ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শিক্ষক-সহপাঠীর বিরুদ্ধে

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কুমিল্লায় জবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

।। কামাল আতাতুর্ক মিসেল।।
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪
  • / ৫২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষক-সহপাঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বষের্র শিক্ষার্থী ছিলেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টায় নিজের ফেসবুক আইডিতে ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার জন্য আম্মান সিদ্দিকী নামে তার এক সহপাঠীকে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন।

ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাও ফায়ার সার্ভিস পুকুর সংলগ্ন একটি বাসায় পরিবারের সাথে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার দিবাগত রাত দশটার দিকে বাসার ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান স্বজনরা। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকৃত ঘোষণা করেন। অবন্তিকা কুমিল্লা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রয়াত জামাল উদ্দিনের কন্যা বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার (২৪) মৃত্যুতে তার মা তাহমিনা শবনমের কান্না আর আহাজারি কিছুতেই থামছে না। মেয়ের জন্য বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। গত রোজায় স্বামী হারানোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া এই নারী একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে এখন দিশাহারা।

মৃত্যুর আগের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তাহমিনা শবনম বলেন, শুক্রবার ইফতারের পর মেয়েকে বিষন্ন দেখেছিলাম। তখন মন খারাপ কেন জানতে চাইলে অবন্তিকা শুধু বলেছিল, এমনি। কিন্তু মেয়ে যে আত্মহত্যা করবে, এটা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি আমি। মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমাকে পানি দিয়ে গেল এক গ্লাস। এর কিছুক্ষণ পর ওর রুমে ফ্যানের শব্দ না পেয়ে ডাকাডাকি করি। কোনো সাড়া মেলেনি। পরে ছেলেকে নিচে পাঠাই। ও দারোয়ানকে নিয়ে মই দিয়ে পূর্ব পাশের জানালা খুলে দেখতে পায়, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে অবন্তিকা। এরপর পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা পুলিশের একজন সদস্যসহ আমরা ওকে নামাই। এরপর কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিই। সেখান থেকে মেয়েকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মা তাহমিনা শবনমের অভিযোগ করে বলেন, অবন্তিকার ওই সহপাঠী নানাভাবে তাঁকে উৎপীড়ন করতে থাকলে এ নিয়ে তার মেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের কাছে নালিশ করেন। কিন্তু সহকারী প্রক্টর ঘটনার বিচার করেননি, উল্টো মেয়েকে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওই ছেলের পক্ষ নেন তিনি। তখন ওই ছেলে আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েন। আপত্তিকর মন্তব্য করতেন, হুমকি দিতেন। এসব ঘটনার বিচার চেয়ে না পেয়ে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বাংলা খবর বিডি’কে বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার বাবা মো. জামাল উদ্দিন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল রোজার সময় তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা শহরতলির শাসনগাছা মহাজনবাড়ি এলাকায়। অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম কুমিল্লা পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। অবন্তিকার ছোট ভাই অপূর্ব আগামীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী। অবন্তিকা নানা সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানালেন মা।

এদিকে ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার মৃত্যুকে হত্যা বলে দাবি করেছে মাবনবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে কুমিল্লার সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জোট। নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বক্তারা জবির সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকীসহ অবন্তিকার মৃত্যুর নেপথ্যে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষক-সহপাঠীর বিরুদ্ধে

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কুমিল্লায় জবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

শিক্ষক-সহপাঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বষের্র শিক্ষার্থী ছিলেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টায় নিজের ফেসবুক আইডিতে ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার জন্য আম্মান সিদ্দিকী নামে তার এক সহপাঠীকে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন।

ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাও ফায়ার সার্ভিস পুকুর সংলগ্ন একটি বাসায় পরিবারের সাথে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার দিবাগত রাত দশটার দিকে বাসার ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান স্বজনরা। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকৃত ঘোষণা করেন। অবন্তিকা কুমিল্লা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রয়াত জামাল উদ্দিনের কন্যা বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার (২৪) মৃত্যুতে তার মা তাহমিনা শবনমের কান্না আর আহাজারি কিছুতেই থামছে না। মেয়ের জন্য বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। গত রোজায় স্বামী হারানোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া এই নারী একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে এখন দিশাহারা।

মৃত্যুর আগের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তাহমিনা শবনম বলেন, শুক্রবার ইফতারের পর মেয়েকে বিষন্ন দেখেছিলাম। তখন মন খারাপ কেন জানতে চাইলে অবন্তিকা শুধু বলেছিল, এমনি। কিন্তু মেয়ে যে আত্মহত্যা করবে, এটা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি আমি। মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমাকে পানি দিয়ে গেল এক গ্লাস। এর কিছুক্ষণ পর ওর রুমে ফ্যানের শব্দ না পেয়ে ডাকাডাকি করি। কোনো সাড়া মেলেনি। পরে ছেলেকে নিচে পাঠাই। ও দারোয়ানকে নিয়ে মই দিয়ে পূর্ব পাশের জানালা খুলে দেখতে পায়, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে অবন্তিকা। এরপর পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা পুলিশের একজন সদস্যসহ আমরা ওকে নামাই। এরপর কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিই। সেখান থেকে মেয়েকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মা তাহমিনা শবনমের অভিযোগ করে বলেন, অবন্তিকার ওই সহপাঠী নানাভাবে তাঁকে উৎপীড়ন করতে থাকলে এ নিয়ে তার মেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের কাছে নালিশ করেন। কিন্তু সহকারী প্রক্টর ঘটনার বিচার করেননি, উল্টো মেয়েকে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওই ছেলের পক্ষ নেন তিনি। তখন ওই ছেলে আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েন। আপত্তিকর মন্তব্য করতেন, হুমকি দিতেন। এসব ঘটনার বিচার চেয়ে না পেয়ে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বাংলা খবর বিডি’কে বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।

ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার বাবা মো. জামাল উদ্দিন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল রোজার সময় তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা শহরতলির শাসনগাছা মহাজনবাড়ি এলাকায়। অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম কুমিল্লা পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। অবন্তিকার ছোট ভাই অপূর্ব আগামীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী। অবন্তিকা নানা সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানালেন মা।

এদিকে ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার মৃত্যুকে হত্যা বলে দাবি করেছে মাবনবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে কুমিল্লার সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জোট। নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বক্তারা জবির সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকীসহ অবন্তিকার মৃত্যুর নেপথ্যে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।