ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বন্ধুত্ব নিয়ে সেরা সিনেমা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৪৫৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিনোদন ডেস্ক: জীবনের নানা অধ্যায়ে, বিভিন্ন বয়সে, ভিন্ন কর্মকাণ্ডে বারবারই সামনে আসে বন্ধুত্ব। মন খারাপ কিংবা ভালো, দুঃখ ভাগ কিংবা সুখ উদযাপন, এমনকি দুর্দিনে পরিবারের পর নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকতে পারে এই বন্ধু নামক মানুষটি। তাই তো বন্ধুত্বের অসাধারণ সব গল্প নিয়ে লেখা হয়েছে গল্প, বানানো হয়েছে সিনেমা। চলুন বন্ধু দিবসে এমন পাঁচটি সিনেমা সম্পর্কে জানা যাক।

দীপু নাম্বার টু
উচ্চবিত্ত শিক্ষিত পরিবারের সন্তান দীপু। বাবার চাকরির সুবাদে প্রায়ই তাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়। সাথে সাথে বদলাতে থাকে স্কুল। যদিও ব্যাপারটা মোটেই পছন্দ না দীপুর। কোথাও ভালো বন্ধুও জোটে না তার। তবে একবার নতুন স্কুলে দীপুর সাথে পরিচয় হয় তারিকের। মারামারি আর অকারণ ঝগড়া করা তারিকের স্বভাব। সম্পূর্ণ উল্টো স্বভাবের দীপু আর তারিক একসময় হয়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা অধিকাংশ মানুষের বিশেষ করে শিশুদের প্রিয় এই সিনেমা। প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাসের সার্থক রূপায়ন ‘দীপু নাম্বার টু’। ১৯৯৬ সালে এই উপন্যাসটিকে পর্দায় তুলে আনেন নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম।

থ্রি ইডিয়টস
বন্ধুত্ব নিয়ে সিনেমার প্রসঙ্গ উঠলে প্রথমেই মাথায় আসে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর নাম। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে পড়ুয়া তিন বন্ধুর সুখ-দুঃখের আখ্যান এই ছবি। বন্ধুত্বকে যেন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে সমাজের তিনটি ভিন্ন শ্রেণি থেকে আসা তিন যুবক রাঞ্চো, ফারহান ও রাজু। সিনেমার প্রথম ভাগে তাদের মজার সব কর্মকাণ্ড যেমন দর্শকদের হাসায়, তেমনই দ্বিতীয় অংশ দর্শকদের ফেলে দেয় ভাবনায়। অনেকের মাথায় প্রশ্ন জাগায় উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। এটি ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র।

‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমায় দেখানো হয়েছে, বন্ধুত্ব হলো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর মধ্যে একটি। রাঞ্চো, ফারহান ও রাজু তিনজনই খুব আলাদা মানুষ। কিন্তু তারা বন্ধুত্বের বন্ধনে এক। ভালো-মন্দ সবসময় একে অপরের পাশে থাকে তিন বন্ধু। একে অপরকে সাহায্য করে, একে অপরকে সমর্থন এবং একে অপরের স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করে। প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া আর পরিচালক রাজকুমার হিরানীর অসাধারণ এক উপহার ‘থ্রি ইডিয়টস’। চেতন ভগতের লেখা ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ গল্প থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমাটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে আমির খান, বোমান ইরানি, আর মাধবন ও শারমান জোশির অভিনয়।

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা
২০১১ সালে বলিউডে মুক্তি পায় জোয়া আখতার পরিচালিত ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’। বলিউডে এমন কমেডি-ড্রামা এবং একইসঙ্গে ভ্রমণকেন্দ্রিক সিনেমা খুব কমই তৈরি হয়েছে। এই ছবি আসলে বন্ধুত্বের অন্যতম প্রতীক। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ সিনেমায় দেখানো হয়, তিন বন্ধু প্রত্যেকেই নিজেদের সমস্যা নিয়ে এতটাই মশগুল যে, তারা ভুলেই যায় জীবন উদযাপনের হতে পারে। একটা সময় স্পেন ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেখানে গিয়ে তাদের জীবনে নতুন মোড় নেয়। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের পাশাপাশি জীবনকে দেখার সংজ্ঞা পাল্টে দিতে পারার মতো গল্প যেন এই ছবি। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ দেখার পর দর্শকেরা একবার হলেও নিজেদের জীবনের নতুন মানে খুঁজতে চাইবে।

হ্যারি পটার সিরিজ
হ্যারি, হারমায়োনি ও রন—জাদুর দুনিয়ার এই তিন কিশোর-কিশোরীর বন্ধুত্বের গল্পে মন ভোলেনি এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া যাবে না। ব্রিটিশ লেখক জে কে রাওলিংয়ের অনবদ্য সৃষ্টি প্রথমবারের মতো সেলুলয়েডে আসে ২০০১ সালে ক্রিস কলাম্বাসের পরিচালনায়। তাঁরই হাত ধরে এই তিন চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা বনে যান ড্যানিয়েল র্যা ডক্লিফ, এমা ওয়াটসন ও রুপার্ট গ্রিন্ট। পরবর্তী এক দশকে মুক্তি পায় এই সিরিজের আরও আটটি সিনেমা। জাদুর দুনিয়ার স্কুল হগওয়ার্টসকে ভিলেন ভলডেমর্টের হাত থেকে বাঁচাতে তিন বন্ধু হ্যারি, হারমায়োনি ও রন’র প্রতিটি অভিযান দেখার জন্য রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করে থাকতেন ভক্তরা। হ্যারি পটারের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হ্যারি তাঁর বন্ধুদের সাথে নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। কিন্তু তাঁরা সবসময় একে অপরের পাশে থাকে। হ্যারি শেষ পর্যন্ত ভিলেন ভলডেমর্টকে পরাজিত করতে সক্ষম হন। পরিশেষে তিনি একজন সাহসী এবং বীরত্বপূর্ণ জাদুকর হিসেবে পরিচিত হন। ২০১১ সালে ‘ডেথলি হ্যালোজ: পার্ট টু’ সিনেমার মাধ্যমে শেষ হয় এই ‘হ্যারি পটার’ ফ্রাঞ্চাইজিটি।

টয় স্টোরি
অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় বন্ধু জুটি সম্ভবত উডি ও বাজ। যদিও প্রথম দেখায় এক কাউবয় আর একজন নভোচারীকে খুব একটা যুতসই জুটি বলে মনে হয় না। কিন্তু ‘টয় স্টোরি’র উডি ও বাজ সেটিকে ভুল প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে তাদের অসাধারণ বন্ধুত্ব।

পিক্সারের পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘টয় স্টোরি’। এর চরিত্রগুলো দুনিয়াজোড়া মানুষের হৃদয়ে স্থান করিয়ে দিয়েছে সিনেমার পেছনের চৌকশ কারিগর আর কণ্ঠশিল্পীরা। প্রধান দুই চরিত্রে কণ্ঠ দেন খ্যাতিমান অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস ও টিম অ্যালেন। সিনেমাটির দর্শক চাহিদার কারণে এর পরও এসেছে আরও তিনটি কিস্তি।

‘টয় স্টোরি’ একটি কাল্পনিক জগতের গল্প। যেখানে খেলনাগুলো তাদের মালিকদের অনুপস্থিতিতে জীবিত হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো কাউবয় উডি ও নভোচারী বাজ। তারা তাদের মালিক ৯ বছর বয়সী অ্যান্ডির সবচেয়ে প্রিয় খেলনা। যখন অ্যান্ডির পরিবার নতুন বাড়িতে চলে যায়, তখন উডি ও বাজ হারিয়ে যায়। প্রথমে তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, কে প্রিয় খেলনা অ্যান্ডির এ নিয়ে। তবে পরে সব বিপদে একে অপরের পাশে থাকে। অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। শেষ পর্যন্ত, তারা বাড়ি খুঁজে পায় এবং অ্যান্ডির কাছে ফিরে যেতে পারে। টয় স্টোরি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, রোটেন টোমাটোস, উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ড, পিক্সার

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্ধুত্ব নিয়ে সেরা সিনেমা

আপডেট সময় : ১২:১৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৩

বিনোদন ডেস্ক: জীবনের নানা অধ্যায়ে, বিভিন্ন বয়সে, ভিন্ন কর্মকাণ্ডে বারবারই সামনে আসে বন্ধুত্ব। মন খারাপ কিংবা ভালো, দুঃখ ভাগ কিংবা সুখ উদযাপন, এমনকি দুর্দিনে পরিবারের পর নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকতে পারে এই বন্ধু নামক মানুষটি। তাই তো বন্ধুত্বের অসাধারণ সব গল্প নিয়ে লেখা হয়েছে গল্প, বানানো হয়েছে সিনেমা। চলুন বন্ধু দিবসে এমন পাঁচটি সিনেমা সম্পর্কে জানা যাক।

দীপু নাম্বার টু
উচ্চবিত্ত শিক্ষিত পরিবারের সন্তান দীপু। বাবার চাকরির সুবাদে প্রায়ই তাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়। সাথে সাথে বদলাতে থাকে স্কুল। যদিও ব্যাপারটা মোটেই পছন্দ না দীপুর। কোথাও ভালো বন্ধুও জোটে না তার। তবে একবার নতুন স্কুলে দীপুর সাথে পরিচয় হয় তারিকের। মারামারি আর অকারণ ঝগড়া করা তারিকের স্বভাব। সম্পূর্ণ উল্টো স্বভাবের দীপু আর তারিক একসময় হয়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা অধিকাংশ মানুষের বিশেষ করে শিশুদের প্রিয় এই সিনেমা। প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাসের সার্থক রূপায়ন ‘দীপু নাম্বার টু’। ১৯৯৬ সালে এই উপন্যাসটিকে পর্দায় তুলে আনেন নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম।

থ্রি ইডিয়টস
বন্ধুত্ব নিয়ে সিনেমার প্রসঙ্গ উঠলে প্রথমেই মাথায় আসে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর নাম। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে পড়ুয়া তিন বন্ধুর সুখ-দুঃখের আখ্যান এই ছবি। বন্ধুত্বকে যেন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে সমাজের তিনটি ভিন্ন শ্রেণি থেকে আসা তিন যুবক রাঞ্চো, ফারহান ও রাজু। সিনেমার প্রথম ভাগে তাদের মজার সব কর্মকাণ্ড যেমন দর্শকদের হাসায়, তেমনই দ্বিতীয় অংশ দর্শকদের ফেলে দেয় ভাবনায়। অনেকের মাথায় প্রশ্ন জাগায় উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। এটি ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র।

‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমায় দেখানো হয়েছে, বন্ধুত্ব হলো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর মধ্যে একটি। রাঞ্চো, ফারহান ও রাজু তিনজনই খুব আলাদা মানুষ। কিন্তু তারা বন্ধুত্বের বন্ধনে এক। ভালো-মন্দ সবসময় একে অপরের পাশে থাকে তিন বন্ধু। একে অপরকে সাহায্য করে, একে অপরকে সমর্থন এবং একে অপরের স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করে। প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া আর পরিচালক রাজকুমার হিরানীর অসাধারণ এক উপহার ‘থ্রি ইডিয়টস’। চেতন ভগতের লেখা ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ গল্প থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমাটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে আমির খান, বোমান ইরানি, আর মাধবন ও শারমান জোশির অভিনয়।

জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা
২০১১ সালে বলিউডে মুক্তি পায় জোয়া আখতার পরিচালিত ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’। বলিউডে এমন কমেডি-ড্রামা এবং একইসঙ্গে ভ্রমণকেন্দ্রিক সিনেমা খুব কমই তৈরি হয়েছে। এই ছবি আসলে বন্ধুত্বের অন্যতম প্রতীক। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ সিনেমায় দেখানো হয়, তিন বন্ধু প্রত্যেকেই নিজেদের সমস্যা নিয়ে এতটাই মশগুল যে, তারা ভুলেই যায় জীবন উদযাপনের হতে পারে। একটা সময় স্পেন ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সেখানে গিয়ে তাদের জীবনে নতুন মোড় নেয়। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের পাশাপাশি জীবনকে দেখার সংজ্ঞা পাল্টে দিতে পারার মতো গল্প যেন এই ছবি। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ দেখার পর দর্শকেরা একবার হলেও নিজেদের জীবনের নতুন মানে খুঁজতে চাইবে।

হ্যারি পটার সিরিজ
হ্যারি, হারমায়োনি ও রন—জাদুর দুনিয়ার এই তিন কিশোর-কিশোরীর বন্ধুত্বের গল্পে মন ভোলেনি এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া যাবে না। ব্রিটিশ লেখক জে কে রাওলিংয়ের অনবদ্য সৃষ্টি প্রথমবারের মতো সেলুলয়েডে আসে ২০০১ সালে ক্রিস কলাম্বাসের পরিচালনায়। তাঁরই হাত ধরে এই তিন চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা বনে যান ড্যানিয়েল র্যা ডক্লিফ, এমা ওয়াটসন ও রুপার্ট গ্রিন্ট। পরবর্তী এক দশকে মুক্তি পায় এই সিরিজের আরও আটটি সিনেমা। জাদুর দুনিয়ার স্কুল হগওয়ার্টসকে ভিলেন ভলডেমর্টের হাত থেকে বাঁচাতে তিন বন্ধু হ্যারি, হারমায়োনি ও রন’র প্রতিটি অভিযান দেখার জন্য রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করে থাকতেন ভক্তরা। হ্যারি পটারের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হ্যারি তাঁর বন্ধুদের সাথে নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। কিন্তু তাঁরা সবসময় একে অপরের পাশে থাকে। হ্যারি শেষ পর্যন্ত ভিলেন ভলডেমর্টকে পরাজিত করতে সক্ষম হন। পরিশেষে তিনি একজন সাহসী এবং বীরত্বপূর্ণ জাদুকর হিসেবে পরিচিত হন। ২০১১ সালে ‘ডেথলি হ্যালোজ: পার্ট টু’ সিনেমার মাধ্যমে শেষ হয় এই ‘হ্যারি পটার’ ফ্রাঞ্চাইজিটি।

টয় স্টোরি
অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় বন্ধু জুটি সম্ভবত উডি ও বাজ। যদিও প্রথম দেখায় এক কাউবয় আর একজন নভোচারীকে খুব একটা যুতসই জুটি বলে মনে হয় না। কিন্তু ‘টয় স্টোরি’র উডি ও বাজ সেটিকে ভুল প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে তাদের অসাধারণ বন্ধুত্ব।

পিক্সারের পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘টয় স্টোরি’। এর চরিত্রগুলো দুনিয়াজোড়া মানুষের হৃদয়ে স্থান করিয়ে দিয়েছে সিনেমার পেছনের চৌকশ কারিগর আর কণ্ঠশিল্পীরা। প্রধান দুই চরিত্রে কণ্ঠ দেন খ্যাতিমান অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস ও টিম অ্যালেন। সিনেমাটির দর্শক চাহিদার কারণে এর পরও এসেছে আরও তিনটি কিস্তি।

‘টয় স্টোরি’ একটি কাল্পনিক জগতের গল্প। যেখানে খেলনাগুলো তাদের মালিকদের অনুপস্থিতিতে জীবিত হয়ে ওঠে। চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো কাউবয় উডি ও নভোচারী বাজ। তারা তাদের মালিক ৯ বছর বয়সী অ্যান্ডির সবচেয়ে প্রিয় খেলনা। যখন অ্যান্ডির পরিবার নতুন বাড়িতে চলে যায়, তখন উডি ও বাজ হারিয়ে যায়। প্রথমে তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, কে প্রিয় খেলনা অ্যান্ডির এ নিয়ে। তবে পরে সব বিপদে একে অপরের পাশে থাকে। অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। শেষ পর্যন্ত, তারা বাড়ি খুঁজে পায় এবং অ্যান্ডির কাছে ফিরে যেতে পারে। টয় স্টোরি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, রোটেন টোমাটোস, উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ড, পিক্সার