ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ফুলবাড়ীতে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ

মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪
  • / ৪৪২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চারিদিকে সবুজ পাতার ছাউনি, বাঁশের মাচার সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে বাতাশে দোল খাচ্ছে হলুদ, কালো, সবুজ রঙের তরমুজ, প্রতিটি তরমুজে বাঁধা রয়েছে নেট।

এমন দৃশ্যের দেখা মেলে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের ভিমলপুর গ্রামের একটি জমিতে। ওই এলাকার আব্দুল হামিদ নামের এক কৃষক মাচা পদ্ধতিতে ওই তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় উপজেলার ৮জন কৃষক এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের প্রদর্শনী করেছন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো এবছর উপজেলায় ১ দশমিক ৬ একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ প্রদর্শনী করা হয়েছে।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার ৮ জন কৃষক, ২০ শতক করে জমিতে এই প্রদর্শনী করেছেন। এই চাষে কৃষকদের বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশকসহ সার্বিক পরামর্শ প্রদান করছেন কৃষি অধিদপ্তর। এছাড়াও ফসল পরিচর্যার জন্য প্রতিটি কৃষককে তিন হাজার করে টাকা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। প্রদর্শনী ছাড়াও নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন অনেক কৃষক।

ভিমলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ ও হামিদুল হক জানান, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সার্বিক সহায়তা এবং পরামর্শে আমরা তরমুজ চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। তরমুজ গুলো বড় হতে শুরু করেছে, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এগুলো বাজারজাত করতে পারবো।

কৃষকরা বলেন, তরমুজ চাষে খুব একটা ঝামেলা নেই, প্রথমে মাটি তৈরী করে বীজ বপন করতে হয়। চারা গজালেই বাঁশ দিয়ে মাচা করে একটু পরিচর্যা করতে হয়। এর পর পুরো মাচায় ধিরে ধিরে গাছের বান (লতায়) ছেয়ে যায় এবং ফল আসতে শুরু করে। ফল গুলো একটু বড় হলে সেগুলেতে নেট বেঁধে দিতে হয়। গাছ লাগানোর তিন মাসের মাথায় তরমুজ বাজারজাত করা যায়। আমাদের দেখাদেখি অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তারাও আগামীতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবার এবছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকায় ১ দশমিক ৬ একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ প্রদর্শনী করা হয়েছে। কৃষকদের বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশকসহ সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার বিকেলে ভিমলপুর মাঠে তরমুজ প্রদর্শনী পরিদর্শ করেন দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের জেলা প্রশিক্ষক জাফর ইকবাল,প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক রাকিবুজ্জামান, মনিটরিং ও ইভালুয়েশন কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ রুম্মান আক্তার, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান। পরে সেখানে তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকদের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুলবাড়ীতে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ

আপডেট সময় : ০৬:০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

চারিদিকে সবুজ পাতার ছাউনি, বাঁশের মাচার সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে বাতাশে দোল খাচ্ছে হলুদ, কালো, সবুজ রঙের তরমুজ, প্রতিটি তরমুজে বাঁধা রয়েছে নেট।

এমন দৃশ্যের দেখা মেলে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের ভিমলপুর গ্রামের একটি জমিতে। ওই এলাকার আব্দুল হামিদ নামের এক কৃষক মাচা পদ্ধতিতে ওই তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় উপজেলার ৮জন কৃষক এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের প্রদর্শনী করেছন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো এবছর উপজেলায় ১ দশমিক ৬ একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ প্রদর্শনী করা হয়েছে।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার ৮ জন কৃষক, ২০ শতক করে জমিতে এই প্রদর্শনী করেছেন। এই চাষে কৃষকদের বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশকসহ সার্বিক পরামর্শ প্রদান করছেন কৃষি অধিদপ্তর। এছাড়াও ফসল পরিচর্যার জন্য প্রতিটি কৃষককে তিন হাজার করে টাকা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। প্রদর্শনী ছাড়াও নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন অনেক কৃষক।

ভিমলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ ও হামিদুল হক জানান, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সার্বিক সহায়তা এবং পরামর্শে আমরা তরমুজ চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। তরমুজ গুলো বড় হতে শুরু করেছে, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এগুলো বাজারজাত করতে পারবো।

কৃষকরা বলেন, তরমুজ চাষে খুব একটা ঝামেলা নেই, প্রথমে মাটি তৈরী করে বীজ বপন করতে হয়। চারা গজালেই বাঁশ দিয়ে মাচা করে একটু পরিচর্যা করতে হয়। এর পর পুরো মাচায় ধিরে ধিরে গাছের বান (লতায়) ছেয়ে যায় এবং ফল আসতে শুরু করে। ফল গুলো একটু বড় হলে সেগুলেতে নেট বেঁধে দিতে হয়। গাছ লাগানোর তিন মাসের মাথায় তরমুজ বাজারজাত করা যায়। আমাদের দেখাদেখি অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তারাও আগামীতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবার এবছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকায় ১ দশমিক ৬ একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ প্রদর্শনী করা হয়েছে। কৃষকদের বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশকসহ সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার বিকেলে ভিমলপুর মাঠে তরমুজ প্রদর্শনী পরিদর্শ করেন দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের জেলা প্রশিক্ষক জাফর ইকবাল,প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক রাকিবুজ্জামান, মনিটরিং ও ইভালুয়েশন কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ রুম্মান আক্তার, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান। পরে সেখানে তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকদের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

 

বাখ//আর