ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিশ্বের তাক লাগানো সেরা ৫ উৎসব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৬০২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানুষ স্বভাবতই উৎসবপ্রিয়। নিজ দেশের বিভিন্ন উৎসবের পাশাপাশি ভিন দেশের সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়েও বেশ আগ্রহ থাকে সবার। বিশ্বায়নের এ যুগে বিভিন্ন প্রান্তে উদযাপিত উৎসবের হালনাগাদ তথ্য ও আমাদের কাছে চলে আসছে নিমিষেই। তাই তো কোথাও ভ্রমণে গিয়ে একইসাথে সেখানকার উৎসবে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন অনেকে। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের বর্ণিল উৎসব-পার্বণে যোগ দেন বিশ্বের নানা প্রান্তের লাখো মানুষ। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এমন ঐতিহ্যবাহী ৫টি উৎসব সম্পর্কে জানা যাক—

ব্রাজিলের রিও কার্নিভাল বরাবরই সবার কাছে আকর্ষণীয়। বিশ্বের অসংখ্য মানুষ রঙিন ও জাঁকজমকপূর্ণ এই উৎসবে যোগ দিতে মুখিয়ে থাকে। কার্নিভাল শব্দটি এসেছে পর্তুগিজ শব্দ ‘কার্নে ভ্যাল’থেকে। যার বুৎপত্তিগত অর্থ বিদায়ের আগে মিলিত হওয়া। পরবর্তীতে এই মিলনমেলার অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে নাচ-গান। বিশেষ করে ড্রামের তালে তালে ঐতিহ্যবাহী সাম্বা নাচ দিয়ে শুরু হয় বর্ণিল উৎসবের। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও। রিও ডি জেনিরো শহর এই উৎসবের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এটি রিও কার্নিভাল নামে সুপরিচিত। শতাব্দি প্রাচীন এই উৎসবে শুরুর দিকে দেশটির অভিজাতরা অংশ নিতেন। পরবর্তীতে এটি বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতিবছর সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে রিও কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। নানা রঙের সাজপোশাক ও মুখোশ পরে বিভিন্ন সাম্বা স্কুলের দলের সঙ্গে নাচে-গানে মেতে ওঠেন সকলে।

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, রং দিয়ে হোলি খেলা কৃষ্ণ ও রাধার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রং বা অবিরের এই হোলি খেলা হয়। হোলির রং মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা দূর করে ইতিবাচকতায় পূর্ণ করে বলে মনে করেন অনেকে। লাল রংকে ভালোবাসার প্রতীক এবং সবুজ রংকে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হোলি খেলার অন্য নাম দোল উৎসব। ভারতে প্রতি বছর হোলিতে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ। বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে উদযাপিত হয় এ উৎসব।

বিশ্বের তাক লাগানো সেরা ৫ উৎসব

প্রতি বছর স্পেনের বুনোলে উদযাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী টমেটো ছোড়া উৎসব ‘লা টমাটিনা’। হাজার হাজার মানুষ দল বেঁধে অংশ নেয় এই টমেটো ছোড়ার উৎসবে। ‘লা টমাটিনা’ স্প্যানিশদের প্রাণের উৎসব। মহা আড়ম্বরে স্পেনের মানুষেরা এই উৎসবে অংশ নেয়। দেশটির ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশের বুনোল শহরে ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রতি বছর আগস্টের শেষে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে যায়। উৎসবের মূল আকর্ষণ টমেটোর লড়াই। এ সময় স্পেনের বুনোলের অলিগলি পরিণত হয় টমেটোর লাল গালিচায়। উৎসবের দিন সকালে বুনোলের শহরকেন্দ্রের টাউন হলে এসে জড়ো হয় পাকা টমেটোভর্তি ট্রাকের সারি। এর পর টাউন হল থেকে ছোড়া জলকামানের গোলার শব্দের সাথে সাথেই শুরু হয় এই টমেটোর লড়াই। এ সময় একে অপরের দিকে টমেটো ছুড়ে মারতে থাকে। খেলার নিয়ম অনুযায়ী, অন্যের দিকে ছুড়ে মারার আগে টমোটো অবশ্যই হাতের চাপে চ্যাপটা করে নিতে হবে, যাতে কেউ ব্যথা না পায়। ঘণ্টাব্যাপী লড়াই চলার পর আবারও শোনা যাবে জলকামানের শব্দ। আর তক্ষুণি শেষ করতে হবে টমোটো ছোড়া।

জার্মানির মিউনিখ শহরের শতাব্দি প্রাচীন অক্টোবর ফেস্টের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকেন হাজার হাজার মানুষ। অক্টোবর উৎসবের শুরুটা ১৮১০ সালের অক্টোবরে, তৎকালীন বাভারিয়া রাজ্যের যুবরাজের বিয়ে উপলক্ষে এক ঘোড়দৌড় ও পানীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল মিউনিখ শহরে। পরবর্তীতে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় উৎসবের ৷ কয়েক বছর পর উৎসবে যোগ হতে থাকে বিয়ার, ওয়াইন ও মুখরোচক বিভিন্ন খাবার। সেই সাথে যোগ হয় নানা রকম রাইড ও নাচ-গান। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বিয়ারের তৃষ্ণাই প্রাধান্য পেতে থাকে সেখানে ৷ নামটা অক্টোবর ফেস্ট হলেও ব্যবসার দিকটা মাথায় রেখেই সেপ্টেম্বরে শুরু করা হয় উৎসব, চলে অক্টোবর পর্যন্ত ৷ নানা দেশ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ মাতিয়ে রাখেন অক্টোবর ফেস্ট। পান করেন বিয়ার, সেই সাথে রকমারি খাবার তো রয়েছেই ৷

বরফ ও তুষারপ্রেমীদের জন্য ভীষণ পছন্দের উৎসব চীনের ‘হারবিন ইন্টারন্যাশনাল আইস অ্যান্ড স্নো ফেস্টিভ্যাল’। বরফ আর তুষার দিয়ে চোখধাঁধানো বিভিন্ন ভাস্কর্য ও স্থাপনার প্রদর্শনী হয় এতে। চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশে বিশ্বের বৃহৎ বরফ ও তুষারের এই উৎসব সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দুই মাসজুড়ে চলে। প্রদেশটির কাছের সংহুয়া নদী থেকে তুলে আনা ২ লাখ কিউবিক মিটারের বেশি বরফখণ্ড দিয়ে বিভিন্ন রকমের ভাস্কর্য তৈরি হয়। এর পাশাপাশি উৎসবে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। ১৯৮৫ সাল থেকে উদযাপন করা হচ্ছে হারবিন ইন্টারন্যাশনাল আইস অ্যান্ড স্নো স্কাল্পচার ফেস্টিভ্যাল। এটি দেখেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ জড়ো হন চীনে।

তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস, রোড আ্যাফেয়ার, সিএনএন

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বের তাক লাগানো সেরা ৫ উৎসব

আপডেট সময় : ০১:৩২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অগাস্ট ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানুষ স্বভাবতই উৎসবপ্রিয়। নিজ দেশের বিভিন্ন উৎসবের পাশাপাশি ভিন দেশের সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়েও বেশ আগ্রহ থাকে সবার। বিশ্বায়নের এ যুগে বিভিন্ন প্রান্তে উদযাপিত উৎসবের হালনাগাদ তথ্য ও আমাদের কাছে চলে আসছে নিমিষেই। তাই তো কোথাও ভ্রমণে গিয়ে একইসাথে সেখানকার উৎসবে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন অনেকে। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের বর্ণিল উৎসব-পার্বণে যোগ দেন বিশ্বের নানা প্রান্তের লাখো মানুষ। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এমন ঐতিহ্যবাহী ৫টি উৎসব সম্পর্কে জানা যাক—

ব্রাজিলের রিও কার্নিভাল বরাবরই সবার কাছে আকর্ষণীয়। বিশ্বের অসংখ্য মানুষ রঙিন ও জাঁকজমকপূর্ণ এই উৎসবে যোগ দিতে মুখিয়ে থাকে। কার্নিভাল শব্দটি এসেছে পর্তুগিজ শব্দ ‘কার্নে ভ্যাল’থেকে। যার বুৎপত্তিগত অর্থ বিদায়ের আগে মিলিত হওয়া। পরবর্তীতে এই মিলনমেলার অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে নাচ-গান। বিশেষ করে ড্রামের তালে তালে ঐতিহ্যবাহী সাম্বা নাচ দিয়ে শুরু হয় বর্ণিল উৎসবের। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও। রিও ডি জেনিরো শহর এই উৎসবের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এটি রিও কার্নিভাল নামে সুপরিচিত। শতাব্দি প্রাচীন এই উৎসবে শুরুর দিকে দেশটির অভিজাতরা অংশ নিতেন। পরবর্তীতে এটি বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতিবছর সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে রিও কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়। নানা রঙের সাজপোশাক ও মুখোশ পরে বিভিন্ন সাম্বা স্কুলের দলের সঙ্গে নাচে-গানে মেতে ওঠেন সকলে।

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, রং দিয়ে হোলি খেলা কৃষ্ণ ও রাধার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রং বা অবিরের এই হোলি খেলা হয়। হোলির রং মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা দূর করে ইতিবাচকতায় পূর্ণ করে বলে মনে করেন অনেকে। লাল রংকে ভালোবাসার প্রতীক এবং সবুজ রংকে সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হোলি খেলার অন্য নাম দোল উৎসব। ভারতে প্রতি বছর হোলিতে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ। বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে উদযাপিত হয় এ উৎসব।

বিশ্বের তাক লাগানো সেরা ৫ উৎসব

প্রতি বছর স্পেনের বুনোলে উদযাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী টমেটো ছোড়া উৎসব ‘লা টমাটিনা’। হাজার হাজার মানুষ দল বেঁধে অংশ নেয় এই টমেটো ছোড়ার উৎসবে। ‘লা টমাটিনা’ স্প্যানিশদের প্রাণের উৎসব। মহা আড়ম্বরে স্পেনের মানুষেরা এই উৎসবে অংশ নেয়। দেশটির ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশের বুনোল শহরে ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রতি বছর আগস্টের শেষে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে যায়। উৎসবের মূল আকর্ষণ টমেটোর লড়াই। এ সময় স্পেনের বুনোলের অলিগলি পরিণত হয় টমেটোর লাল গালিচায়। উৎসবের দিন সকালে বুনোলের শহরকেন্দ্রের টাউন হলে এসে জড়ো হয় পাকা টমেটোভর্তি ট্রাকের সারি। এর পর টাউন হল থেকে ছোড়া জলকামানের গোলার শব্দের সাথে সাথেই শুরু হয় এই টমেটোর লড়াই। এ সময় একে অপরের দিকে টমেটো ছুড়ে মারতে থাকে। খেলার নিয়ম অনুযায়ী, অন্যের দিকে ছুড়ে মারার আগে টমোটো অবশ্যই হাতের চাপে চ্যাপটা করে নিতে হবে, যাতে কেউ ব্যথা না পায়। ঘণ্টাব্যাপী লড়াই চলার পর আবারও শোনা যাবে জলকামানের শব্দ। আর তক্ষুণি শেষ করতে হবে টমোটো ছোড়া।

জার্মানির মিউনিখ শহরের শতাব্দি প্রাচীন অক্টোবর ফেস্টের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকেন হাজার হাজার মানুষ। অক্টোবর উৎসবের শুরুটা ১৮১০ সালের অক্টোবরে, তৎকালীন বাভারিয়া রাজ্যের যুবরাজের বিয়ে উপলক্ষে এক ঘোড়দৌড় ও পানীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল মিউনিখ শহরে। পরবর্তীতে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় উৎসবের ৷ কয়েক বছর পর উৎসবে যোগ হতে থাকে বিয়ার, ওয়াইন ও মুখরোচক বিভিন্ন খাবার। সেই সাথে যোগ হয় নানা রকম রাইড ও নাচ-গান। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বিয়ারের তৃষ্ণাই প্রাধান্য পেতে থাকে সেখানে ৷ নামটা অক্টোবর ফেস্ট হলেও ব্যবসার দিকটা মাথায় রেখেই সেপ্টেম্বরে শুরু করা হয় উৎসব, চলে অক্টোবর পর্যন্ত ৷ নানা দেশ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ মাতিয়ে রাখেন অক্টোবর ফেস্ট। পান করেন বিয়ার, সেই সাথে রকমারি খাবার তো রয়েছেই ৷

বরফ ও তুষারপ্রেমীদের জন্য ভীষণ পছন্দের উৎসব চীনের ‘হারবিন ইন্টারন্যাশনাল আইস অ্যান্ড স্নো ফেস্টিভ্যাল’। বরফ আর তুষার দিয়ে চোখধাঁধানো বিভিন্ন ভাস্কর্য ও স্থাপনার প্রদর্শনী হয় এতে। চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশে বিশ্বের বৃহৎ বরফ ও তুষারের এই উৎসব সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দুই মাসজুড়ে চলে। প্রদেশটির কাছের সংহুয়া নদী থেকে তুলে আনা ২ লাখ কিউবিক মিটারের বেশি বরফখণ্ড দিয়ে বিভিন্ন রকমের ভাস্কর্য তৈরি হয়। এর পাশাপাশি উৎসবে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। ১৯৮৫ সাল থেকে উদযাপন করা হচ্ছে হারবিন ইন্টারন্যাশনাল আইস অ্যান্ড স্নো স্কাল্পচার ফেস্টিভ্যাল। এটি দেখেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ জড়ো হন চীনে।

তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস, রোড আ্যাফেয়ার, সিএনএন