ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পুনর্গঠনের উদ্যোগে আরও দুর্বল হচ্ছে খুলনা বিএনপি

আবু হেনা মুক্তি, খুলনা
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪
  • / ৪২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পুনর্গঠনের উদ্যোগে আরও দুর্বল হচ্ছে খুলনা বিএনপি। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশকে বাদ দিয়ে নতুন করে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এতে দলে বিভেদ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মহানগর বিএনপির নেতারা জানান, দলীয় কার্যালয়ে গত শুক্রবার মহানগর বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ২৫ জুনের মধ্যে নগরীর সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটের মাধ্যমে এই থানাগুলোতে আহবায়ক ও সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছিল। থানাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠনের পর এই থানাগুলোর অধীন ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
সভায় আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে খুলনা সদর থানার অধীন ৯ টি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই সম্মেলনে বিএনপি নেত্রী বেগম রেহানা ঈসাকে প্রধান এবং নুরুল হাসান রুবা এবং মাসুম রশিদকে সদস্য করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটি মহানগর বিএনপির ৩ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে। আহবায়ক ও সদস্য সচিব করা হয় যথাক্রমে শফিকুল আলম মনা ও শফিকুল আলম তুহিনকে। মহানগর কমিটি থেকে বাদ পড়েন এক যুগ ধরে সভাপতি পদে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করায় ওই বছর ১৩ ডিসেম্বর মঞ্জুকে শোকজ এবং ২৫ ডিসেম্বর তাকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। ক্ষোভ, কষ্ট আর অপমানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মঞ্জুর অনুসারি সহস্রাধিক নেতাকর্মী। সেই থেকে  বিএনপির পদ পদবী থেকে দূরে এই অংশের নেতারা।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৯ বছর দায়িত্বে থাকায় খুলনা মহানগর বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির বেশিরভাগ নেতাই নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী ছিলেন। আন্দোলন-কর্মসূচি পালন হয়েছে তাদের নেতৃত্বেই। যার কারণে মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। ২০২২ সালের ১ মার্চ মহানগর বিএনপির ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।  এরপর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আহ্ববায়ক কমিটি করা হয়। বিএনপির কমিটি থেকে মঞ্জু অনুসারীদের বাদ দিতে গিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ত্যাগী নেতারা বাদ পড়ে গেছেন।
দেখা গেছে, মহানগর বিএনপির বিদায়ী কমিটির সাত উপদেষ্টার কেউই নতুন কমিটিতে নেই। ১৫ জন সহসভাপতির মধ্যে কমিটিতে এসেছেন দু’জন। নগরীর পাঁচ থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাউকেই কমিটিতে রাখা হয়নি। বাদ পড়েছেন অনেক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। অথচ তাদের নেতৃত্বে বিগত ১৩ বছর সব কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ অবস্থায় ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বাদ রেখেই কমিটি তৈরি হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। যার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে দলে দুটি ধারা আরও স্পষ্ট হবে।
নগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, গত দুই বছর ধরে যারা সক্রিয়,  রাজপথে রয়েছে সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা মাঠে ছিলেন না, রাজনীতিতে নেই তারা বাদ যাবেন-এটাই স্বাভাবিক। এখানে গ্রুপিংয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক না।
তিনি বলেন,  এই উদ্যোগের ফলে নেতাকর্মীরা আরও চাঙ্গা হবে। ভবিষ্যত আন্দোলনের জন্য সবার মনোবল বাড়বে। ওয়ার্ড ও থানাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর মহানগর বিএনপির সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে মহানগর বিএনপির এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবে না মঞ্জু-মনি গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ৩ মাসের জন্য করা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সংসদ নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় খুলনার বিএনপি নেতারা মাঠে ছিল না, তারা পালিয়ে গিয়েছিল। পালিয়ে যাওয়া ব্যর্থ নেতাদের দিয়ে কোনো সফল আন্দোলন সম্ভব নয়। এজন্য পরীক্ষিত ও সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন। দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দল পুনর্গঠনের তাগিদ দিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। সেক্ষেত্রে খুলনাও বাদ যাবে না।
তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরে যে মানের নেতৃত্ব দরকার তা না থাকায় খুলনায় বিএনপি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি কর্মীদের আস্থার সংকট রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পুনর্গঠনের উদ্যোগে আরও দুর্বল হচ্ছে খুলনা বিএনপি

আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪
পুনর্গঠনের উদ্যোগে আরও দুর্বল হচ্ছে খুলনা বিএনপি। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশকে বাদ দিয়ে নতুন করে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এতে দলে বিভেদ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মহানগর বিএনপির নেতারা জানান, দলীয় কার্যালয়ে গত শুক্রবার মহানগর বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ২৫ জুনের মধ্যে নগরীর সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটের মাধ্যমে এই থানাগুলোতে আহবায়ক ও সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছিল। থানাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠনের পর এই থানাগুলোর অধীন ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
সভায় আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে খুলনা সদর থানার অধীন ৯ টি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই সম্মেলনে বিএনপি নেত্রী বেগম রেহানা ঈসাকে প্রধান এবং নুরুল হাসান রুবা এবং মাসুম রশিদকে সদস্য করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটি মহানগর বিএনপির ৩ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে। আহবায়ক ও সদস্য সচিব করা হয় যথাক্রমে শফিকুল আলম মনা ও শফিকুল আলম তুহিনকে। মহানগর কমিটি থেকে বাদ পড়েন এক যুগ ধরে সভাপতি পদে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করায় ওই বছর ১৩ ডিসেম্বর মঞ্জুকে শোকজ এবং ২৫ ডিসেম্বর তাকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। ক্ষোভ, কষ্ট আর অপমানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মঞ্জুর অনুসারি সহস্রাধিক নেতাকর্মী। সেই থেকে  বিএনপির পদ পদবী থেকে দূরে এই অংশের নেতারা।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৯ বছর দায়িত্বে থাকায় খুলনা মহানগর বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির বেশিরভাগ নেতাই নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী ছিলেন। আন্দোলন-কর্মসূচি পালন হয়েছে তাদের নেতৃত্বেই। যার কারণে মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। ২০২২ সালের ১ মার্চ মহানগর বিএনপির ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।  এরপর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আহ্ববায়ক কমিটি করা হয়। বিএনপির কমিটি থেকে মঞ্জু অনুসারীদের বাদ দিতে গিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ত্যাগী নেতারা বাদ পড়ে গেছেন।
দেখা গেছে, মহানগর বিএনপির বিদায়ী কমিটির সাত উপদেষ্টার কেউই নতুন কমিটিতে নেই। ১৫ জন সহসভাপতির মধ্যে কমিটিতে এসেছেন দু’জন। নগরীর পাঁচ থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাউকেই কমিটিতে রাখা হয়নি। বাদ পড়েছেন অনেক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। অথচ তাদের নেতৃত্বে বিগত ১৩ বছর সব কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ অবস্থায় ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বাদ রেখেই কমিটি তৈরি হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। যার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে দলে দুটি ধারা আরও স্পষ্ট হবে।
নগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, গত দুই বছর ধরে যারা সক্রিয়,  রাজপথে রয়েছে সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা মাঠে ছিলেন না, রাজনীতিতে নেই তারা বাদ যাবেন-এটাই স্বাভাবিক। এখানে গ্রুপিংয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক না।
তিনি বলেন,  এই উদ্যোগের ফলে নেতাকর্মীরা আরও চাঙ্গা হবে। ভবিষ্যত আন্দোলনের জন্য সবার মনোবল বাড়বে। ওয়ার্ড ও থানাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর মহানগর বিএনপির সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে মহানগর বিএনপির এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবে না মঞ্জু-মনি গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ৩ মাসের জন্য করা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সংসদ নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় খুলনার বিএনপি নেতারা মাঠে ছিল না, তারা পালিয়ে গিয়েছিল। পালিয়ে যাওয়া ব্যর্থ নেতাদের দিয়ে কোনো সফল আন্দোলন সম্ভব নয়। এজন্য পরীক্ষিত ও সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন। দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দল পুনর্গঠনের তাগিদ দিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। সেক্ষেত্রে খুলনাও বাদ যাবে না।
তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরে যে মানের নেতৃত্ব দরকার তা না থাকায় খুলনায় বিএনপি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি কর্মীদের আস্থার সংকট রয়েছে।