ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বঙ্গবন্ধু আ.লীগকে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করেছিলেন: শেখ সেলিম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক ভিত্তি নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ১৯৪৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তখন বঙ্গবন্ধু কারাবন্দি ছিলেন। পরে তিনি কারামুক্ত হন। এরপর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক কারাবন্দি হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধুকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সাধারণ সম্পাদক হয়ে আওয়ামী লীগকে জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন তিনি। আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে মন্ত্রিসভা থেকেও পদত্যাগ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, সততা, অসাম্প্রদায়িকতার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ গড়ে উঠেছিল।

বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, ছোটবেলায় তার (বঙ্গবন্ধু) বন্ধু মালেককে হিন্দু মহাসভার গোপালগঞ্জের নেতারা মারধর করলে প্রতিবাদ করেন। উল্টো বঙ্গবন্ধুকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

বঙ্গবন্ধুর ছাত্র রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করে। পরে ক্ষমা চাওয়ার বিনিময়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা বললেও বঙ্গবন্ধু ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।

শেখ সেলিম বলেন, আদমজী জুটমিলে ৫০০ বাঙালিকে হত্যা করা হয়। তখন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন ওখানে গিয়েছেন কেন? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করতে তখন আতাউর রহমান খান, আব্দুস সালামের কাছে যান, কিন্তু কেউই রাজি হননি। পরে মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের কাছে গেলে তিনি রাজি হন। তাকে সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু সেক্রেটারি হয়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্কুল জীবন থেকেই কোনো অন্যায় মেনে নেননি। যখন স্কুলে পড়তেন তার সহপাঠী মালেককে হিন্দু মহাসভার সভাপতি সুরেন ব্যানার্জির বাড়িতে নিয়ে মারধর করে। এই খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু ছিনিয়ে আনেন। সুরেন ব্যানার্জির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং সাতদিন জেল খাটে। এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রথম কারাগার। পাকিস্তানে ২৩ বছরের শাসন আমলে ১৩ বছর তিনি কারাগারে ছিলেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য প্রথম থেকেই ছাত্রদের নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। মার্চে তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রদের নিয়ে যখন সচিবালয়ের সামনে গিয়েছিলেন তখন তিনি পুলিশের হাতে আহত হন। তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, অনেক তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বলেন ভাষা আন্দোলনে আবার শেখ মুজিবের কী অবদান। তিনিই প্রথম ব্যক্তি ভাষা আন্দোলনে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তিনিই প্রথম ব্যক্তি ভাষা আন্দোলনের জন্য আমরণ অনশন করেছিলেন। এসব জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবীদের জন্য বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অনেক ব্যাহত হয়।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সৃষ্টিশীলতার প্রতিফলন ছিল অনেক বেশি। তার কোনো লোভ লালসা ছিল না। তিনি কখনো হঠকারী রাজনীতি করতেন না। সময়ের আগে অবস্থা বুঝে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু আ.লীগকে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করেছিলেন: শেখ সেলিম

আপডেট সময় : ১২:৪১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক ভিত্তি নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ১৯৪৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তখন বঙ্গবন্ধু কারাবন্দি ছিলেন। পরে তিনি কারামুক্ত হন। এরপর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক কারাবন্দি হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধুকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সাধারণ সম্পাদক হয়ে আওয়ামী লীগকে জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন তিনি। আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে মন্ত্রিসভা থেকেও পদত্যাগ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, সততা, অসাম্প্রদায়িকতার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ গড়ে উঠেছিল।

বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, ছোটবেলায় তার (বঙ্গবন্ধু) বন্ধু মালেককে হিন্দু মহাসভার গোপালগঞ্জের নেতারা মারধর করলে প্রতিবাদ করেন। উল্টো বঙ্গবন্ধুকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

বঙ্গবন্ধুর ছাত্র রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করে। পরে ক্ষমা চাওয়ার বিনিময়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা বললেও বঙ্গবন্ধু ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।

শেখ সেলিম বলেন, আদমজী জুটমিলে ৫০০ বাঙালিকে হত্যা করা হয়। তখন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন ওখানে গিয়েছেন কেন? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করতে তখন আতাউর রহমান খান, আব্দুস সালামের কাছে যান, কিন্তু কেউই রাজি হননি। পরে মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের কাছে গেলে তিনি রাজি হন। তাকে সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু সেক্রেটারি হয়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্কুল জীবন থেকেই কোনো অন্যায় মেনে নেননি। যখন স্কুলে পড়তেন তার সহপাঠী মালেককে হিন্দু মহাসভার সভাপতি সুরেন ব্যানার্জির বাড়িতে নিয়ে মারধর করে। এই খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু ছিনিয়ে আনেন। সুরেন ব্যানার্জির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং সাতদিন জেল খাটে। এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রথম কারাগার। পাকিস্তানে ২৩ বছরের শাসন আমলে ১৩ বছর তিনি কারাগারে ছিলেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য প্রথম থেকেই ছাত্রদের নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। মার্চে তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রদের নিয়ে যখন সচিবালয়ের সামনে গিয়েছিলেন তখন তিনি পুলিশের হাতে আহত হন। তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, অনেক তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বলেন ভাষা আন্দোলনে আবার শেখ মুজিবের কী অবদান। তিনিই প্রথম ব্যক্তি ভাষা আন্দোলনে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তিনিই প্রথম ব্যক্তি ভাষা আন্দোলনের জন্য আমরণ অনশন করেছিলেন। এসব জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবীদের জন্য বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অনেক ব্যাহত হয়।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সৃষ্টিশীলতার প্রতিফলন ছিল অনেক বেশি। তার কোনো লোভ লালসা ছিল না। তিনি কখনো হঠকারী রাজনীতি করতেন না। সময়ের আগে অবস্থা বুঝে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতেন।