ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পদ্মার বুকে এখন ধু-ধু বালুচর

শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪
  • / ৪৭৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিপুল জলরাশির খরস্রোতা পদ্মার চিরচেনা রুপ আর নেই। নদীর বুকে এখন ধুধু বালুচর। যতদুর চোখ যায় শুধু বালু আর বালু। পদ্মার বালুচরে চলছে ঘোড়ার গাড়ী, ট্রাক, অটোভ্যান আর মটরসাইকেল। নানা রকম ফসলের আবাদ হচ্ছে। পদ্মা শুকিয়ে চর জেগে উঠায় পাবনা-কুষ্টিয়ার নৌযোগাযোগের একমাত্র ঘাট শিলাইদহঘাট বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শিলাইদহ ঘাটের ছয় কিলোমিটার প্রমত্ত পদ্মার পাঁচ কিলোমিটারই শুকিয়ে গেছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকীর মুখে পড়েছে।

পাবনা থেকে কুষ্টিয়ায় স্বল্প সময়ে কম খরচে যাতায়াতে শিলাইদহঘাট বহুপ্রাচীণ কাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। দু’জেলার কর্মসংস্থানসহ আর্থ সামাজিক কর্মকান্ডে ঘাটটির রয়েছে ব্যাপক গুরুত্ব। প্রতিদিন কুষ্টিয়া থেকে অসংখ্য শ্রমিক এপারের পাবনায় কাজ করতে আসেন। আবার এপারের ব্যবসায়িক পণ্য নদীপথে কুষ্টিয়ায় পরিবাহিত হয়। পাবনার তাঁতীরা নিয়মিত নদীপথেই কুমারখালি হাটে যাতায়াত করেন। আবার পদ্মার এপারে কুষ্টিয়া ওপারে পাবনার বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামের বাসিন্দাদের থানা কোটকাচারীর প্রয়োজনে প্রতিদিন শিলাইদহ ঘাট পার হতে হচ্ছে। কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ার এ ঘাট দিয়ে পারাপারকারী যাত্রীদের এখন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে শিলাইদহঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রমত্ত পদ্মায় পানির কোন চিহৃ নেই। যতদুর চোখ যায় বালি আর বালি। ঘাটের শুণ্যরেখা থেকে বালুচরের মাঝ দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। এ রাস্তার ৪ কিলোমিটার অটোভ্যানে গিয়ে নামতে হচ্ছে। তারপর বালির ওপর বেশ কিছুদুর হেটে খেয়া নৌকায় ঊঠতে হচ্ছে। খেয়া নৌকায় এক কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে তারপর শিলাইদহঘাটের ওপারে পৌঁছাতে হচ্ছে। এখানে সময় যেমন বেশি লাগছে তেমনি যাত্রিপ্রতি ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। অটোভাড়া ৩০ টাকার সাথে খেয়া নৌকায় ৩০ টাকা মিলে প্রতিযাত্রীর ৬০ টাকা দিয়ে শিলাইদহ ঘাট পার হতে হচ্ছে। যেসব শ্রমিক দৈনিক পাবনায় লেবার খাটতে আসেন তাদের শুধু ঘাটপারাপারেই ১২০ টাকা টাকা ব্যয় করতে হয়। আবার যারা এ পথে ব্যবসা করেন তারাও মালামাল পরিবহনে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ।

নদীর এপারের ব্যবসায়ি আফজাল সেখ জানান, তিনি হার্ডওয়ার পণ্য কুষ্টিয়ায় পাইকারি সরবরাহ করেন। নদীতে পানি না থাকায় মালামাল পারাপারে একদিকে যেমন ব্যয় বেড়েছে তেমনি তাকে অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি জানান, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন পর্যন্ত নদীতে পানি থাকে। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র বৈশাখ পর্যন্ত নদী একেবারেই শুকিয়ে যায়। গত ৩-৪ বছর ধরে শিলাইদহঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে কোল সৃষ্টি হওয়ায় নদীটি যেন ক্যানেলে পরিনত হচ্ছে। এবারও যেভাবে চর জাগছে তাতে কয়েকদিনের মধ্যে ঘাটযাত্রীদের ২বার করে নৌকায় পার করতে হবে বলে তিনি আশঙ্কার কথা জানান ।

ঘাটমাঝি মোঃ মোকাদ্দেস হোসেন জানান, এ বছর পানি আরও কমে যাওয়ায় এক কিলোমিটার নদীপথ পারি দিতে চর ঘুরে যেতে অনেক সময় লাগছে। এভাবে চর জাগলে কয়েকদিনের মধ্যে নদীপার হওয়া অনিশ্চিত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, ৮৫ সালের পর থেকে পদ্মায় চর জাগা শুরু হয়। এরপর প্রতিবছরই নদী সরু হতে হতে ৫-৬ বছরে যেন ক্যানেলে পরিণত হয়েছে।

ঘাট এলাকার গিয়ে দেখা যায় একের পর এক ট্রাক চরের মধ্যে ঢুকছে বালিবোঝাই করে আবার ফিরছে। বালিতোলায় নদীর বুকে অসংখ্য খালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী ভাটামালিকরা প্রতিদিন ট্রাকবোঝাই করে বালুমাটি তোলায় নদীর স্বাভাবিকত্ব নষ্ট করা হচ্ছে তেমনি আগামী বর্ষায় নদীর ভাঙন সৃষ্টির শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে বলে নদী তীরের সাধারণ অধিবাসীরা জানান। পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ায় দুপারের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কয়েকবছর আগেও যারা নৌকার মাঝি বা জেলে ছিলো তারা এখন ইটভাটাশ্রমিক ,অটোড্রাইভারসহ বিভিন্ন পেশায় জীবন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে, মরা নদীতে এখন মাছশুন্য যেমন হয়েছে তেমনি জীববৈচিত্রও ধংসপ্রায়। নদীপারের বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও শীত শেষে নদীতে বালিহাস, চখাসহ অসংখ্য প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলিতে ভরপুর ছিলো। নদীতে পানি নেই, মাছ নেই। এখন পাখিরও আনাগোনা নেই। নদীতে পানি না থাকায় তীরবর্তী জমির ফসল চাষেও মারাত্বক প্রভাব ফেলেছে। পানিরস্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এখন তেমন ফসলও হয় না। শুধু তাই নয় নদী তীরের গ্রামগুলির খাবার পানি নিয়েও দিন দিন সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে।

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুড়া, ঝিনাইদাহ, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও ফরিদপুর জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ২৫টি নদীর উৎস মুখ হচ্ছে পদ্মা। মধুমতি, নবগঙ্গা, কাজলা, মাথাবাঙ্গা, গড়াই, হিনসা, কুমার, সাগরখালি, কপোতাক্ষ, চন্দনাসহ পদ্মাসহ এর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা নদী প্রায় শুকিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন স্থানে বালু স্থায়ী মৃত্তিকায় রুপ নেয়ায় ফসল আবাদ করেছেন অনেকেই। বর্তমানে পদ্মা নদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ ব্রিজের নিচে খাস জমিতে কৃষকরা নানা রকম রবি শস্য আবাদ করেছেন।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক হাইড্রোলজি বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, পদ্মা আন্তর্জাতিক নদীর অংশ তাই পানির উৎস আমাদের হাতে নেই। প্রাকৃতিক কারণে পদ্মার যে বিপর্যয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে অপরিকল্পিত কাজকর্মে। বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। নদীর চর থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তুলে নদীকে বিপর্যস্থ করা হচ্ছে বলে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

পদ্মার বুকে এখন ধু-ধু বালুচর

আপডেট সময় : ০৬:০৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪

বিপুল জলরাশির খরস্রোতা পদ্মার চিরচেনা রুপ আর নেই। নদীর বুকে এখন ধুধু বালুচর। যতদুর চোখ যায় শুধু বালু আর বালু। পদ্মার বালুচরে চলছে ঘোড়ার গাড়ী, ট্রাক, অটোভ্যান আর মটরসাইকেল। নানা রকম ফসলের আবাদ হচ্ছে। পদ্মা শুকিয়ে চর জেগে উঠায় পাবনা-কুষ্টিয়ার নৌযোগাযোগের একমাত্র ঘাট শিলাইদহঘাট বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শিলাইদহ ঘাটের ছয় কিলোমিটার প্রমত্ত পদ্মার পাঁচ কিলোমিটারই শুকিয়ে গেছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকীর মুখে পড়েছে।

পাবনা থেকে কুষ্টিয়ায় স্বল্প সময়ে কম খরচে যাতায়াতে শিলাইদহঘাট বহুপ্রাচীণ কাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। দু’জেলার কর্মসংস্থানসহ আর্থ সামাজিক কর্মকান্ডে ঘাটটির রয়েছে ব্যাপক গুরুত্ব। প্রতিদিন কুষ্টিয়া থেকে অসংখ্য শ্রমিক এপারের পাবনায় কাজ করতে আসেন। আবার এপারের ব্যবসায়িক পণ্য নদীপথে কুষ্টিয়ায় পরিবাহিত হয়। পাবনার তাঁতীরা নিয়মিত নদীপথেই কুমারখালি হাটে যাতায়াত করেন। আবার পদ্মার এপারে কুষ্টিয়া ওপারে পাবনার বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামের বাসিন্দাদের থানা কোটকাচারীর প্রয়োজনে প্রতিদিন শিলাইদহ ঘাট পার হতে হচ্ছে। কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ার এ ঘাট দিয়ে পারাপারকারী যাত্রীদের এখন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে শিলাইদহঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রমত্ত পদ্মায় পানির কোন চিহৃ নেই। যতদুর চোখ যায় বালি আর বালি। ঘাটের শুণ্যরেখা থেকে বালুচরের মাঝ দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। এ রাস্তার ৪ কিলোমিটার অটোভ্যানে গিয়ে নামতে হচ্ছে। তারপর বালির ওপর বেশ কিছুদুর হেটে খেয়া নৌকায় ঊঠতে হচ্ছে। খেয়া নৌকায় এক কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে তারপর শিলাইদহঘাটের ওপারে পৌঁছাতে হচ্ছে। এখানে সময় যেমন বেশি লাগছে তেমনি যাত্রিপ্রতি ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। অটোভাড়া ৩০ টাকার সাথে খেয়া নৌকায় ৩০ টাকা মিলে প্রতিযাত্রীর ৬০ টাকা দিয়ে শিলাইদহ ঘাট পার হতে হচ্ছে। যেসব শ্রমিক দৈনিক পাবনায় লেবার খাটতে আসেন তাদের শুধু ঘাটপারাপারেই ১২০ টাকা টাকা ব্যয় করতে হয়। আবার যারা এ পথে ব্যবসা করেন তারাও মালামাল পরিবহনে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ।

নদীর এপারের ব্যবসায়ি আফজাল সেখ জানান, তিনি হার্ডওয়ার পণ্য কুষ্টিয়ায় পাইকারি সরবরাহ করেন। নদীতে পানি না থাকায় মালামাল পারাপারে একদিকে যেমন ব্যয় বেড়েছে তেমনি তাকে অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি জানান, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন পর্যন্ত নদীতে পানি থাকে। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র বৈশাখ পর্যন্ত নদী একেবারেই শুকিয়ে যায়। গত ৩-৪ বছর ধরে শিলাইদহঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে কোল সৃষ্টি হওয়ায় নদীটি যেন ক্যানেলে পরিনত হচ্ছে। এবারও যেভাবে চর জাগছে তাতে কয়েকদিনের মধ্যে ঘাটযাত্রীদের ২বার করে নৌকায় পার করতে হবে বলে তিনি আশঙ্কার কথা জানান ।

ঘাটমাঝি মোঃ মোকাদ্দেস হোসেন জানান, এ বছর পানি আরও কমে যাওয়ায় এক কিলোমিটার নদীপথ পারি দিতে চর ঘুরে যেতে অনেক সময় লাগছে। এভাবে চর জাগলে কয়েকদিনের মধ্যে নদীপার হওয়া অনিশ্চিত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, ৮৫ সালের পর থেকে পদ্মায় চর জাগা শুরু হয়। এরপর প্রতিবছরই নদী সরু হতে হতে ৫-৬ বছরে যেন ক্যানেলে পরিণত হয়েছে।

ঘাট এলাকার গিয়ে দেখা যায় একের পর এক ট্রাক চরের মধ্যে ঢুকছে বালিবোঝাই করে আবার ফিরছে। বালিতোলায় নদীর বুকে অসংখ্য খালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী ভাটামালিকরা প্রতিদিন ট্রাকবোঝাই করে বালুমাটি তোলায় নদীর স্বাভাবিকত্ব নষ্ট করা হচ্ছে তেমনি আগামী বর্ষায় নদীর ভাঙন সৃষ্টির শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে বলে নদী তীরের সাধারণ অধিবাসীরা জানান। পদ্মা শুকিয়ে যাওয়ায় দুপারের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কয়েকবছর আগেও যারা নৌকার মাঝি বা জেলে ছিলো তারা এখন ইটভাটাশ্রমিক ,অটোড্রাইভারসহ বিভিন্ন পেশায় জীবন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে, মরা নদীতে এখন মাছশুন্য যেমন হয়েছে তেমনি জীববৈচিত্রও ধংসপ্রায়। নদীপারের বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও শীত শেষে নদীতে বালিহাস, চখাসহ অসংখ্য প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলিতে ভরপুর ছিলো। নদীতে পানি নেই, মাছ নেই। এখন পাখিরও আনাগোনা নেই। নদীতে পানি না থাকায় তীরবর্তী জমির ফসল চাষেও মারাত্বক প্রভাব ফেলেছে। পানিরস্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এখন তেমন ফসলও হয় না। শুধু তাই নয় নদী তীরের গ্রামগুলির খাবার পানি নিয়েও দিন দিন সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে।

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুড়া, ঝিনাইদাহ, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও ফরিদপুর জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ২৫টি নদীর উৎস মুখ হচ্ছে পদ্মা। মধুমতি, নবগঙ্গা, কাজলা, মাথাবাঙ্গা, গড়াই, হিনসা, কুমার, সাগরখালি, কপোতাক্ষ, চন্দনাসহ পদ্মাসহ এর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা নদী প্রায় শুকিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন স্থানে বালু স্থায়ী মৃত্তিকায় রুপ নেয়ায় ফসল আবাদ করেছেন অনেকেই। বর্তমানে পদ্মা নদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ ব্রিজের নিচে খাস জমিতে কৃষকরা নানা রকম রবি শস্য আবাদ করেছেন।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক হাইড্রোলজি বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, পদ্মা আন্তর্জাতিক নদীর অংশ তাই পানির উৎস আমাদের হাতে নেই। প্রাকৃতিক কারণে পদ্মার যে বিপর্যয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে অপরিকল্পিত কাজকর্মে। বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। নদীর চর থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তুলে নদীকে বিপর্যস্থ করা হচ্ছে বলে ।