ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বাংলাদেশ এগিয়ে ক্ষুধা নিবারণের সক্ষমতায় ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৩৯ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ক্ষুধা মেটানোর সক্ষমতায় ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করা শ্রীলঙ্কা এক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগে রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬, ভারতের ১০৭, পাকিস্তান ৯৯ ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৬৪তম।

গতকাল বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও জার্মানভিত্তিক ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফ যৌথভাবে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক-২০২২ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। চলতি বছর ১২১টি দেশের মধ্যে এ জরিপ করা হয়। গত বছর ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল ৭৬তম স্থানে। ২০২০ সালে ১০৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫তম।

চলতি বছরের ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ১৯ দশমিক ৬ স্কোর পেয়েছে। ক্ষুধা সূচক ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯-এর মধ্যে থাকলে ওই দেশ ‘মাঝারি মাত্রার’ ক্ষুধা আক্রান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এ বছরের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান ক্ষুধা মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে। দেশ দু’টির অবস্থান যথাক্রমে ১০৭ ও ৯৯। এ দেশ দু’টি ‘মারাত্মক ক্ষুধায়’ (স্কোর ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯) আক্রান্ত দেশের তালিকায় রয়েছে।

তবে এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কা আছে বাংলাদেশের ওপরে। ১৩ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে দেশটির অবস্থান ৬৪তম। এরপর ১৫ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে ৭১তম স্থানে মিয়ানমার। বর্তমানে বিশ্বে গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতি বিরাজ করছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এরপরই রয়েছে সাহারা মরুভূমি এলাকার আফ্রিকার দেশগুলো।

সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত, প্রতি ৬ জনের একজন শিশু বয়সের তুলনায় খর্বকায় ও কৃশকায়। প্রতি ৩ জনের একজন শিশু জন্মের ৫ বছরের মধ্যে মারা যায়। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। যে কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।

কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সিইও ডমিনিক ম্যাক সরলি এ ব্যাপারে বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ মহামারির সম্মিলিত প্রভাব পড়েছে। এখন রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহ এবং খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্যে আঘাত হেনেছে। এ সঙ্কট ধীরে ধীরে বিপর্যয়কর রূপ নিতে শুরু করেছে।

সূচকে ৫-এর নিচে স্কোর পেয়ে শীর্ষ ১৭ দেশের তালিকায় আছে বেলারুশ, হার্জেগোভিনা, চিলি, চীন, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, কুয়েত, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, তুরস্ক ও উরুগুয়ে। অর্থাৎ বিশ্বের এসব দেশে ক্ষুধা কম। তবে সূচকে একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন। ৪৫ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে দেশটি ১২১তম অবস্থানে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ এগিয়ে ক্ষুধা নিবারণের সক্ষমতায় ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে

আপডেট সময় : ১১:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২২

 

ক্ষুধা মেটানোর সক্ষমতায় ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করা শ্রীলঙ্কা এক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগে রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬, ভারতের ১০৭, পাকিস্তান ৯৯ ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৬৪তম।

গতকাল বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও জার্মানভিত্তিক ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফ যৌথভাবে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক-২০২২ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। চলতি বছর ১২১টি দেশের মধ্যে এ জরিপ করা হয়। গত বছর ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল ৭৬তম স্থানে। ২০২০ সালে ১০৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫তম।

চলতি বছরের ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ১৯ দশমিক ৬ স্কোর পেয়েছে। ক্ষুধা সূচক ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯-এর মধ্যে থাকলে ওই দেশ ‘মাঝারি মাত্রার’ ক্ষুধা আক্রান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এ বছরের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান ক্ষুধা মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে। দেশ দু’টির অবস্থান যথাক্রমে ১০৭ ও ৯৯। এ দেশ দু’টি ‘মারাত্মক ক্ষুধায়’ (স্কোর ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯) আক্রান্ত দেশের তালিকায় রয়েছে।

তবে এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কা আছে বাংলাদেশের ওপরে। ১৩ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে দেশটির অবস্থান ৬৪তম। এরপর ১৫ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে ৭১তম স্থানে মিয়ানমার। বর্তমানে বিশ্বে গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতি বিরাজ করছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এরপরই রয়েছে সাহারা মরুভূমি এলাকার আফ্রিকার দেশগুলো।

সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত, প্রতি ৬ জনের একজন শিশু বয়সের তুলনায় খর্বকায় ও কৃশকায়। প্রতি ৩ জনের একজন শিশু জন্মের ৫ বছরের মধ্যে মারা যায়। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। যে কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।

কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সিইও ডমিনিক ম্যাক সরলি এ ব্যাপারে বলেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ মহামারির সম্মিলিত প্রভাব পড়েছে। এখন রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বৈশ্বিক সরবরাহ এবং খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্যে আঘাত হেনেছে। এ সঙ্কট ধীরে ধীরে বিপর্যয়কর রূপ নিতে শুরু করেছে।

সূচকে ৫-এর নিচে স্কোর পেয়ে শীর্ষ ১৭ দেশের তালিকায় আছে বেলারুশ, হার্জেগোভিনা, চিলি, চীন, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, কুয়েত, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, তুরস্ক ও উরুগুয়ে। অর্থাৎ বিশ্বের এসব দেশে ক্ষুধা কম। তবে সূচকে একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন। ৪৫ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে দেশটি ১২১তম অবস্থানে আছে।