ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৪ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বন্ধু দিবস উদযাপন শুরু হলো যেভাবে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৫১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই ও সেই জন্যই বন্ধুকে চাই।’ তাই মন খারাপ কিংবা ভালো, যেকোনো আবেগ নিমেষে পরিবর্তনের ক্ষমতা শুধু বন্ধুদের আছে। মা-বাবার সঙ্গে যে কথাগুলো বলা হয়ে ওঠে না, সে কথাগুলো বলার একমাত্র নির্ভরতার মানুষ হলো বন্ধু। যেকোনো ঋতুতে, দিনে কিংবা রাতে শুধু নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকতে পারে এই বন্ধু নামক মানুষগুলো। জীবনের সুর, তাল, ছন্দ-সব এক সুতোয় মিলিয়ে দেয় বন্ধুরা। বিভিন্ন বয়সে, ভিন্ন প্রকারে সংজ্ঞা পাল্টেই সামনে আসে জীবনের বন্ধু।

যদিও বন্ধুদের জন্য আলাদা কোনো দিনক্ষণ হয় না। তবুও দিনটিকে আরও ভিন্নভাবে উদযাপনের জন্য প্রতি বছর পৃথিবীর অনেক দেশে আগস্টের প্রথম রোববার পালিত হয় আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস। এদিন বন্ধুরা একে অপরকে উপহার দেয়। বিভিন্নভাবে উইশ করে থাকে। হাতে ফ্রেন্ডশিপ ব্রেসলেট পরিয়ে দেন। এ ছাড়া সবাই মিলে আড্ডা দিয়েও উদযাপন করা হয় দিনটি। তবে বলে রাখা ভালো যে, একেক দেশে একেক তারিখে বন্ধু দিবস পালিত হয়।

কীভাবে শুরু হলো বন্ধু দিবস উদযাপন
বন্ধু দিবস নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। শোনা যায়, ১৯৩৫ সালে আমেরিকায় এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। তার প্রতিবাদে পরের দিন তাঁর বন্ধু আত্মহত্যা করেন। দিনটি ছিল অগাস্টের প্রথম রোববার। এর পর আমেরিকান কংগ্রেস এই দিনটিকে ‘বন্ধু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

আরেকটি কাহিনি অনুসারে জানা যায়, ১৯৩০-৪০ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়েই বন্ধু দিবস পালন শুরু হয়। ১৯৩০ সালে হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল বন্ধুত্ব দিবসের আয়োজন করেন। ২ আগস্ট এই দিনটি পালনের আয়োজন করেন তিনি; যাতে সবাই একসঙ্গে মিলে বন্ধুত্বের উৎসব পালন করতে পারেন। তবে সবাই তখন বুঝতে পারেন যে, এটি গ্রিটিংস কার্ড বিক্রির কৌশল।

আবার জানা যায় ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেডের পক্ষ থেকেই প্রথম ১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের চিন্তা ডা. র‍্যামন আর্টেমিও ব্রাকোর মাথায় আসে। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তিনি গড়ে তোলেন মেরি গ্রুপ ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড। সংস্থাটি জাতি, বর্ণ, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষে নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে বন্ধু দিবসের সম্মানে, জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল কফি আনানের স্ত্রী নান আনানকে জাতিসংঘে বিশ্বের বন্ধুত্বের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উইনি পোহকে নামকরণ করেছিলেন। একেক দেশে একেক তারিখে বন্ধু দিবস পালিত হয়।

১৯৫৮ সালে প্যারাগুয়েতে প্রথম এই দিনটি সেলিব্রেট করা হয়। ডাক্তার রামন আর্টেমিও ব্রাকো ২০ জুলাই তার বন্ধু পুয়ার্ত পিনাস্কের সঙ্গে প্রথম ডিনার করে দিবসটি পালন করেন। যদিও অনেক দেশে এই দিনটি ভিন্ন ভিন্ন তারিখে পালন করা হয়। যেমন- ভারতে এই দিনটি পালন করা হয় আগস্ট মাসের প্রথম রোববার। ব্রাজিল, উরুগুয়েতে ২০ জুলাই।

জাতিসংঘের স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ইউনেস্কো কর্তৃক প্রণীত প্রস্তাবের একটি উদ্যোগ। এটি শান্তির সংস্কৃতিকে মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণের একটি গোষ্ঠী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যা সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে দ্বন্দ্ব প্রতিরোধের চেষ্টা করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯৭ সালে এটি গ্রহণ করে।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও এর পর ছড়িয়ে পড়ে দিবসটি। বন্ধু দিবসে বন্ধুদের ফুল, কার্ড, রিস্ট ব্যান্ড ইত্যাদি উপহার দিয়ে বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা জ্ঞাপন করা হয়। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ফ্রেন্ডশিপ ডে-র প্রস্তুতি। যদিও অনেকে মনে করেন শুধু একদিন কেন, রোজ হয়ে উঠুক ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’। সূত্র: ফ্রেন্ডশিপডে ডটঅর্গ, হ্যাপিফ্রেইন্ডশিপডে ডটইনফো

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বন্ধু দিবস উদযাপন শুরু হলো যেভাবে

আপডেট সময় : ১২:১২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই ও সেই জন্যই বন্ধুকে চাই।’ তাই মন খারাপ কিংবা ভালো, যেকোনো আবেগ নিমেষে পরিবর্তনের ক্ষমতা শুধু বন্ধুদের আছে। মা-বাবার সঙ্গে যে কথাগুলো বলা হয়ে ওঠে না, সে কথাগুলো বলার একমাত্র নির্ভরতার মানুষ হলো বন্ধু। যেকোনো ঋতুতে, দিনে কিংবা রাতে শুধু নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকতে পারে এই বন্ধু নামক মানুষগুলো। জীবনের সুর, তাল, ছন্দ-সব এক সুতোয় মিলিয়ে দেয় বন্ধুরা। বিভিন্ন বয়সে, ভিন্ন প্রকারে সংজ্ঞা পাল্টেই সামনে আসে জীবনের বন্ধু।

যদিও বন্ধুদের জন্য আলাদা কোনো দিনক্ষণ হয় না। তবুও দিনটিকে আরও ভিন্নভাবে উদযাপনের জন্য প্রতি বছর পৃথিবীর অনেক দেশে আগস্টের প্রথম রোববার পালিত হয় আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস। এদিন বন্ধুরা একে অপরকে উপহার দেয়। বিভিন্নভাবে উইশ করে থাকে। হাতে ফ্রেন্ডশিপ ব্রেসলেট পরিয়ে দেন। এ ছাড়া সবাই মিলে আড্ডা দিয়েও উদযাপন করা হয় দিনটি। তবে বলে রাখা ভালো যে, একেক দেশে একেক তারিখে বন্ধু দিবস পালিত হয়।

কীভাবে শুরু হলো বন্ধু দিবস উদযাপন
বন্ধু দিবস নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। শোনা যায়, ১৯৩৫ সালে আমেরিকায় এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। তার প্রতিবাদে পরের দিন তাঁর বন্ধু আত্মহত্যা করেন। দিনটি ছিল অগাস্টের প্রথম রোববার। এর পর আমেরিকান কংগ্রেস এই দিনটিকে ‘বন্ধু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

আরেকটি কাহিনি অনুসারে জানা যায়, ১৯৩০-৪০ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়েই বন্ধু দিবস পালন শুরু হয়। ১৯৩০ সালে হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল বন্ধুত্ব দিবসের আয়োজন করেন। ২ আগস্ট এই দিনটি পালনের আয়োজন করেন তিনি; যাতে সবাই একসঙ্গে মিলে বন্ধুত্বের উৎসব পালন করতে পারেন। তবে সবাই তখন বুঝতে পারেন যে, এটি গ্রিটিংস কার্ড বিক্রির কৌশল।

আবার জানা যায় ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেডের পক্ষ থেকেই প্রথম ১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের চিন্তা ডা. র‍্যামন আর্টেমিও ব্রাকোর মাথায় আসে। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তিনি গড়ে তোলেন মেরি গ্রুপ ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড। সংস্থাটি জাতি, বর্ণ, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষে নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে বন্ধু দিবসের সম্মানে, জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল কফি আনানের স্ত্রী নান আনানকে জাতিসংঘে বিশ্বের বন্ধুত্বের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উইনি পোহকে নামকরণ করেছিলেন। একেক দেশে একেক তারিখে বন্ধু দিবস পালিত হয়।

১৯৫৮ সালে প্যারাগুয়েতে প্রথম এই দিনটি সেলিব্রেট করা হয়। ডাক্তার রামন আর্টেমিও ব্রাকো ২০ জুলাই তার বন্ধু পুয়ার্ত পিনাস্কের সঙ্গে প্রথম ডিনার করে দিবসটি পালন করেন। যদিও অনেক দেশে এই দিনটি ভিন্ন ভিন্ন তারিখে পালন করা হয়। যেমন- ভারতে এই দিনটি পালন করা হয় আগস্ট মাসের প্রথম রোববার। ব্রাজিল, উরুগুয়েতে ২০ জুলাই।

জাতিসংঘের স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ইউনেস্কো কর্তৃক প্রণীত প্রস্তাবের একটি উদ্যোগ। এটি শান্তির সংস্কৃতিকে মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণের একটি গোষ্ঠী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যা সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে দ্বন্দ্ব প্রতিরোধের চেষ্টা করে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯৭ সালে এটি গ্রহণ করে।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও এর পর ছড়িয়ে পড়ে দিবসটি। বন্ধু দিবসে বন্ধুদের ফুল, কার্ড, রিস্ট ব্যান্ড ইত্যাদি উপহার দিয়ে বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা জ্ঞাপন করা হয়। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ফ্রেন্ডশিপ ডে-র প্রস্তুতি। যদিও অনেকে মনে করেন শুধু একদিন কেন, রোজ হয়ে উঠুক ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’। সূত্র: ফ্রেন্ডশিপডে ডটঅর্গ, হ্যাপিফ্রেইন্ডশিপডে ডটইনফো