ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বিপাকে কয়রায় নিম্ন আয়ের মানুষ

শাহজাহান সিরাজ, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪৪২ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ, তীব্র তাপদহে পুড়ছে খুলনার কয়রার বিভিন্ন উপজেলার মানুষজন। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড় বাদলের দেখা নেই বৈশাখেও নেই বৃষ্টি। আবহাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ।

গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে হুহু করে। শহর থেকে শুরু করে গ্রামীন জীবন-কোথাও নেই স্বস্তি। তীব্র গরমের কারনে জনজীবনে চলছে এমন নাভিশ্বাস অবস্থা। গত তিন দিনে খুলনার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রবিবার (২১ এপ্রিল) ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে প্রচন্ড গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জনজীবন। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। গরমে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুসহ নানা বয়সী রোগীরা।

এমন আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি ও এর-স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কয়রা সদরে মোড়ে মোড় ছাতা টানিয়ে জুতা মেরামত করছেন সুবাস। তিনি দৈনিক খুলনাকে বলেন, প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছি। গত ৪-৫ দিন অস্বাভাবিক গরম। আমরা এখানে ছাতার নিচে বসে তালপাতার হাতপাখা দিয়ে যতটা পারি শরির ঠান্ডা করি, তবুও হয়না। আরেক জুতা মেরামতকারী নিখিল বলেন, গরমে হাসফাস অবস্থা। মানুষ বের হচ্ছে না। আয় রোজগারও কম। আগে যা রোজগার করতাম এখন তার তিন ভাগের একভাগও হচ্ছে না।

বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ম আয়ের দিনমজুর, ভ্যানচালক কিংবা দৈনিক মজুর কাজ করা শ্রমিকরা। অসহায় এসব তৃর্ণমূল জনগোষ্ঠীর প্রখর রোদে সামান্য কাজেই হাঁফিয়ে উঠছেন। তাদের শরীর পুড়ে তামাটে রং হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে ভয়াবহ এ তাপকে উপক্ষো করে কাজে মগ্ন তারা। ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় খুলনার কয়রা উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে নলকূপগুলোতে পানি উঠছে না। ফলে পানির সংকট ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। এমনিতেই কয়রা উপজেলার পুকুর-নদী-খাল-বিল বসন্তকালেই শুকিয়ে যায়।

উপজেলার মাদারবাড়ীয়া বটতলা গাছের নিচে ভ্যানের উপর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ভ্যানচালক আকবর আলী। তিনি বলেন, রোদে ভ্যান চালাতে চালাতে গলা শুকিয়ে যায়। পানি খাই ঘনঘন। সকাল থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া টেনে এখন বিশ্রাম নিচ্ছি, শরিরে আর কুলাচ্ছে না।

এদিকে অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ জীবনে চাহিদা মেটাতে বেড়েছে তরমুজ, ডাব ও কোল্ড ড্রিংকসের। চায়ের দোকানগুলোতে কোমলপানীয়, জুস, ও আইসক্রিমের বিক্রি বেড়েছে বলে জানালেন মহারাজপুর গ্রামের দোকানদার কামরুল ইসলাম ঢালী।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এম আর হাসান বলেন, তীব্র গরমে পানিশূন্যতা কিংবা হিটস্ট্রোক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটানা কাজ না করে, বিশ্রাম নিয়ে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন। পাশাপশি পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার স্যালাইন খেতে হবে। সাথে ডাবের পানি খাওয়া উচিত। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা বা টুপি পরতে হবে। প্রয়োজনে রৌদ্র থেকে এসে বিশ্রাম নিয়ে ২ থেকে ৩ বার গোসল করা যেতে পারে এবং শিশুদের ঘনঘন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বিপাকে কয়রায় নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ, তীব্র তাপদহে পুড়ছে খুলনার কয়রার বিভিন্ন উপজেলার মানুষজন। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড় বাদলের দেখা নেই বৈশাখেও নেই বৃষ্টি। আবহাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ।

গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে হুহু করে। শহর থেকে শুরু করে গ্রামীন জীবন-কোথাও নেই স্বস্তি। তীব্র গরমের কারনে জনজীবনে চলছে এমন নাভিশ্বাস অবস্থা। গত তিন দিনে খুলনার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রবিবার (২১ এপ্রিল) ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে প্রচন্ড গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জনজীবন। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। গরমে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুসহ নানা বয়সী রোগীরা।

এমন আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি ও এর-স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কয়রা সদরে মোড়ে মোড় ছাতা টানিয়ে জুতা মেরামত করছেন সুবাস। তিনি দৈনিক খুলনাকে বলেন, প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছি। গত ৪-৫ দিন অস্বাভাবিক গরম। আমরা এখানে ছাতার নিচে বসে তালপাতার হাতপাখা দিয়ে যতটা পারি শরির ঠান্ডা করি, তবুও হয়না। আরেক জুতা মেরামতকারী নিখিল বলেন, গরমে হাসফাস অবস্থা। মানুষ বের হচ্ছে না। আয় রোজগারও কম। আগে যা রোজগার করতাম এখন তার তিন ভাগের একভাগও হচ্ছে না।

বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ম আয়ের দিনমজুর, ভ্যানচালক কিংবা দৈনিক মজুর কাজ করা শ্রমিকরা। অসহায় এসব তৃর্ণমূল জনগোষ্ঠীর প্রখর রোদে সামান্য কাজেই হাঁফিয়ে উঠছেন। তাদের শরীর পুড়ে তামাটে রং হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে ভয়াবহ এ তাপকে উপক্ষো করে কাজে মগ্ন তারা। ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় খুলনার কয়রা উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে নলকূপগুলোতে পানি উঠছে না। ফলে পানির সংকট ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। এমনিতেই কয়রা উপজেলার পুকুর-নদী-খাল-বিল বসন্তকালেই শুকিয়ে যায়।

উপজেলার মাদারবাড়ীয়া বটতলা গাছের নিচে ভ্যানের উপর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ভ্যানচালক আকবর আলী। তিনি বলেন, রোদে ভ্যান চালাতে চালাতে গলা শুকিয়ে যায়। পানি খাই ঘনঘন। সকাল থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া টেনে এখন বিশ্রাম নিচ্ছি, শরিরে আর কুলাচ্ছে না।

এদিকে অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ জীবনে চাহিদা মেটাতে বেড়েছে তরমুজ, ডাব ও কোল্ড ড্রিংকসের। চায়ের দোকানগুলোতে কোমলপানীয়, জুস, ও আইসক্রিমের বিক্রি বেড়েছে বলে জানালেন মহারাজপুর গ্রামের দোকানদার কামরুল ইসলাম ঢালী।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এম আর হাসান বলেন, তীব্র গরমে পানিশূন্যতা কিংবা হিটস্ট্রোক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটানা কাজ না করে, বিশ্রাম নিয়ে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন। পাশাপশি পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার স্যালাইন খেতে হবে। সাথে ডাবের পানি খাওয়া উচিত। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা বা টুপি পরতে হবে। প্রয়োজনে রৌদ্র থেকে এসে বিশ্রাম নিয়ে ২ থেকে ৩ বার গোসল করা যেতে পারে এবং শিশুদের ঘনঘন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

 

বাখ//আর