ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পটুয়াখালীতে রেমালের তান্ডবে নিহত আরও ২ : পানিবন্দী ৩ লাখ মানুষ : বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন

মোঃ জাকির হোসেন, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪
  • / ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে পটুয়াখালীতে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হচ্ছেন দুমকি উপজেলার জয়নাল আবেদীন হাওলাদার (৭০) ও বাউফল উপজেলার নাজিরপুর এলাকার আব্দুল করিম (৬৫)।

এনিয়ে গত দুদিনে পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড়ে মোট ৩ জনের মৃত্যু হলো।

এর মধ্যে বসত ঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে দুমকি উপজেলার নলদোয়ানি গ্রামের জয়নাল আবেদীন হাওলাদার (৭০) আজ সকাল ৭ টার দিকে মারা যান। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণে ঘরের পাশের রেন্ট্রি গাছ উপড়ে ঘরটি চাপা দেয় । এতে ঘরের মধ্যে থাকা বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীনঘটনা স্থলেই মারা যান। স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

অপরদিকে, আবদুল করিম ভিক্ষাবৃত্তি করতে বের হয়ে ভারী বর্ষণের রবিবার রাতে যে কোন সময় বাউফল শহেরর হাসপাতাল সড়কের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে আশ্রয় নিলে সেখান ঘরে চাপা পড়ে মারা যান। জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
রিমালের প্রভাবে পটুয়াখালী জেলা শহরসহ পুরো পটুয়াখালী জেলাবাসী প্লাবিত অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

একদিকে নেই বিদ্যু,পানি, রাস্তা-ঘাটসহ সব এলাকা পানিতে প্লাবিত। এ যেন বিভীষিকাময় এক জেলা। রাস্তায় পড়ে রয়েছে শত শত গাছ, তলিয়ে রয়েছে হাজার হাজার একর জমির ফসল,মাছের ঘের। মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।

গতকাল আবহাওয়া বিভাগের সতর্কীকরণ সংকেত অনুসারে মধ্যরাতের পর থেকে আঘাত হেনে ক্রমশ: স্বাভাবিক হযে যাবে। দিনের বেলায় জোয়ারের পানি বিপদসীমার এক থেকে দেড় ফুট উপরে ওঠায় সবাই ভেবেছিল দিরে মত রাতেও পানি উঠবে।

কিন্তু গতকাল মধ্যরাতে রেমাল অতিক্রম করার সময় বাতাসের তীব্রতা একদিকে যেমন বৃদ্ধি পেতে থাকে, তেমনি নদী-সাগরে ও জোয়ারের সময় একই হওয়া পানি বৃদ্ধির পরিমান বিপদসীমার তিন থেকে চারফুট উপর দিকে প্রবাহিতসহ বৃষ্টিপাতের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারনের মনে আতংক শুরু হতে থাকে।

গতরাত ২ টার কথা হয় বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজের ৭ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ বসির মৃধার সাথে। তিনি জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সাথে বাতাস এবং বৃষ্টি হচ্ছে। এখন আশ্রয় কেন্দ্রগুলিতে লোকসংখ্যা কম রয়েছে । পরবর্তিতে সকাল নয়টার পর বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে এ সময় পটুয়াখালী জেলা শহরে বড় বড় গাছ পড়তে থাকে। এমনকি জেলা প্রশাসকের বাসার দেয়ালেও বড় বড় ৪টি গাছ পরে, শহরের প্রধান উচু বিথ্যাত সেলফি সড়কসহ জেলা প্রশাসকের বাসার পাশে ফোর লেন সড়ক, সার্কিট হাউজ সড়কসহ শহরের সব সড়ক এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। এমনকি শহরের টিবি ক্লিনিক সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে পানির বৃদ্ধির কারণে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গতকাল রাতের চেয়ে আজকে দিনে ক্ষয়ক্ষতি বেশী হয়েছে। চরমোন্তাজ এবং সব বেড়ী বাধ ভেংগে গিয়েছে ৯ টি পয়েন্টে এতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ঘর ও গাছ ভেঙে পড়াসহ নানাভাবে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন আহত হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে কমপক্ষে ২০ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছিল। আজ সকালেও অনেক লোক আশ্রয় কেন্দ্রে আসে এবং অনেক লোক এখনো আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১০ ফুট পানিবৃদ্ধি পেয়ে পানপাট্রি, গোলখালি,ডাকুয়া, সদর,
গজালিয়ার ৫ টি স্পটে বেরিবাঁধ ভেংগে পানি ভিতরে প্রবেশ করে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে ৫ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ ।

আবহাওয়া বিভাগের সূত্রমতে, আজ দুপুর ১ টা ১৭ মিনিটে ১০ নম্বর সিগনেল চলাকালে ১১৪.৭ কিলোমিটার এবং গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ২১০.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো: নুর কুতুবুল আলম জানান, পটুয়াখালীতে ৩ লাখ ২৭ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে, ১ হাজার ৮’শ ৬৫টি ঘরবাড়ি আংশিক এবং ২শ’ ৩৫টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধস্ত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পটুয়াখালীতে রেমালের তান্ডবে নিহত আরও ২ : পানিবন্দী ৩ লাখ মানুষ : বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন

আপডেট সময় : ১১:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে পটুয়াখালীতে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হচ্ছেন দুমকি উপজেলার জয়নাল আবেদীন হাওলাদার (৭০) ও বাউফল উপজেলার নাজিরপুর এলাকার আব্দুল করিম (৬৫)।

এনিয়ে গত দুদিনে পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড়ে মোট ৩ জনের মৃত্যু হলো।

এর মধ্যে বসত ঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে দুমকি উপজেলার নলদোয়ানি গ্রামের জয়নাল আবেদীন হাওলাদার (৭০) আজ সকাল ৭ টার দিকে মারা যান। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণে ঘরের পাশের রেন্ট্রি গাছ উপড়ে ঘরটি চাপা দেয় । এতে ঘরের মধ্যে থাকা বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীনঘটনা স্থলেই মারা যান। স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

অপরদিকে, আবদুল করিম ভিক্ষাবৃত্তি করতে বের হয়ে ভারী বর্ষণের রবিবার রাতে যে কোন সময় বাউফল শহেরর হাসপাতাল সড়কের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে আশ্রয় নিলে সেখান ঘরে চাপা পড়ে মারা যান। জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
রিমালের প্রভাবে পটুয়াখালী জেলা শহরসহ পুরো পটুয়াখালী জেলাবাসী প্লাবিত অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

একদিকে নেই বিদ্যু,পানি, রাস্তা-ঘাটসহ সব এলাকা পানিতে প্লাবিত। এ যেন বিভীষিকাময় এক জেলা। রাস্তায় পড়ে রয়েছে শত শত গাছ, তলিয়ে রয়েছে হাজার হাজার একর জমির ফসল,মাছের ঘের। মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।

গতকাল আবহাওয়া বিভাগের সতর্কীকরণ সংকেত অনুসারে মধ্যরাতের পর থেকে আঘাত হেনে ক্রমশ: স্বাভাবিক হযে যাবে। দিনের বেলায় জোয়ারের পানি বিপদসীমার এক থেকে দেড় ফুট উপরে ওঠায় সবাই ভেবেছিল দিরে মত রাতেও পানি উঠবে।

কিন্তু গতকাল মধ্যরাতে রেমাল অতিক্রম করার সময় বাতাসের তীব্রতা একদিকে যেমন বৃদ্ধি পেতে থাকে, তেমনি নদী-সাগরে ও জোয়ারের সময় একই হওয়া পানি বৃদ্ধির পরিমান বিপদসীমার তিন থেকে চারফুট উপর দিকে প্রবাহিতসহ বৃষ্টিপাতের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারনের মনে আতংক শুরু হতে থাকে।

গতরাত ২ টার কথা হয় বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজের ৭ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ বসির মৃধার সাথে। তিনি জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সাথে বাতাস এবং বৃষ্টি হচ্ছে। এখন আশ্রয় কেন্দ্রগুলিতে লোকসংখ্যা কম রয়েছে । পরবর্তিতে সকাল নয়টার পর বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে এ সময় পটুয়াখালী জেলা শহরে বড় বড় গাছ পড়তে থাকে। এমনকি জেলা প্রশাসকের বাসার দেয়ালেও বড় বড় ৪টি গাছ পরে, শহরের প্রধান উচু বিথ্যাত সেলফি সড়কসহ জেলা প্রশাসকের বাসার পাশে ফোর লেন সড়ক, সার্কিট হাউজ সড়কসহ শহরের সব সড়ক এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। এমনকি শহরের টিবি ক্লিনিক সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে পানির বৃদ্ধির কারণে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গতকাল রাতের চেয়ে আজকে দিনে ক্ষয়ক্ষতি বেশী হয়েছে। চরমোন্তাজ এবং সব বেড়ী বাধ ভেংগে গিয়েছে ৯ টি পয়েন্টে এতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ঘর ও গাছ ভেঙে পড়াসহ নানাভাবে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন আহত হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে কমপক্ষে ২০ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছিল। আজ সকালেও অনেক লোক আশ্রয় কেন্দ্রে আসে এবং অনেক লোক এখনো আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১০ ফুট পানিবৃদ্ধি পেয়ে পানপাট্রি, গোলখালি,ডাকুয়া, সদর,
গজালিয়ার ৫ টি স্পটে বেরিবাঁধ ভেংগে পানি ভিতরে প্রবেশ করে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে ৫ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ ।

আবহাওয়া বিভাগের সূত্রমতে, আজ দুপুর ১ টা ১৭ মিনিটে ১০ নম্বর সিগনেল চলাকালে ১১৪.৭ কিলোমিটার এবং গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ২১০.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো: নুর কুতুবুল আলম জানান, পটুয়াখালীতে ৩ লাখ ২৭ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে, ১ হাজার ৮’শ ৬৫টি ঘরবাড়ি আংশিক এবং ২শ’ ৩৫টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধস্ত হয়েছে।