ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বাইডেনের ওপর চাপ বাড়ছে, ‘আস্থা’ হ্যারিসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
  • / ৪২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রিপাবলিকান দাতাদের কাছে উদ্বেগের নাম তিনি, আছে তার নিজেরও স্বীকৃতি, এমনকি ডেমোক্রেটিক পার্টির হেভিওয়েটরাও তাঁর পেছনে লাইন দিতে শুরু করেছেন! যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে তাঁর অবস্থান। সব জল্পনা উড়িয়ে হয়তো সত্যি সত্যিই হিসাব–নিকাশ পাল্টে দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

টিভি বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর যখন চাপ বাড়ছে, হ্যারিস তখন বেশ জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছেন। একাধিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স লিখেছে, বাইডেনকে যদি সরে দাঁড়াতে হয়, অর্থাৎ যেকোনো উপায়েই যদি তিনি ভোটে লড়ার যোগ্য বলে বিবেচিত না হন, তখন তাঁর উত্তরসূরী হিসেবে ট্রাম্পের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হ্যারিস।

বারবারই বাইডেন বলে আসছেন, নভেম্বরে হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনিই লড়বেন। তবে ভিন্ন সুর দলের দাতাদের। ট্রাম্পকে ফের ক্ষমতার বাইরে রাখতে বাইডেনের চেয়ে কমলা হ্যারিসের সফলতার সম্ভাবনা বেশি কিনা, সে প্রশ্ন তাদের মনে। ৫৯ বছর বয়সী কমলা হ্যারিস যদি দলের মনোনয়ন পেয়ে আসন্ন ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, তবে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

সাবেক এই মার্কিন সিনেটর এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান এবং এশিয়ান হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হোয়াইট হাউসে প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কমলা হ্যারিস; এই সময়ের মধ্যে অভিবাসনীতিসহ নানা ইস্যুতেই বেশ বিতর্কে পড়তে হয়েছে তাঁকে। দলের মধ্যেও সমালোচনা হয়েছে তাঁকে নিয়ে।

তবে সম্প্রতি কমলা হ্যারিসের প্রতি ইতিবাচক অনেকেই। বলা হচ্ছে, বাইডেনের উত্তরসূরী হলে সব বিতর্ক সামলে এগিয়ে যাবেন তিনি। কিছু জরিপে দেখা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের চেয়েও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আসতে পারেন হ্যারিস। অবশ্য তাঁর লড়াইটা সহজ হবে না।

গত ২ জুলাই সিএনএনের প্রকাশ করা এক জরিপ বলছে, ভোটাররা ট্রাম্পকে ৬ শতাংশ এগিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন ৪৯ শতাংশ ভোটার, যেখানে বাইডেনের পক্ষে সমর্থন এসেছে ৪৩ শতাংশ। হ্যারিস ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ সমর্থন।

সাম্প্রতিক টেলিভশন বিতর্কের পর রয়টার্সের করা এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বিপক্ষে বাইডেন ও হ্যারিসের অবস্থান প্রায় কাছাকাছি। হ্যারিসের পক্ষে সমর্থন ৪২ শতাংশ, আর বাইডেনের জন্য সমর্থন ৪৩ শতাংশের।

এদিকে বাইডেনের বিকল্প হিসেবে নাম এসেছে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার। নানা জরিপেই বেশ এগিয়ে আছেন তিনি।

টেলিভিশন বিতর্কের পর বাইডেনের ক্যাম্পেইনিংয়ে প্রকাশ করা অভ্যন্তরীণ জরিপে ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেনের প্রতিদ্বিন্দ্বিতার যে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে হ্যারিসের ক্ষেত্রেও। জরিপে অংশ নেওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৪৫ জন বলেছেন, তারা ভোট দেবেন হ্যারিসকে, ৪৮ জন ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ভোটের লড়াই থেকে বাইডেন সরে গেলে সেক্ষেত্রে কমলা হ্যারিসই সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন– ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনের জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জিম ক্লাইবার্ন, নিউইয়র্কের কংগ্রেসম্যান ও কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসের জ্যেষ্ঠ সদস্য গ্রেগরি মিকস এবং পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্রেট নেতা সামার লি।

রিপাবলিকানদের কাছেও হ্যারিস এক অর্থে হয়ে উঠেছে শক্তিশালী নাম। দলের দুজন দাতা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ট্রাম্পের বিপরীতে লড়তে বাইডেনের চেয়ে হ্যারিসের অবস্থানই ভালো।’

টেলিভিশন বিতর্কের পর আর্থিক পরিষেবা কোম্পানি কারসন গ্রুপের গ্লোবাল ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজিস্ট সোনু ভার্গিস বলেছেন, ‘বাইডেন ইতোমধ্যে ট্রাম্পের পেছনে পড়ে গেছেন। তার প্রচারণা এখন যেখানে রয়েছে, সে হিসেবে তিনি ব্যবধান কতটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন–তা নিয়ে সংশয় আছে।’ তিনি বলেন, ‘কমলা হ্যারিসই বরং ডেমোক্র্যাটদের হোয়াইট হাউসে নেওয়ার ক্ষেত্রে পথের প্রতিকূলতাকে দূর করবেন।’

এই মুহূর্তে বাইডেনের চেয়ে তার সম্ভাবনা বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমও হ্যারিসের এই ‘উত্থান পর্ব’ নিয়ে খবর ছেপেছে। ৬ জুলাই নিউইয়র্ক পোস্টের লেখা এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘আমেরিকা শিগগিরই দেশের প্রথম ডিইআই প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে: কমলা হ্যারিস’।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাইডেনের ওপর চাপ বাড়ছে, ‘আস্থা’ হ্যারিসে

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

রিপাবলিকান দাতাদের কাছে উদ্বেগের নাম তিনি, আছে তার নিজেরও স্বীকৃতি, এমনকি ডেমোক্রেটিক পার্টির হেভিওয়েটরাও তাঁর পেছনে লাইন দিতে শুরু করেছেন! যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে তাঁর অবস্থান। সব জল্পনা উড়িয়ে হয়তো সত্যি সত্যিই হিসাব–নিকাশ পাল্টে দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

টিভি বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর যখন চাপ বাড়ছে, হ্যারিস তখন বেশ জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছেন। একাধিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স লিখেছে, বাইডেনকে যদি সরে দাঁড়াতে হয়, অর্থাৎ যেকোনো উপায়েই যদি তিনি ভোটে লড়ার যোগ্য বলে বিবেচিত না হন, তখন তাঁর উত্তরসূরী হিসেবে ট্রাম্পের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হ্যারিস।

বারবারই বাইডেন বলে আসছেন, নভেম্বরে হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনিই লড়বেন। তবে ভিন্ন সুর দলের দাতাদের। ট্রাম্পকে ফের ক্ষমতার বাইরে রাখতে বাইডেনের চেয়ে কমলা হ্যারিসের সফলতার সম্ভাবনা বেশি কিনা, সে প্রশ্ন তাদের মনে। ৫৯ বছর বয়সী কমলা হ্যারিস যদি দলের মনোনয়ন পেয়ে আসন্ন ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, তবে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

সাবেক এই মার্কিন সিনেটর এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান এবং এশিয়ান হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হোয়াইট হাউসে প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কমলা হ্যারিস; এই সময়ের মধ্যে অভিবাসনীতিসহ নানা ইস্যুতেই বেশ বিতর্কে পড়তে হয়েছে তাঁকে। দলের মধ্যেও সমালোচনা হয়েছে তাঁকে নিয়ে।

তবে সম্প্রতি কমলা হ্যারিসের প্রতি ইতিবাচক অনেকেই। বলা হচ্ছে, বাইডেনের উত্তরসূরী হলে সব বিতর্ক সামলে এগিয়ে যাবেন তিনি। কিছু জরিপে দেখা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের চেয়েও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আসতে পারেন হ্যারিস। অবশ্য তাঁর লড়াইটা সহজ হবে না।

গত ২ জুলাই সিএনএনের প্রকাশ করা এক জরিপ বলছে, ভোটাররা ট্রাম্পকে ৬ শতাংশ এগিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন ৪৯ শতাংশ ভোটার, যেখানে বাইডেনের পক্ষে সমর্থন এসেছে ৪৩ শতাংশ। হ্যারিস ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ সমর্থন।

সাম্প্রতিক টেলিভশন বিতর্কের পর রয়টার্সের করা এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বিপক্ষে বাইডেন ও হ্যারিসের অবস্থান প্রায় কাছাকাছি। হ্যারিসের পক্ষে সমর্থন ৪২ শতাংশ, আর বাইডেনের জন্য সমর্থন ৪৩ শতাংশের।

এদিকে বাইডেনের বিকল্প হিসেবে নাম এসেছে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার। নানা জরিপেই বেশ এগিয়ে আছেন তিনি।

টেলিভিশন বিতর্কের পর বাইডেনের ক্যাম্পেইনিংয়ে প্রকাশ করা অভ্যন্তরীণ জরিপে ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেনের প্রতিদ্বিন্দ্বিতার যে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে হ্যারিসের ক্ষেত্রেও। জরিপে অংশ নেওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৪৫ জন বলেছেন, তারা ভোট দেবেন হ্যারিসকে, ৪৮ জন ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ভোটের লড়াই থেকে বাইডেন সরে গেলে সেক্ষেত্রে কমলা হ্যারিসই সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন– ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনের জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জিম ক্লাইবার্ন, নিউইয়র্কের কংগ্রেসম্যান ও কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসের জ্যেষ্ঠ সদস্য গ্রেগরি মিকস এবং পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্রেট নেতা সামার লি।

রিপাবলিকানদের কাছেও হ্যারিস এক অর্থে হয়ে উঠেছে শক্তিশালী নাম। দলের দুজন দাতা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ট্রাম্পের বিপরীতে লড়তে বাইডেনের চেয়ে হ্যারিসের অবস্থানই ভালো।’

টেলিভিশন বিতর্কের পর আর্থিক পরিষেবা কোম্পানি কারসন গ্রুপের গ্লোবাল ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজিস্ট সোনু ভার্গিস বলেছেন, ‘বাইডেন ইতোমধ্যে ট্রাম্পের পেছনে পড়ে গেছেন। তার প্রচারণা এখন যেখানে রয়েছে, সে হিসেবে তিনি ব্যবধান কতটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন–তা নিয়ে সংশয় আছে।’ তিনি বলেন, ‘কমলা হ্যারিসই বরং ডেমোক্র্যাটদের হোয়াইট হাউসে নেওয়ার ক্ষেত্রে পথের প্রতিকূলতাকে দূর করবেন।’

এই মুহূর্তে বাইডেনের চেয়ে তার সম্ভাবনা বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমও হ্যারিসের এই ‘উত্থান পর্ব’ নিয়ে খবর ছেপেছে। ৬ জুলাই নিউইয়র্ক পোস্টের লেখা এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘আমেরিকা শিগগিরই দেশের প্রথম ডিইআই প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে: কমলা হ্যারিস’।