রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিদেশি লবিস্টদের পরামর্শে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারতের বিপক্ষে জয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন এই পারফরম্যান্স আমার জন্য সত্যিই স্মরণীয়: মিরাজ নাইজেরিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলা, ইমামসহ নিহত ১২ এম্বাপ্পের জাদুতে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স মশক নিধন কার্যক্রমে কর্মীদের অবহেলা পেলে কঠোর ব্যবস্থা : মেয়র আতিক নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ভারতের বিপক্ষে জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে রাসিক মেয়রের অভিনন্দন ১০ তারিখে বিএনপি পাকিস্তানিদের মতোই আত্মসমর্পণ করবে: তথ্যমন্ত্রী রাজশাহীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ মনি’র জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আজ অব্দি শাকিব খানের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিইনি: বুবলী রাজশাহীতে লোকাল গর্ভনমেন্ট কোভিড-১৯ রিসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন ভিত্তিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রাসিক মেয়রের সাথে লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রিসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্টের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ মিরাজের বীরত্বে রুদ্ধশ্বাস জয় বাংলাদেশের শ্রাবন্তীর বিরুদ্ধে ফের স্বামীর মামলা

প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে ১০ বছর জেল

প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে ১০ বছর জেল
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) পরিচালিত কোনও পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল উত্থাপিত হয়েছে। এছাড়া ভুয়া পরিচয়ে পরীক্ষায় অংশ নিলে দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন অধ্যাদেশ ১৯৭৭ রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নে সংসদে এ সংক্রান্ত বিল তোলা হয়েছে।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে তুলেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলটি উত্থাপনে আপত্তি তোলেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি সব ধরনের চাকরি ও মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে দাবি করে বলেন, দক্ষ জনবল নিয়োগের বিকল্প নেই। কিন্তু সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য–উপযুক্ত বিবেচিত হওয়ার পর পুলিশি যাচাইয়ের নামে ভিন্নমতের প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রতীকারের বিষয়ে আইনে কিছু নেই। তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের জন্য আলাদা আইন না করে অভিন্ন একটি আইন করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, মেডিক্যাল, এসএসসি, এইচএসসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। সম্প্রতি তথ্য সচিবকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাকে কেন বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন কথা গণমাধ্যমে এসেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হলে দলীয় বিবেচনা বাদ দিতে হবে।

হারুনের বক্তব্যের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, অতীতে প্রশ্ন ফাঁস নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিল। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালে বেশি ছিল। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে কণ্ঠভোটে হারুনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়।

বিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্ডিন্যান্সের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন এমনভাবে বহাল থাকবে যেন এটি এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একজন সভাপতি, অন্তত ৬ জন এবং সর্বোচ্চ ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে। কোনও বিভাগীয় অফিস, জেলা অফিস বা অধস্তনের অফিসের কোনও পদ যাতে এই অফিসের প্রধান বা অফিসের অন্য কোনও কর্মকর্তা কর্তৃক নিয়োগ প্রদান করা হয় এমন পদে নিয়োগের বিষয়ে কমিশনের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক হবে না। এ ছাড়া কোনও আইন দিয়ে কমিশনের আওতা বহির্ভূত রাখা হয়েছে এমন কোনও চাকরি বা পদে নিয়োগের ক্ষত্রেও পিএসসির পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক হবে না। কমিশন প্রজাতন্ত্রের জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান সাপেক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি ও শর্তাবলী নির্ধারণ করতে পারবে।

বিদ্যমান আইনে ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বা প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনও সাজার বিধান ছিল না। নতুন আইনে সেটি যুক্ত করা হয়েছে।

কোনও ব্যক্তি পরীক্ষার্থী না হয়েও নিজেকে পরীক্ষার্থী হিসেবে হাজির করলে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরীক্ষার সময় পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে বা অন্য কোনও ব্যক্তির নামে বা কোনও কল্পিত নামে পরীক্ষায় অংশ নিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে পরীক্ষার জন্য প্রণীত কোনও প্রশ্ন লেখা বা ছাপানো কাগজ বা তথ্য, পরীক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছে বলে মিথ্যা ধারণা তৈরি করে এমন কোনও প্রশ্ন লেখা কাগজ বা তথ্য, অথবা পরীক্ষার জন্য প্রণীত প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে বলে বিবেচিত হয় এমন প্রশ্ন লেখা কাগজ বা তথ্য যেকোনও উপায়ে ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণ দণ্ডণীয় অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। এই অপরাধ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হবে।

বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি কোনও পরীক্ষা সংক্রান্ত উত্তরপত্র বা এর অংশবিশেষের পরিবর্তে অন্য কোনও উত্তরপত্র বা এর অংশবিশেষ প্রতিস্থাপন করলে বা পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থী কর্তৃক লিখিত হয়নি এ ধরনের উত্তর সংবলিত অতিরিক্ত পৃষ্ঠা কোনও উত্তরপত্রের সঙ্গে সংযোজন করলে তার জন্য দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি কোনও পরীক্ষার্থীকে কোনও লিখিত উত্তর, বই, লিখিত কাগজ, পৃষ্ঠা বা এখান থেকে কোনও উদ্ধৃতি পরীক্ষার হলে সরবরাহ করলে বা মৌখিকভাবে বা যান্ত্রিক কোনও ডিভাইসের মাধ্যমে কোনও প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য সহায়তা করলে তার দণ্ড হবে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

বিলের বিধান অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি ছাড়া অন্যান্য অপরাধের সাজা মোবাইল কোর্টের আওতাভুক্ত হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করে আইন আকারে বাংলায় প্রণয়নের বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন (অফেনসেস) আইন কার্যকর আছে। এই আইনে পাবলিক পরীক্ষার সংজ্ঞায় পিএসসি আয়োজিত পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এবং পাবলিক পরীক্ষার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন আয়োজিত পরীক্ষার মিল না থাকায় প্রস্তাবিত আইনে পিএসসির আওতায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *