ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পরিবহন ধর্মঘটে দুই দিনের অচল খুলনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৫৭ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনা অফিস : 
দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটে অচল খুলনা। আজ শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, করিমনসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচলের প্রতিবাদে গত ১৮ অক্টোবর মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

এদিকে বাস পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দূর দূরান্তের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি বানচাল করতে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে জনগণকে জিম্মি করা হয়েছে। আমরা রাজনীতি করি না তাহলে এই দুর্ভোগ কেন পোহাবো?

অপরদিকে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, পরিবহন ধর্মঘট ডেকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও নৌপথে সকল বাহন বন্ধ করে দিলেও কাল শনিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেবে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা থেকে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আসা কুষ্টিয়ার যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়ায় জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। এসে দেখি বাস চলছে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাস ধর্মঘট ডাকা উচিত হয়নি। এতে দূর-দূরান্তের যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে।

মাগুরার যাত্রী শামসুদ্দিন বলেন, কোথাও পরিবহন ধর্মঘট নেই। রাজনৈতিক কারণে বাস ধর্মঘট ডেকে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এখন আমি কীভাবে মাগুরায় যাবো তাই ভাবছি। আমার যত কষ্টই হোক যেতে হবে।

তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল বন্ধ করা উচিত। জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে রাজনীতিবিদরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। নিত্যপণ্যের এতো দাম সে বিষয়ে কিছু করেন না কেন? বাস বা পরিবহন বন্ধ থাকলে আমরা ব্যবসা বাণিজ্য কীভাবে করব?

খুলনা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও মহাসড়কে নসিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, অতুল, ইজিবাইকসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচলের প্রতিবাদে মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ দুদিনের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হলে প্রয়োজনে আরও সময় বাড়তে পারে।

খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, আগামীকাল আমাদের বিভাগীয় গণসমাবেশ। এই সমাবেশ যেন নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হতে না পারে; এ কারণে পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আওয়ামী সরকার সবসময় এমনটা করে থাকে। তারা খারাপ কাজের নজির সৃষ্টি করছে। এটা ঠিক নয়। সব বাধাবিঘ্ন উপেক্ষা করে সমাবেশ সফল করা হবে। খুলনার গণসমাবেশ হবে জনসমুদ্র।

বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু বলেন, মাগুরা-ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে খুলনায় চলে এসেছেন। আমরা প্রস্তুত সমাবেশ সফল হবেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

পরিবহন ধর্মঘটে দুই দিনের অচল খুলনা

আপডেট সময় : ১২:৪০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২

খুলনা অফিস : 
দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটে অচল খুলনা। আজ শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, করিমনসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচলের প্রতিবাদে গত ১৮ অক্টোবর মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

এদিকে বাস পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দূর দূরান্তের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি বানচাল করতে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে জনগণকে জিম্মি করা হয়েছে। আমরা রাজনীতি করি না তাহলে এই দুর্ভোগ কেন পোহাবো?

অপরদিকে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, পরিবহন ধর্মঘট ডেকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও নৌপথে সকল বাহন বন্ধ করে দিলেও কাল শনিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেবে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা থেকে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আসা কুষ্টিয়ার যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়ায় জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। এসে দেখি বাস চলছে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাস ধর্মঘট ডাকা উচিত হয়নি। এতে দূর-দূরান্তের যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে।

মাগুরার যাত্রী শামসুদ্দিন বলেন, কোথাও পরিবহন ধর্মঘট নেই। রাজনৈতিক কারণে বাস ধর্মঘট ডেকে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এখন আমি কীভাবে মাগুরায় যাবো তাই ভাবছি। আমার যত কষ্টই হোক যেতে হবে।

তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল বন্ধ করা উচিত। জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে রাজনীতিবিদরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। নিত্যপণ্যের এতো দাম সে বিষয়ে কিছু করেন না কেন? বাস বা পরিবহন বন্ধ থাকলে আমরা ব্যবসা বাণিজ্য কীভাবে করব?

খুলনা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও মহাসড়কে নসিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, অতুল, ইজিবাইকসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচলের প্রতিবাদে মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ দুদিনের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হলে প্রয়োজনে আরও সময় বাড়তে পারে।

খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, আগামীকাল আমাদের বিভাগীয় গণসমাবেশ। এই সমাবেশ যেন নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হতে না পারে; এ কারণে পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আওয়ামী সরকার সবসময় এমনটা করে থাকে। তারা খারাপ কাজের নজির সৃষ্টি করছে। এটা ঠিক নয়। সব বাধাবিঘ্ন উপেক্ষা করে সমাবেশ সফল করা হবে। খুলনার গণসমাবেশ হবে জনসমুদ্র।

বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু বলেন, মাগুরা-ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে খুলনায় চলে এসেছেন। আমরা প্রস্তুত সমাবেশ সফল হবেই।