ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পাইকগাছা হাসপাতাল যেন জীবাণুর চারণভূমি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৫০৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
// আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা প্রতিনিধি //
যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে পাইকগাছা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। উৎকট দুর্গন্ধের তীব্রতায় দিন-রাত নাক-মুখে হাত চেপে চলতে হয় রোগীর সহযোগিতায় আসা স্বজনদের। অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ও গোসলখানা বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হয় রোগিদের। যত্রতত্র ময়লার স্তূপ দেখে মনে হয় এটি রোগ নিরাময়ের কেন্দ্র নয়, জীবাণুর চারণভূমি ।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে দেখতে আসা গদাইপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ জানান, এমন নোংরা পরিবেশে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী বা স্বজনরা অজানা সংক্রামক ব্যাধি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে। সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের নিচের ড্রেনগুলোতে জমে আছে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি । যেখানকার পচা পানিতে ভেসে আছে মশা ও লার্ভা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝেগুলো অপরিষ্কার, বারান্দায় রোগী ও রোগীর স্বজনদের ফেলে দেওয়া ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ছড়ানো ছিটানো। শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা । রোগিদের জন্য ব্যবহৃত বেড, বেডসিট ও ফোমগুলো নোংরা ।
নিচতলার জরুরি বিভাগের কক্ষের দেওয়ালে বৃষ্টির পানি ঘেমে নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিবেশে চলছে পাইকগাছা হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড, প্রসূতি ওয়ার্ড, ডায়ারিয়া, ডেঙ্গু, শিশু ওয়ার্ডসহ ইমারজেন্সি রোগিদের চিকিৎসা সেবা । ডায়ারিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন বলেন, আমার অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সারাদিন থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারলাম না । বাথরুমের যা অবস্থা, দুর্গন্ধে আমি নিজেই অস্বস্তি বোধ করছি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী বলেন, দিনে একবার এক বালতি জল দিয়ে হাসপাতালের মেঝে, গোসলখানা ও শৌচাগার পরিষ্কার করা হয় মাত্র । তাতে কি আর দুর্গন্ধ দূর হয়।
কোকিলা বেগম নামে রোগির এক স্বজন বলেন, ছেলের সাথে হাসপাতালে তিনদিন থাকার পর দুর্গন্ধে আমার পেটে গ্যাস ও জ্বালা পোড়া শুরু হয়েছে।
হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তার জানান, এখানে প্রতিদিন রোগী ভর্তি, বর্হিঃবিভাগে রোগী ও রোগীর স্বজন মিলে পাঁচ শতাধিক মানুষ আসা যাওয়া করে। এরপর হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মীর সংকট রয়েছে। সেকারণে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ রক্ষা করা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের প্রধান ডা: নীতীশ চন্দ্র গোলদার বলেন, আমি স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুর্গন্ধ ও মশার বংশ বিস্তার রোধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি আরো বলেন,হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর রোগীর সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে। পরিবেশ দূষিত হলে অপারেশন হওয়া রোগীর ক্ষত স্থানে জীবাণু সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে । জীবাণুতে আক্রান্ত হতে পারে শ্বাসতন্ত্র, কিডনি এবং সংক্রামক রোগ, যা একে অপরকে ছড়ায়।
বা/খ/রা

নিউজটি শেয়ার করুন

পাইকগাছা হাসপাতাল যেন জীবাণুর চারণভূমি

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
// আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা প্রতিনিধি //
যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে পাইকগাছা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। উৎকট দুর্গন্ধের তীব্রতায় দিন-রাত নাক-মুখে হাত চেপে চলতে হয় রোগীর সহযোগিতায় আসা স্বজনদের। অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ও গোসলখানা বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হয় রোগিদের। যত্রতত্র ময়লার স্তূপ দেখে মনে হয় এটি রোগ নিরাময়ের কেন্দ্র নয়, জীবাণুর চারণভূমি ।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে দেখতে আসা গদাইপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ জানান, এমন নোংরা পরিবেশে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী বা স্বজনরা অজানা সংক্রামক ব্যাধি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে। সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের নিচের ড্রেনগুলোতে জমে আছে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি । যেখানকার পচা পানিতে ভেসে আছে মশা ও লার্ভা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝেগুলো অপরিষ্কার, বারান্দায় রোগী ও রোগীর স্বজনদের ফেলে দেওয়া ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ছড়ানো ছিটানো। শৌচাগার অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা । রোগিদের জন্য ব্যবহৃত বেড, বেডসিট ও ফোমগুলো নোংরা ।
নিচতলার জরুরি বিভাগের কক্ষের দেওয়ালে বৃষ্টির পানি ঘেমে নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিবেশে চলছে পাইকগাছা হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড, প্রসূতি ওয়ার্ড, ডায়ারিয়া, ডেঙ্গু, শিশু ওয়ার্ডসহ ইমারজেন্সি রোগিদের চিকিৎসা সেবা । ডায়ারিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন বলেন, আমার অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সারাদিন থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারলাম না । বাথরুমের যা অবস্থা, দুর্গন্ধে আমি নিজেই অস্বস্তি বোধ করছি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী বলেন, দিনে একবার এক বালতি জল দিয়ে হাসপাতালের মেঝে, গোসলখানা ও শৌচাগার পরিষ্কার করা হয় মাত্র । তাতে কি আর দুর্গন্ধ দূর হয়।
কোকিলা বেগম নামে রোগির এক স্বজন বলেন, ছেলের সাথে হাসপাতালে তিনদিন থাকার পর দুর্গন্ধে আমার পেটে গ্যাস ও জ্বালা পোড়া শুরু হয়েছে।
হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তার জানান, এখানে প্রতিদিন রোগী ভর্তি, বর্হিঃবিভাগে রোগী ও রোগীর স্বজন মিলে পাঁচ শতাধিক মানুষ আসা যাওয়া করে। এরপর হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নকর্মীর সংকট রয়েছে। সেকারণে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ রক্ষা করা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের প্রধান ডা: নীতীশ চন্দ্র গোলদার বলেন, আমি স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুর্গন্ধ ও মশার বংশ বিস্তার রোধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি আরো বলেন,হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর রোগীর সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে। পরিবেশ দূষিত হলে অপারেশন হওয়া রোগীর ক্ষত স্থানে জীবাণু সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে । জীবাণুতে আক্রান্ত হতে পারে শ্বাসতন্ত্র, কিডনি এবং সংক্রামক রোগ, যা একে অপরকে ছড়ায়।
বা/খ/রা