ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বাংলাদেশে ইউয়ানে লেনদেনে করতে আগ্রহী চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৯৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বাজারে এমন কোন পণ্য নেই যেখানে চীনের আধিপত্য নেই। প্রকল্পের ভারি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে রপ্তানি পণ্যের সুতো। ঘরের বিছানার চাদর থেকে শুরু করে ব্যাগ, সবখানে চীনের পণ্য রয়েছে। এবার বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও প্রকল্পের খরচ নিজ দেশের মুদ্রায় করতে আগ্রহী চীন।

চায়নার রপ্তানি ইনডেক্সে ২৮ বিলিয়ন ডলার লেনদেনের অংশীদার বাংলাদেশ, যার ২৭ বিলিয়ন ডলারই আমদানি। এখন পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করে আসছে ডলারে । কোভিড বা যুদ্ধাবস্থা, বিশ্বে ইউয়ানের আধিপত্য তৈরিতে কখনোই পিছিয়ে নেই চীন। ডলারের মূল্য পরিবর্তনের হিড়িকে নিজেদের প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে দেশটি। যেখানে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন প্রায় ৩০ টাকা, সেখানে ইউয়ানের ঘাটতি মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ।

এর কারণ, ৩৯টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে ইউয়ানে লেনদেনের চুক্তি আছে। ৯টি দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে সোয়াপে ইউয়ানে বিনিময়। ২০১৯ সালে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পরিশোধ করেছে চীন। এই সব পথই খুলতে পারে বাংলাদেশের জন্য।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে চায়না কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত প্রকল্পগুলোতে চায়না নিজস্ব মুদ্রায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে রপ্তানিতে ব্যবধান থাকলেও সেটি বিনিয়োগের মাধ্যমে ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিসিসিআই-এর সভাপতি আল মামুন মৃধা বলেন, ‘বাংলাদেশে যে প্রজেক্টগুলোতে চায়নার ফাইন্যান্সিং করার কথা, সেটা যদি বাংলাদেশ চায়, চায়না কিন্তু ইউয়ানে করতে রাজি আছে।’

বিশ্বে ডলারের বাজার পরিবর্তিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া ফেডারেলের সুদের হার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি হয়ে উঠছে দুর্মূল্যের। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানি বিনিয়োগ চলমান রাখতে দেশগুলো ডলার এড়িয়ে নিজেদের মুদ্রায় লেনদেন চলমান রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে সোয়াপ পদ্ধতি স্বল্প সময়ের বন্ধু হতে পারে বাংলাদেশের জন্য।

বিআইবিএম-এর অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, ‘এই ধরনের সোয়াপ এ্যারেজমেন্টে একটা অংশ চায়নিজ কারেন্সিতে হয়। তাহলে ডলারের ওপর চাপ কম পড়লো, রিজার্ভে প্রেশারটা কম পড়লো।’

দেশে দুই বিলিয়ন সমপরিমান ইউয়ান রিজার্ভ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে চায়নার কোন ব্যাংক না থাকলেও ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ থেকে ইউয়ানে লেনদেন করতে পারেন ব্যবসায়ীরা। আর ব্যাংক খুলতে গেলে মানতে হবে বিদেশি ব্যাংক স্থাপনের নিয়ম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেন, ‘ব্যাংক খুলতে গেলে তো সুনির্দিষ্ট ব্যবসা থাকতে হবে। আর সেই ব্যবসা কিন্তু লোকাল কারেন্সিতে করতে হবে। আর ব্যাংক আসলেই ইউয়ানের সাপ্লাই বেড়ে যাবে এমন নয়।’

আমদানি-রপ্তানি ছাড়াও উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে দেশে ২১ হাজার বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি চীনা নাগরিক। তবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই তথ্যের সাথে বাংলাদেশ পুলিশের পার্থক্য রয়েছে। তাদের মতে, এই সংখ্যা ৮ হাজার ৭৫০ জন। তাদের বেতন বা সম্মানী চায়না মুদ্রায় করা গেলে এই পুরো বিনিময় নির্ভার হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে ইউয়ানে লেনদেনে করতে আগ্রহী চীন

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

দেশের বাজারে এমন কোন পণ্য নেই যেখানে চীনের আধিপত্য নেই। প্রকল্পের ভারি যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে রপ্তানি পণ্যের সুতো। ঘরের বিছানার চাদর থেকে শুরু করে ব্যাগ, সবখানে চীনের পণ্য রয়েছে। এবার বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও প্রকল্পের খরচ নিজ দেশের মুদ্রায় করতে আগ্রহী চীন।

চায়নার রপ্তানি ইনডেক্সে ২৮ বিলিয়ন ডলার লেনদেনের অংশীদার বাংলাদেশ, যার ২৭ বিলিয়ন ডলারই আমদানি। এখন পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করে আসছে ডলারে । কোভিড বা যুদ্ধাবস্থা, বিশ্বে ইউয়ানের আধিপত্য তৈরিতে কখনোই পিছিয়ে নেই চীন। ডলারের মূল্য পরিবর্তনের হিড়িকে নিজেদের প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে দেশটি। যেখানে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন প্রায় ৩০ টাকা, সেখানে ইউয়ানের ঘাটতি মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ।

এর কারণ, ৩৯টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে ইউয়ানে লেনদেনের চুক্তি আছে। ৯টি দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে সোয়াপে ইউয়ানে বিনিময়। ২০১৯ সালে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পরিশোধ করেছে চীন। এই সব পথই খুলতে পারে বাংলাদেশের জন্য।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে চায়না কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত প্রকল্পগুলোতে চায়না নিজস্ব মুদ্রায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে রপ্তানিতে ব্যবধান থাকলেও সেটি বিনিয়োগের মাধ্যমে ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিসিসিআই-এর সভাপতি আল মামুন মৃধা বলেন, ‘বাংলাদেশে যে প্রজেক্টগুলোতে চায়নার ফাইন্যান্সিং করার কথা, সেটা যদি বাংলাদেশ চায়, চায়না কিন্তু ইউয়ানে করতে রাজি আছে।’

বিশ্বে ডলারের বাজার পরিবর্তিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া ফেডারেলের সুদের হার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি হয়ে উঠছে দুর্মূল্যের। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানি বিনিয়োগ চলমান রাখতে দেশগুলো ডলার এড়িয়ে নিজেদের মুদ্রায় লেনদেন চলমান রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে সোয়াপ পদ্ধতি স্বল্প সময়ের বন্ধু হতে পারে বাংলাদেশের জন্য।

বিআইবিএম-এর অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, ‘এই ধরনের সোয়াপ এ্যারেজমেন্টে একটা অংশ চায়নিজ কারেন্সিতে হয়। তাহলে ডলারের ওপর চাপ কম পড়লো, রিজার্ভে প্রেশারটা কম পড়লো।’

দেশে দুই বিলিয়ন সমপরিমান ইউয়ান রিজার্ভ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে চায়নার কোন ব্যাংক না থাকলেও ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ থেকে ইউয়ানে লেনদেন করতে পারেন ব্যবসায়ীরা। আর ব্যাংক খুলতে গেলে মানতে হবে বিদেশি ব্যাংক স্থাপনের নিয়ম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেন, ‘ব্যাংক খুলতে গেলে তো সুনির্দিষ্ট ব্যবসা থাকতে হবে। আর সেই ব্যবসা কিন্তু লোকাল কারেন্সিতে করতে হবে। আর ব্যাংক আসলেই ইউয়ানের সাপ্লাই বেড়ে যাবে এমন নয়।’

আমদানি-রপ্তানি ছাড়াও উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে দেশে ২১ হাজার বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি চীনা নাগরিক। তবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই তথ্যের সাথে বাংলাদেশ পুলিশের পার্থক্য রয়েছে। তাদের মতে, এই সংখ্যা ৮ হাজার ৭৫০ জন। তাদের বেতন বা সম্মানী চায়না মুদ্রায় করা গেলে এই পুরো বিনিময় নির্ভার হতে পারে।