ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপকথাকেও হার মানায় : অর্থমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা প্রতিনিধি :

অর্থমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেন, ২০০৮ সালে আমরা ছিলাম ৬০তম অর্থনীতির দেশ। আর আজ আমরা বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতির দেশ। আমরা এখন দাঁড়িয়েছি ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের কাতারে। গত ১৪টি বছর, বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থনীতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ শিখরে উঠার গল্প। যা রূপকথার গল্পগাঁথাকেও হার মানায়। এ সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আপনাদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার আজীবনের স্বপ্ন ছিলো ভৌগলিক মুক্তি ও অর্থনৈতিক মুক্তি। তিনি আমাদের ভৌগলিক মুক্তি এনে দিয়েছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তির কাজটি তার জীবদ্দশায় সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। কারণ সেই সুযোগটি তিনি পাননি। জাতির পিতার সেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করার দায়িত্ব নিয়েছেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি দেশের অর্থনীতির পরিমাপ করা হয় জিডিপি দিয়ে। যে দেশের জিডিপি যতো বেশি, অর্থনীতির এলাকায় সে দেশ ততো বেশি শক্তিশালী। ২০০৮ সালে আমাদের জিডিপির আকার ছিলো ৯১ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে মাত্র ১৪ বছরে সাড়ে চার গুণ বেড়ে আজ জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। ২০০৯ থেকে ২০১৯, দশ বছরে বাংলাদেশ ১৮৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে সারা বিশ্বে ১ম স্থান অর্জন করে। অর্থনীতির এলাকায় অগ্রগতির আরেকটি পরিমাপক হলো মাথাপিছু জাতীয় আয়। আমাদের মাথাপিছু আয় ৬৮৬ ডলার থেকে ৪ গুণ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮২৪ ডলার। গত ১৪ বছরে প্রায় ২ কোটি ২৭ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার মধ্যে ৭৫ লক্ষ কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। রেমিট্যান্স আয় ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয় ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে চার গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার। তা দিয়ে আমরা প্রায় সাড়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মিটাতে পারবো। অর্থনীতির এলাকায় এই পরিমাপকগুলো বলে দিচ্ছে বৈদেশিক অর্থনীতির সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি একই গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের এখন লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া। আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে যাবো।

আলোচনা সভার প্রধান আলোচক কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রেলপথ মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলছে, তখন বিএনপি-জামাত দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ উন্নয়ন চায়। তাই ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবারও সরকার গঠন করবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন, জসিম উদ্দিন, ইলিয়াস মিয়া, সামসুদ্দিন কালু, নির্মল পাল, শাহিনুল ইসলাম শাহীন, কোহিনুর বেগম।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপকথাকেও হার মানায় : অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৪১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২২

কুমিল্লা প্রতিনিধি :

অর্থমন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেন, ২০০৮ সালে আমরা ছিলাম ৬০তম অর্থনীতির দেশ। আর আজ আমরা বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতির দেশ। আমরা এখন দাঁড়িয়েছি ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশের কাতারে। গত ১৪টি বছর, বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থনীতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ শিখরে উঠার গল্প। যা রূপকথার গল্পগাঁথাকেও হার মানায়। এ সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আপনাদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার আজীবনের স্বপ্ন ছিলো ভৌগলিক মুক্তি ও অর্থনৈতিক মুক্তি। তিনি আমাদের ভৌগলিক মুক্তি এনে দিয়েছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তির কাজটি তার জীবদ্দশায় সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। কারণ সেই সুযোগটি তিনি পাননি। জাতির পিতার সেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করার দায়িত্ব নিয়েছেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি দেশের অর্থনীতির পরিমাপ করা হয় জিডিপি দিয়ে। যে দেশের জিডিপি যতো বেশি, অর্থনীতির এলাকায় সে দেশ ততো বেশি শক্তিশালী। ২০০৮ সালে আমাদের জিডিপির আকার ছিলো ৯১ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে মাত্র ১৪ বছরে সাড়ে চার গুণ বেড়ে আজ জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। ২০০৯ থেকে ২০১৯, দশ বছরে বাংলাদেশ ১৮৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে সারা বিশ্বে ১ম স্থান অর্জন করে। অর্থনীতির এলাকায় অগ্রগতির আরেকটি পরিমাপক হলো মাথাপিছু জাতীয় আয়। আমাদের মাথাপিছু আয় ৬৮৬ ডলার থেকে ৪ গুণ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮২৪ ডলার। গত ১৪ বছরে প্রায় ২ কোটি ২৭ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার মধ্যে ৭৫ লক্ষ কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। রেমিট্যান্স আয় ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয় ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে চার গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার। তা দিয়ে আমরা প্রায় সাড়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মিটাতে পারবো। অর্থনীতির এলাকায় এই পরিমাপকগুলো বলে দিচ্ছে বৈদেশিক অর্থনীতির সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি একই গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের এখন লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া। আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে যাবো।

আলোচনা সভার প্রধান আলোচক কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রেলপথ মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলছে, তখন বিএনপি-জামাত দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ উন্নয়ন চায়। তাই ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবারও সরকার গঠন করবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন, জসিম উদ্দিন, ইলিয়াস মিয়া, সামসুদ্দিন কালু, নির্মল পাল, শাহিনুল ইসলাম শাহীন, কোহিনুর বেগম।