ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পাঠ্যবই নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৭০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী ব্যুরো অফিস : 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বলেন, পাঠ্যবই নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আপনারা গুজবে কান দেবেন না। চিলে কান নিয়েছে বলে চিলের পেছনে না দৌঁড়ে নিজের কানে হাত দিয়ে দেখুন কান নিজের কাছে আছে কিনা।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কৃতী শিক্ষার্থীদের স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমে কোনো ভুলভ্রান্তি থাকলে তা সংশোধন করা হবে। তবে এ নিয়ে অপপ্রচার চলছে। আওয়ামী লীগ সরকার কখনো ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করেনি, করবেও না। যা ভুল হয়েছে তা সংশোধন করা হয়েছে এবং আরও করা হচ্ছে। এজন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি কাজ করছে। পাঠ্যবইয়ের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা চান এবং তা সংশোধনের আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। স্মার্ট নাগরিক গড়তে হলে প্রয়োজন স্মার্ট শিক্ষা। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন শিক্ষায় বিনিয়োগ হলো শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। তিনি সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। আমরা সেই অনুযায়ী ২০১০ এর শিক্ষানীতিকে পুনঃপ্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছি।

দীপু মনি আরো বলেন, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান থাকতে হবে, প্রয়োজন অনুসারে বদলাতে হবে। গবেষণা যেন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ইউজিসির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া যেকোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করাতে হবে। শিক্ষার্থীদের অযথা অপচয় বন্ধে আমরা চেয়েছি গুচ্ছ পদ্ধতি করতে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একমুখী শিক্ষা কিন্তু তা হয়ে গেছে বহুমুখী শিক্ষা।

তিনি আরও বলেন, কথা বলবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন কিন্তু মিথ্যাচার নয়। সত্যতা যাচাই করে কথা বলবেন। যে কেউ মিথ্যাচার করলে তাতে কান দেওয়া যাবে না। সত্যের পথটা কঠিন। স্বাধীন বাংলাদেশে মিথ্যাচারের কোনো স্থান থাকতে পারে না।

dhakapost

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হয়রানি বন্ধ করতে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করেছি। শুধু গুচ্ছ পদ্ধতি নয়, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখন ইংলিশ মিডিয়ামে শুধু উচ্চবিত্তরা না, নিম্নবিত্তরাও পড়াশোনা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে গবেষণার জায়গা। ফলে গবেষণা নিয়ে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হন মেধাবী। তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনলে তারা আরও গুণগত শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারবেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

দীপু মনি বলেন, ২০২২ সালে করোনার প্রভাব শেষ হয়নি। কাগজের সংকট, বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে নতুন বছরে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দিতে পেরেছি। বই ছাপানো নিয়ে অনেকেই কটু কথা বলছেন। (বলা হচ্ছে) আমরা ইসলামসহ পর্দা প্রথাকে হেয় করছি। বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুত্ববাদ, সমকামিতা, পৌত্তলিকতাসহ বিভিন্ন মন্দির, গির্জা বইয়ে স্থান পেয়েছে। তবে এগুলো একটাও সত্য না।

পরে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদের ৫টি শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও ৬টি শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর ১০৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করেন তিনি।

বিভিন্ন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিসহ প্রথম স্থান অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারুকলা, প্রকৌশল, বিজনেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, জীব ও ভূবিজ্ঞান, কৃষি এবং কলা অনুষদের ৯৬ জনকে ‘বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক, অগ্রণী ব্যংক’, দর্শন বিভাগের ৫ জন শিক্ষার্থীকে ‘ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ স্বর্ণপদক’, চিকিৎসা অনুষদের দুজন শিক্ষার্থীকে ‘ডা. এ কে খান স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. এ এম হুমায়ুন কবির, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অবাইদুর রহমান প্রামাণিক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও জনাব মো. মুরশেদুল কবীরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকগণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাঠ্যবই নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

রাজশাহী ব্যুরো অফিস : 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বলেন, পাঠ্যবই নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আপনারা গুজবে কান দেবেন না। চিলে কান নিয়েছে বলে চিলের পেছনে না দৌঁড়ে নিজের কানে হাত দিয়ে দেখুন কান নিজের কাছে আছে কিনা।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কৃতী শিক্ষার্থীদের স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমে কোনো ভুলভ্রান্তি থাকলে তা সংশোধন করা হবে। তবে এ নিয়ে অপপ্রচার চলছে। আওয়ামী লীগ সরকার কখনো ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করেনি, করবেও না। যা ভুল হয়েছে তা সংশোধন করা হয়েছে এবং আরও করা হচ্ছে। এজন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি কাজ করছে। পাঠ্যবইয়ের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা চান এবং তা সংশোধনের আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। স্মার্ট নাগরিক গড়তে হলে প্রয়োজন স্মার্ট শিক্ষা। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন শিক্ষায় বিনিয়োগ হলো শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। তিনি সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। আমরা সেই অনুযায়ী ২০১০ এর শিক্ষানীতিকে পুনঃপ্রচার করার উদ্যোগ নিয়েছি।

দীপু মনি আরো বলেন, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান থাকতে হবে, প্রয়োজন অনুসারে বদলাতে হবে। গবেষণা যেন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ইউজিসির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া যেকোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করাতে হবে। শিক্ষার্থীদের অযথা অপচয় বন্ধে আমরা চেয়েছি গুচ্ছ পদ্ধতি করতে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একমুখী শিক্ষা কিন্তু তা হয়ে গেছে বহুমুখী শিক্ষা।

তিনি আরও বলেন, কথা বলবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন কিন্তু মিথ্যাচার নয়। সত্যতা যাচাই করে কথা বলবেন। যে কেউ মিথ্যাচার করলে তাতে কান দেওয়া যাবে না। সত্যের পথটা কঠিন। স্বাধীন বাংলাদেশে মিথ্যাচারের কোনো স্থান থাকতে পারে না।

dhakapost

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হয়রানি বন্ধ করতে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করেছি। শুধু গুচ্ছ পদ্ধতি নয়, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখন ইংলিশ মিডিয়ামে শুধু উচ্চবিত্তরা না, নিম্নবিত্তরাও পড়াশোনা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে গবেষণার জায়গা। ফলে গবেষণা নিয়ে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হন মেধাবী। তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনলে তারা আরও গুণগত শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারবেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

দীপু মনি বলেন, ২০২২ সালে করোনার প্রভাব শেষ হয়নি। কাগজের সংকট, বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে নতুন বছরে আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দিতে পেরেছি। বই ছাপানো নিয়ে অনেকেই কটু কথা বলছেন। (বলা হচ্ছে) আমরা ইসলামসহ পর্দা প্রথাকে হেয় করছি। বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুত্ববাদ, সমকামিতা, পৌত্তলিকতাসহ বিভিন্ন মন্দির, গির্জা বইয়ে স্থান পেয়েছে। তবে এগুলো একটাও সত্য না।

পরে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদের ৫টি শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও ৬টি শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর ১০৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করেন তিনি।

বিভিন্ন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিসহ প্রথম স্থান অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারুকলা, প্রকৌশল, বিজনেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, জীব ও ভূবিজ্ঞান, কৃষি এবং কলা অনুষদের ৯৬ জনকে ‘বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক, অগ্রণী ব্যংক’, দর্শন বিভাগের ৫ জন শিক্ষার্থীকে ‘ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ স্বর্ণপদক’, চিকিৎসা অনুষদের দুজন শিক্ষার্থীকে ‘ডা. এ কে খান স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. এ এম হুমায়ুন কবির, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অবাইদুর রহমান প্রামাণিক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও জনাব মো. মুরশেদুল কবীরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকগণ।