ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পাবনা জেলাকে`ক` শ্রেণির ভুমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৪৬২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
// নিজস্ব প্রতিবেদক //
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ৪র্থ পর্যায়ের ২য় ধাপে পাবনা জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৬৪৬টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাবনা জেলাকে ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন সরকার প্রধান। পাবনার বেড়া চাকলা ইউনিয়ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত হন উপকার ভোগীরা। অনুষ্ঠানে ৪র্থ পর্যায়ের ২য় ধাপে এবার পাবনার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চাটমোহরে ৭৮টি, ভাঙ্গুড়ায় ৪১টি, ফরিদপুরে ১১৩টি, সুজানগরে ৫৩টি, বেড়ায় ৩৬১টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। ইতিমধ্যে উপকারভোগী বাছাই করে তাদের কবুলিয়াত ও নামজারী সম্পন্ন হয়েছে। সেই সাথে তাদের দখলও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
পাবনা জেলাকে`ক` শ্রেণির ভুমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী
জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৩ হাজার ৯টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে প্রদান করা হয়েছে। ৪র্থ পর্যায়ে জেলায় ১ হাজার ৫১৮টি ঘর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ১ম ধাপে গত ২২ মার্চ  ৮৭২টি ঘর প্রদান করা হয়েছে। আর ২য় ধাপে প্রদান করা হলো ৬৪৬টি ঘর। এর আগে চারটি উপজেলা ঈশ্বরদী,আটঘরিয়া, সাঁথিয়া ও পাবনা সদর উপজেলাকে ইতিমধ্যে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর এবার বাকি পাঁচটি উপজেলা চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া, সুজানগরকে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
এর মাধ্যমে পুরো জেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হলো। চাকলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি,পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড.দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, রাজশাহী রেঞ্চের ডিআইজি আনিসুর রহমান,পাবনা জেলা প্রশাসক মু: আসাদুজ্জামান, পাবনা পুলিশ সুপার মুন্সি আকবর আলী,পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন। বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিস মোহা সবুর আলী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু। সুজানগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন পাবনা জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ময়ছার। নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণসহ আরও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সর্বসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
পাবনা জেলাকে`ক` শ্রেণির ভুমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী
এ সময় উপকারভোগীদের মধ্যে থেকে প্রধানমন্ত্রী সাথে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়ে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দরিদ্র ভ্যান চালক আব্দুর রাজ্জাক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমি আগে বাঁধের উপর ঘর বানিয়ে বসবাস করেছি। আপনার দেওয়া উপহারের ঘর পেয়ে আজ আমি ঝড় বৃষ্টি রোদের মাঝে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছি। অন্যর বাড়িতে যখন থাকতে হয়েছে তখন কতই না অবহেলার কথা শুনতে হয়েছে। আমরা দোয়া করি আপনি বারবার নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী লিলি বেগম বলেন,আমি চোখে দেখতে পারিনা। আজ আপনাকে দেখার খুব ইচ্ছে থাকলে ও দেখতে পারছি না। দেখতে না পারার কারণে আমার স্বামী সন্তান সহ আমাকে রেখে চলে গেছে। আমার চোখের চিকিৎসার জন্য যে টুকু সম্পদ বাড়ি ছিলো তা আমার বাবা বিক্রি করে আমার চিকিৎসা করেছে। টাকার অভাবে আর চিকিৎসা করা হয়নি। ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যর জায়গায় বসবাস করতাম। আজ আপনার দেওয়া উপহারের ঘর পেয়ে। আমি আবার ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছি। আমি চাই আপনি আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের সেবা করুন। পরে লিলি’র বক্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে জেলা প্রশাসক কে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাবনা জেলাকে`ক` শ্রেণির ভুমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অগাস্ট ২০২৩
// নিজস্ব প্রতিবেদক //
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ৪র্থ পর্যায়ের ২য় ধাপে পাবনা জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৬৪৬টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাবনা জেলাকে ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন সরকার প্রধান। পাবনার বেড়া চাকলা ইউনিয়ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত হন উপকার ভোগীরা। অনুষ্ঠানে ৪র্থ পর্যায়ের ২য় ধাপে এবার পাবনার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চাটমোহরে ৭৮টি, ভাঙ্গুড়ায় ৪১টি, ফরিদপুরে ১১৩টি, সুজানগরে ৫৩টি, বেড়ায় ৩৬১টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। ইতিমধ্যে উপকারভোগী বাছাই করে তাদের কবুলিয়াত ও নামজারী সম্পন্ন হয়েছে। সেই সাথে তাদের দখলও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
পাবনা জেলাকে`ক` শ্রেণির ভুমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী
জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৩ হাজার ৯টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে প্রদান করা হয়েছে। ৪র্থ পর্যায়ে জেলায় ১ হাজার ৫১৮টি ঘর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ১ম ধাপে গত ২২ মার্চ  ৮৭২টি ঘর প্রদান করা হয়েছে। আর ২য় ধাপে প্রদান করা হলো ৬৪৬টি ঘর। এর আগে চারটি উপজেলা ঈশ্বরদী,আটঘরিয়া, সাঁথিয়া ও পাবনা সদর উপজেলাকে ইতিমধ্যে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর এবার বাকি পাঁচটি উপজেলা চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া, সুজানগরকে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
এর মাধ্যমে পুরো জেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হলো। চাকলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি,পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড.দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, রাজশাহী রেঞ্চের ডিআইজি আনিসুর রহমান,পাবনা জেলা প্রশাসক মু: আসাদুজ্জামান, পাবনা পুলিশ সুপার মুন্সি আকবর আলী,পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আব্দুর রহিম পাকন। বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিস মোহা সবুর আলী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু। সুজানগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন পাবনা জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ময়ছার। নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণসহ আরও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সর্বসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
পাবনা জেলাকে`ক` শ্রেণির ভুমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী
এ সময় উপকারভোগীদের মধ্যে থেকে প্রধানমন্ত্রী সাথে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়ে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দরিদ্র ভ্যান চালক আব্দুর রাজ্জাক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমি আগে বাঁধের উপর ঘর বানিয়ে বসবাস করেছি। আপনার দেওয়া উপহারের ঘর পেয়ে আজ আমি ঝড় বৃষ্টি রোদের মাঝে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছি। অন্যর বাড়িতে যখন থাকতে হয়েছে তখন কতই না অবহেলার কথা শুনতে হয়েছে। আমরা দোয়া করি আপনি বারবার নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী লিলি বেগম বলেন,আমি চোখে দেখতে পারিনা। আজ আপনাকে দেখার খুব ইচ্ছে থাকলে ও দেখতে পারছি না। দেখতে না পারার কারণে আমার স্বামী সন্তান সহ আমাকে রেখে চলে গেছে। আমার চোখের চিকিৎসার জন্য যে টুকু সম্পদ বাড়ি ছিলো তা আমার বাবা বিক্রি করে আমার চিকিৎসা করেছে। টাকার অভাবে আর চিকিৎসা করা হয়নি। ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যর জায়গায় বসবাস করতাম। আজ আপনার দেওয়া উপহারের ঘর পেয়ে। আমি আবার ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছি। আমি চাই আপনি আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের সেবা করুন। পরে লিলি’র বক্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে জেলা প্রশাসক কে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।