সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৯:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বকশীগঞ্জে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার উত্তরবঙ্গে কোনো জঙ্গি নাই : র‍্যাব মহাপরিচালক পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত সড়ক প্রকল্প পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান মীরসরাইয়ে মসজিদের জন্য ২৮ শতক জমি দান করলেন শিক্ষক আবুল কালাম বেড়েই চলছে ইজিবাইক; প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার কবলে পথচারীরা চিলমারীতে ইট ভাটায় অভিযান : ২লাখ টাকা জরিমানা পত্নীতলায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন ডিসি বিএনপি রিমোট কন্ট্রোল নেতৃত্বে চলছে : কাদের কলমাকান্দায় গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কর্মশালা অনুষ্ঠিত সাঁথিয়ায় গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু : পরিবারের দাবি হত্যা খানসামায় অনুমোদনবিহীন সার তৈরি করায় জরিমানা কৈলাশ খেরকে বোতল ছুড়লেন দর্শকরা পিএসজিকে রুখে দিল রেইমস ঝিকরগাছায় মহিলাদের সদাইপাতির দোকান উদ্বোধন সত্যিকারের হিরো খুঁজে পেলেন শাকিব খান

প্রধানমন্ত্রীর উপহারে ‘সিত্রাং জয়’

প্রধানমন্ত্রীর উপহারে ‘সিত্রাং জয়’
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সিডর, আম্ফানের মতো ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোর মানুষজন থাকতো সবসময় আতঙ্কে। দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি না থাকায় তা মোকাবিলায় ঘরবাড়ি রেখে তাদের ছুটতে হতো আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে এবার সিত্রাং মোকাবিলায় সেই চিত্র পাল্টেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্যোগ সহনীয় ঘর পাওয়া উপকূলীয় ১৯ জেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে ‘আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়নি’।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে ১৯ উপকূলীয় জেলায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯০ জন মানুষ এবং ৪৫ হাজার ৪৪২টি গবাদি পশু আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। মোট ৭ হাজার ৪৯০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪২ লাখ ৭৪ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে উপকূলীয় ১৯ জেলায় ৬১ হাজার ৩৭৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুর্যোগ সহনীয় ঘর দেওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের সময় এসব ঘর পাওয়া প্রায় ৪ লাখ মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

আশ্রয়ণের ঘরগুলো দুর্যোগ সহনীয় হওয়ায় কোনও ঘরের তেমন ক্ষতির সংবাদ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর পাওয়ায় তাদের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে। দুর্যোগের সময় মানুষ, গবাদি পশু ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।

আশ্রয়ণের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের চেয়ে তৃতীয় ধাপের ঘরগুলো অনেক বেশি টেকসই। তৃতীয় ধাপে একেকটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ ধাপে আরসিসি পিলার, গ্রেড বিমসহ বেশ কিছু বিষয় সংযোজন করা হয়।

উপকূলীয় ১৯ জেলায় মোট ৬১ হাজার ৩৭৮টি ঘরের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলায় ৩ হাজার ৮০৫, শরীয়তপুরে ২ হাজার ৬৬২, কক্সবাজারে ৩ হাজার ৬৪০, চট্টগ্রাম জেলায় ৫ হাজার ০৪৩, চাঁদপুরে ৪০৮, লক্ষ্মীপুরে ৩ হাজার ২২৮, নোয়াখালীতে ৩ হাজার ৬২৮, ফেনীতে ১ হাজার ৬৫৯, সাতক্ষীরায় ২ হাজার ৯০৬, যশোরে ২ হাজার ১৫৩, খুলনায় ৩ হাজার ৯৫০, নড়াইলে ৮২৯, বাগেরহাটে ২ হাজার ৭৯৪, ভোলায় ৩ হাজার ৫২৯, পিরোজপুরে ৪ হাজার ৮৬৭, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৮৪২, পটুয়াখালীতে ৬ হাজার ৯৪১, বরগুনায় ২ হাজার ৬০০ এবং বরিশাল জেলায় ৪ হাজার ৮৩৪ পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন কবলিত ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষে ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্প গ্রহণ করেন তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

আশ্রয়ণ এবং আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত ৫ লাখ ৭ হাজার ২৪৪ ভূমিহীন এবং গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়সহ সমাজের পিছিয়ে পড়া ও ভাসমান বিভিন্ন জনগোষ্ঠীও রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *