ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পাইকগাছায় প্রধান শিক্ষকের আচারনে শিক্ষক,কর্মচারি ও এলাকাবাসির ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩
  • / ৪৫৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
// আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা //
খুলনার পাইকগাছায় রাড়ুলী ভূবন মোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের ব্যাপারে এলাকায় নানান গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। অবিভাবক ও শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে
প্রধান শিক্ষক অনৈতিক অভিযোগ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা যায়, বিজ্ঞানী পিসি রায়ের পিতা হরিশ্চন্দ্র রায় বাংলাদেশের প্রথম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপজেলার রাড়ুলীতে ১৮৫০সালে ভূবন মোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় স্হাপন করেন। বিদ্যালয়টি সরকারি না হলেও অদ্যবধি সুনামের সাথে চলে আসছে। অত্র বিদ্যালয়ে ২০১৮সালে গৌতম চন্দ্র ঘোষ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলছিলো। সম্প্রতি আ’লীগ নেতা আরশাদ আলী বিশ্বাস অত্র বিদ্যালয়ে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র ঘোষের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক সভাপতির উপর প্রায়শই ক্ষিপ্ত থাকে। কিছুদিন পূর্বে প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র রায় ব্যাংকের ৩টি চেক ও কয়েকটি বিল ভাউচারে সভাপতির বাড়ী থেকে সই করে নিয়ে আসে। গত ৫জুন সভাপতি আরশাদ আলী বিশ্বাস বিদ্যালয়ে যেয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে চেক ও বিল ভাউচারের সইয়ের বিষয়ে রেজুলেশন খাতা দেখতে চায়। ওই সময় প্রধান শিক্ষক রেজুলেশন খাতা দেখাতে অস্বীকার করে সভাপতির সাথে অশ্লীল ভাষায় বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তখন সভাপতি অত্র বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মচারিদের ডেকে প্রধান শিক্ষক কে রেজুলেশন খাতা দেখানোর জন্য অনুরোধ করেন। সকল শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক কে রেজুলেশন খাতে দেখাতে অনুরোধ করলে প্রধান শিক্ষক বলেন রেজুলেশন খাতা বাড়ীতে। বাড়ী থেকে রেজুলেশন খাতা আনতে হবে বলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বিমল পাল ও জালাল জোয়াদ্দার কে নিয়ে তার বাড়ীতে যায়। তবে তিনি আর বিদ্যালয়ে ফিরে আসেননি বলে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান। পরবর্তীতে তারা শোনেন বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছে যা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে ৬জুন (মঙ্গলবার) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম তার নিজ দপ্তরে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কে নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার আনীত  অভিযোগের বিষয়ে অনড় থাকায় মিমাংসা সম্ভব হয়নি বিধায় নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান। এ প্রতিনিধিসহ একঝাঁক সাংবাদিক বুধবার (৭জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় সরেজমিনে গেলে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারি, অবিভাবকদের নিয়ে সভাপতি আলোচনা সভা করছিলো। আলোচনা সভায় সাংবাদিকের উপস্হিতি প্রধান শিক্ষকের এহেন আচারনে ক্ষুদ্ধ হয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মোনোয়ার হোসাইন, হাসনা হেনা, অনুপ দাশ, ভবোরঞ্জন দাশ, মকসেদ মোড়ল, মাহফুজা খাতুন, তপতী সরকার, দেব্রত দাশ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বিমল পাল, জালাল জোয়াদ্দার প্রমুখ।
বিদ্যালয়ের সভাপতি আরশাদ আলী বিশ্বাস বলেন, প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র ঘোষ যে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করলে তার প্রমান পাবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র ঘোষ সেই থেকে বিদ্যালয়ে না আসায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করায় রিসিভ না হওয়ায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মচারি, অবিভাবকসহ এলকাবাসি যথাযথ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাইকগাছায় প্রধান শিক্ষকের আচারনে শিক্ষক,কর্মচারি ও এলাকাবাসির ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩
// আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা //
খুলনার পাইকগাছায় রাড়ুলী ভূবন মোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের ব্যাপারে এলাকায় নানান গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। অবিভাবক ও শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে
প্রধান শিক্ষক অনৈতিক অভিযোগ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা যায়, বিজ্ঞানী পিসি রায়ের পিতা হরিশ্চন্দ্র রায় বাংলাদেশের প্রথম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপজেলার রাড়ুলীতে ১৮৫০সালে ভূবন মোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় স্হাপন করেন। বিদ্যালয়টি সরকারি না হলেও অদ্যবধি সুনামের সাথে চলে আসছে। অত্র বিদ্যালয়ে ২০১৮সালে গৌতম চন্দ্র ঘোষ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে প্রতিষ্ঠানটি চলছিলো। সম্প্রতি আ’লীগ নেতা আরশাদ আলী বিশ্বাস অত্র বিদ্যালয়ে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র ঘোষের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক সভাপতির উপর প্রায়শই ক্ষিপ্ত থাকে। কিছুদিন পূর্বে প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র রায় ব্যাংকের ৩টি চেক ও কয়েকটি বিল ভাউচারে সভাপতির বাড়ী থেকে সই করে নিয়ে আসে। গত ৫জুন সভাপতি আরশাদ আলী বিশ্বাস বিদ্যালয়ে যেয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে চেক ও বিল ভাউচারের সইয়ের বিষয়ে রেজুলেশন খাতা দেখতে চায়। ওই সময় প্রধান শিক্ষক রেজুলেশন খাতা দেখাতে অস্বীকার করে সভাপতির সাথে অশ্লীল ভাষায় বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তখন সভাপতি অত্র বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মচারিদের ডেকে প্রধান শিক্ষক কে রেজুলেশন খাতা দেখানোর জন্য অনুরোধ করেন। সকল শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক কে রেজুলেশন খাতে দেখাতে অনুরোধ করলে প্রধান শিক্ষক বলেন রেজুলেশন খাতা বাড়ীতে। বাড়ী থেকে রেজুলেশন খাতা আনতে হবে বলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বিমল পাল ও জালাল জোয়াদ্দার কে নিয়ে তার বাড়ীতে যায়। তবে তিনি আর বিদ্যালয়ে ফিরে আসেননি বলে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান। পরবর্তীতে তারা শোনেন বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছে যা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে ৬জুন (মঙ্গলবার) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম তার নিজ দপ্তরে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কে নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার আনীত  অভিযোগের বিষয়ে অনড় থাকায় মিমাংসা সম্ভব হয়নি বিধায় নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান। এ প্রতিনিধিসহ একঝাঁক সাংবাদিক বুধবার (৭জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় সরেজমিনে গেলে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারি, অবিভাবকদের নিয়ে সভাপতি আলোচনা সভা করছিলো। আলোচনা সভায় সাংবাদিকের উপস্হিতি প্রধান শিক্ষকের এহেন আচারনে ক্ষুদ্ধ হয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মোনোয়ার হোসাইন, হাসনা হেনা, অনুপ দাশ, ভবোরঞ্জন দাশ, মকসেদ মোড়ল, মাহফুজা খাতুন, তপতী সরকার, দেব্রত দাশ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বিমল পাল, জালাল জোয়াদ্দার প্রমুখ।
বিদ্যালয়ের সভাপতি আরশাদ আলী বিশ্বাস বলেন, প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র ঘোষ যে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করলে তার প্রমান পাবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র ঘোষ সেই থেকে বিদ্যালয়ে না আসায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করায় রিসিভ না হওয়ায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মচারি, অবিভাবকসহ এলকাবাসি যথাযথ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।