ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পাবনার সুজানগরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আ.লীগ সভাপতির অনুষ্ঠানে সম্পাদক গ্রুপের হামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ৪৮৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার সুজানগরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে সভাপতি আব্দুল ওহাব গ্রুপের অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিনের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় চেয়ারটেবিল ও বাজারের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বুধবার দুপুরে সুজানগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক বিরোধে জড়িয়ে আছেন। এই বিরোধের জেড় ধরেই প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে দুই গ্রুপ আলাদা কর্মসুচি ঘোষণা করেন। নির্ধারিত কর্মসুচি অনুযায়ি সকালে সাধারণ সম্পাদক সমর্থকরা বাজারে আনন্দ মিছিল, আলোচনা ও কেক কাটার আয়োজন করে। এরপর অনুষ্ঠান শেষ করে তারা বাজারেই অপেক্ষা করতে থাকে। দুপুর ১২ টার দিকে সভাপতি তাঁর অনুষ্ঠান শুরু করে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও শারদীয় দূর্গপূজা উপলক্ষে উপজেলার ৫৭ টি মন্দিরে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেবার ব্যবস্থা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রী আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মো. কামরুজ্জামান উজ্জল। অনুষ্ঠানে প্রথমে আনন্দ শোভা যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আলোচনা পর্বে সভাপতি আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন বক্তব্য দেন। এরপর কেক কেটে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করা হয়। কেক কাটা শেষে সভাপতি প্রধান অতিথি কামরুজ্জামান উজ্জলসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরে সাথে নিয়ে অনুদান বিতরণ করে উপজেলা সদরের বাজারে আসেন। তারা বাজারের রানার হোন্ডা শো রুমে অনুদান বিতরণ শুরু করেন। সেখানে উপজেলার ৫৭ টি মন্দিরের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুদান বিতরণ শুরুর এক পর্যায়ে সম্পাদক শাহিনুজ্জমান শাহিনের সমর্থক  পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা রানার শো-রুমের সামনে থাকা চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে ও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় পুলিশের একটি দল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা কামরুজ্জামান উজ্জলকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায় ।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব জানান, প্রধান মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও চেয়ারম্যানরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন মন্দিরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আনন্দ ঘন এই অনুষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিনের লোকজন হামলা চালিয়েছে। হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ। পুলিশ থাকায় আমরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। আমরা অতর্কিত এই হামলা বিচার চাই।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান উজ্জল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন অনুষ্ঠানে এ ধরণের হামলা ন্যাক্কারজনক। আমরা এতে হতভম্ব হয়েছি। আমরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে হামলার সাথে যারা জড়িত পুলিশ তাদের খুজে বেড় করে আইনের আওতায় আনবে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে জানতে ফেরদৌস আলম ফিরোজের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ সম্পাদক শহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, আমি ঢাকায় আছি। কি হয়েছে জানিনা। তবে শুনেছি কিছু লোক টাকার জন্য হামলা চালিয়েছে।
সুজানগর থানার অফিসার্স ইনচার্য (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, সভাপতি আব্দুল ওহাব ও সম্পাদ শাহিনুজ্জামান শাহীন দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধে জড়িয়ে আছেন। এর জের ধরেই কিছু লোকজন হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। কেউ আহত হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাবনার সুজানগরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আ.লীগ সভাপতির অনুষ্ঠানে সম্পাদক গ্রুপের হামলা

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার সুজানগরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে সভাপতি আব্দুল ওহাব গ্রুপের অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিনের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় চেয়ারটেবিল ও বাজারের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বুধবার দুপুরে সুজানগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক বিরোধে জড়িয়ে আছেন। এই বিরোধের জেড় ধরেই প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে দুই গ্রুপ আলাদা কর্মসুচি ঘোষণা করেন। নির্ধারিত কর্মসুচি অনুযায়ি সকালে সাধারণ সম্পাদক সমর্থকরা বাজারে আনন্দ মিছিল, আলোচনা ও কেক কাটার আয়োজন করে। এরপর অনুষ্ঠান শেষ করে তারা বাজারেই অপেক্ষা করতে থাকে। দুপুর ১২ টার দিকে সভাপতি তাঁর অনুষ্ঠান শুরু করে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও শারদীয় দূর্গপূজা উপলক্ষে উপজেলার ৫৭ টি মন্দিরে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেবার ব্যবস্থা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রী আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মো. কামরুজ্জামান উজ্জল। অনুষ্ঠানে প্রথমে আনন্দ শোভা যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আলোচনা পর্বে সভাপতি আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি সহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন বক্তব্য দেন। এরপর কেক কেটে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করা হয়। কেক কাটা শেষে সভাপতি প্রধান অতিথি কামরুজ্জামান উজ্জলসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরে সাথে নিয়ে অনুদান বিতরণ করে উপজেলা সদরের বাজারে আসেন। তারা বাজারের রানার হোন্ডা শো রুমে অনুদান বিতরণ শুরু করেন। সেখানে উপজেলার ৫৭ টি মন্দিরের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুদান বিতরণ শুরুর এক পর্যায়ে সম্পাদক শাহিনুজ্জমান শাহিনের সমর্থক  পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা রানার শো-রুমের সামনে থাকা চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে ও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় পুলিশের একটি দল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা কামরুজ্জামান উজ্জলকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায় ।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব জানান, প্রধান মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও চেয়ারম্যানরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন মন্দিরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আনন্দ ঘন এই অনুষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিনের লোকজন হামলা চালিয়েছে। হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ। পুলিশ থাকায় আমরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। আমরা অতর্কিত এই হামলা বিচার চাই।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান উজ্জল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন অনুষ্ঠানে এ ধরণের হামলা ন্যাক্কারজনক। আমরা এতে হতভম্ব হয়েছি। আমরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে হামলার সাথে যারা জড়িত পুলিশ তাদের খুজে বেড় করে আইনের আওতায় আনবে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে জানতে ফেরদৌস আলম ফিরোজের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ সম্পাদক শহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, আমি ঢাকায় আছি। কি হয়েছে জানিনা। তবে শুনেছি কিছু লোক টাকার জন্য হামলা চালিয়েছে।
সুজানগর থানার অফিসার্স ইনচার্য (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, সভাপতি আব্দুল ওহাব ও সম্পাদ শাহিনুজ্জামান শাহীন দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধে জড়িয়ে আছেন। এর জের ধরেই কিছু লোকজন হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। কেউ আহত হয়নি।