ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বামপন্থীদের চমক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
  • / ৪৩৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থীদের থামিয়ে দিয়ে জয় পেয়েছে বামপন্থীদের জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট। তাদের কাছে পরাজিত হয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জোট এনস্যাম্বেল এ্যালায়েন্স ও প্রথম ধাপের জয়ী উগ্র ডানপন্থি জোট।

ফ্রান্সের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ৫৭৭ আসনের পার্লামেন্টে ১৮২টি আসন পেয়েছে বাম জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থী জোট। তারা পেতে পারে ১৬৮টি আসন। আর প্রথম দফার ভোটে জয় পাওয়া ন্যাশনাল র‌্যালি ১৪৩ টি আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এরইমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ম্যাক্রোঁর জোট ও উগ্র ডানপন্থি জোট ন্যাশনাল র‌্যালির নেতারা।

ফ্রান্সে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় ২৮৯টি আসন। সেক্ষেত্রে বাম জোটকে সরকার গঠন করতে হলে অন্যদের সমর্থন নিতে হবে, তাতে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠনের সম্ভাবনাই বেশি।

গত রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত মারিন লো পেনের দল ন্যাশনাল র‌্যালি। বর্ণবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষী ইতিহাসের কারণে আরএনকে দীর্ঘ সময় ধরে দূরে সরিয়ে রেখেছিল ফ্রান্সের জনগণের বড় একটি অংশ। তবে সম্প্রতি দলটির সমর্থন বেড়ে যায়। এর পেছনে কাজ করেছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কট্টর ডানপন্থী কোনো দল দেশটিতে ক্ষমতায় বসতে পারেনি। প্রথম দফা ভোটের পর অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে আসা ন্যাশনাল র‌্যালিকে নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন ফ্রান্সের উদার ও মধ্যপন্থীরা। তাই আরএনকে ঠেকাতে বামপন্থীদের জোট এনপিই ও মাক্রোঁর জোটের মধ্যে আপস হয়। আরএনের বিরুদ্ধে পড়া ভোটগুলো যেন একজনই পান, সে জন্য এই দুই জোট মিলে দুই শতাধিক প্রার্থীকে ভোট থেকে সরিয়ে দেন। বাম ও মধ্যপন্থীদের এই কৌশলই কাজে দিয়েছে।

পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মাক্রোঁর পক্ষের নেতা ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বামপন্থীদের চমক

আপডেট সময় : ০২:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থীদের থামিয়ে দিয়ে জয় পেয়েছে বামপন্থীদের জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট। তাদের কাছে পরাজিত হয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জোট এনস্যাম্বেল এ্যালায়েন্স ও প্রথম ধাপের জয়ী উগ্র ডানপন্থি জোট।

ফ্রান্সের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ৫৭৭ আসনের পার্লামেন্টে ১৮২টি আসন পেয়েছে বাম জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থী জোট। তারা পেতে পারে ১৬৮টি আসন। আর প্রথম দফার ভোটে জয় পাওয়া ন্যাশনাল র‌্যালি ১৪৩ টি আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এরইমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ম্যাক্রোঁর জোট ও উগ্র ডানপন্থি জোট ন্যাশনাল র‌্যালির নেতারা।

ফ্রান্সে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় ২৮৯টি আসন। সেক্ষেত্রে বাম জোটকে সরকার গঠন করতে হলে অন্যদের সমর্থন নিতে হবে, তাতে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠনের সম্ভাবনাই বেশি।

গত রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত মারিন লো পেনের দল ন্যাশনাল র‌্যালি। বর্ণবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষী ইতিহাসের কারণে আরএনকে দীর্ঘ সময় ধরে দূরে সরিয়ে রেখেছিল ফ্রান্সের জনগণের বড় একটি অংশ। তবে সম্প্রতি দলটির সমর্থন বেড়ে যায়। এর পেছনে কাজ করেছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কট্টর ডানপন্থী কোনো দল দেশটিতে ক্ষমতায় বসতে পারেনি। প্রথম দফা ভোটের পর অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে আসা ন্যাশনাল র‌্যালিকে নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন ফ্রান্সের উদার ও মধ্যপন্থীরা। তাই আরএনকে ঠেকাতে বামপন্থীদের জোট এনপিই ও মাক্রোঁর জোটের মধ্যে আপস হয়। আরএনের বিরুদ্ধে পড়া ভোটগুলো যেন একজনই পান, সে জন্য এই দুই জোট মিলে দুই শতাধিক প্রার্থীকে ভোট থেকে সরিয়ে দেন। বাম ও মধ্যপন্থীদের এই কৌশলই কাজে দিয়েছে।

পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মাক্রোঁর পক্ষের নেতা ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন তিনি।