্যবধানকে দূরে ঠেলে ইংলিশদের বিপক্ষেই চমক দেখাল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে ইতিহাস গড়ল সাকিব আল হাসানের দল।তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়। গত বছর আগের দেখায় জিতেছিল ইংলিশরা।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ফিল সল্ট ও জস বাটলারের ব্যাটে ভালো শুরু ইংল্যান্ডের। বাটলারের সহজ ক্যাচ মিস করেছেন সাকিব।

দশম ওভারে ব্রেক থ্রু পায় বাংলাদেশ। সল্টকে ৩৮ রানে থামান নাসুম। মালানকে বেশিক্ষন টিকতে দেননি সাকিব। জীবন পাওয়া বাটলার ৪১ বলে করেন ৬৭ রান। শেষদিকে রানের গতি আটকে রাখে টাইগার বোলাররা। হাসান মাহমুদ নেন ২ উইকেট।

জবাবে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের। চতুর্থ ওভারে ভাঙে ৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। আট বছর পর ফিরে ২১ রান রনির ব্যাটে। লিটন ফেরেন ১২ রান কোরে।

নাজমুল শান্তর ঝোড়ো ব্যাটিং আর হৃদয়ের দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন শান্ত। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে, সাকিব-আফিফ অনায়াসে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

১৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মারেন লিটন দাস। এরপর ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন দলে সুযোগ পাওয়া রনি তালুকদার। এই ওভার থেকে ১০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

এরপর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে চার মারেন রনি। পঞ্চম বলে ফের চার মারেন রনি। এই ওভার থেকে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন জোফরা আর্চার। ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন লিটন। এরপর ওভারের শেষ বলে চার মারেন রনি। এই ওভার থেকে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে স্পিনার আলিদ রশিদকে বোলিংয়ে আনেন বাটলার। ওভারের দ্বিতীয় বলে রনিকে বোল্ড করেন রশিদ। দলীয় ৩৩ রানে ১৪ বলে ২১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান রনি। ক্রিজে এসে ওভারের শেষ বলে চার মারেন শান্ত।

এরপর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফের বোলিংয়ে আসেন আর্চার। ওভারের পঞ্চম বলে লিটন দাসকে আউট করেন আর্চার। দলীয় ৪৩ রানে ১০ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান লিটন। তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়।

হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন শান্ত। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ওকসের বলে টানা চারটি চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ১৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ইনিংসের অষ্টম এক চারের সাহায্যে ১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ইনিংসের নবম ওভারে ফের বোলিংয়ে আসেন স্যাম কুরান। ওভারের চতুর্থ বলে চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এরপর ইনিংসের দশম ওভারে চতুর্থ বলে চার মারেন শান্ত। এই ওভার থেকে ৮ রান নেয় বাংলাদেশ।

ইনিংসের ১১ তম ওভারের তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান হৃদয়। অন্যদিকে ২৭ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন শান্ত। তবে দলীয় ১০৮ রানে ১৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন হৃদয়।

এরপরে দলীয় ১১২ রানে সাজঘরে ফিরে যান শান্ত। ৩০ বলে ৫১ রান করে আউট হন শান্ত। শান্তর বিদায়ের পর আফিফ হোসেন ও সাকিব মিলে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন। এই দুই ব্যাটারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ।

শেষ পর্যন্ত আর কোন উইকেট না হারিয়ে ১২ বল হাতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। সাকিব ২৪ বলে ৩৪ ও আফিফ ১৩ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।