ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের বুকে কাঁপন : রিজভী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৭২ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের বাঁধভাঙা উত্তাল স্রোত দেখে নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের বুকে কাঁপন ধরেছে। মাত্র দুটি গণসমাবেশ দেখেই বিনা ভোটের সরকারের মন্ত্রীরা প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, গত ১৪ বছর ধরে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার মানুষ সর্বশক্তি নিয়ে সারা দেশে জেগে ওঠেছে। গুম, খুন, অপহরণ, হামলা-মামলা, জুলুম করে এত দিন মানুষকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। জনগণ আর ঘরে বসে মাফিয়া সরকারের হাতে অসহায়ের মতো জান-মালহারা হতে চায় না। জনগণ এবার আটঘাট বেঁধে শেষ প্রস্তুতি নিয়েই রাজপথে নেমে এসেছে। তারা স্লোগান তুলেছে, ‘হটাও মাফিয়া বাঁচাও দেশ– টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।

তিনি বলেন, ভোটাধিকারের দাবিতে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে জনগণের বাঁধভাঙা উত্তাল স্রোত দেখে নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের বুকে কাঁপন ধরেছে। আমাদের মাত্র দুটি গণসমাবেশ দেখেই বিনা ভোটের সরকারের মন্ত্রীরা প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন।

‘চট্টগ্রামে জব্বারের বলি খেলায় যে সংখ্যক লোকসমাগম হয়, বিএনপির সমাবেশে তাও হয়নি। বিএনপি হাঁকডাক করে মহাসমাবেশ নাম দিয়ে একটি ফ্লপ সমাবেশ করেছে।’ – তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন কথার জবাবে রিজভী বলেন, এই ‘হাছান মাহমুদ সাহেবকে’ জনগণ কেন ‘হাসাও মাহমুদ’ বলে, বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম নিয়ে মন্তব্য করে তিনি এর যথার্থতা প্রমাণ করেছেন। জব্বারের বলি খেলা দেখতে জড়ো হওয়া মানুষ আর শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে জড়ো হওয়া মানুষের মধ্যে যারা পার্থক্য বোঝে না, এ ধরনের নেতা-মন্ত্রীদেরই বলে ‘হবু চন্দ্র রাজার গবু চন্দ্র মন্ত্রী’।

বিএনপি ঢাকায় ১০ লাখ লোকসমাগম করলে আওয়ামী লীগ ৩০ লাখ লোকসমাগম করতে পারবে ওবায়দুল কাদেরের এমন কথার জবাবে বিএনপির এ নেতা বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবদের জানা উচিত, জনগণ চিড়িয়াখানার প্রাণী নয়। বিএনপি মানুষ জড়ো করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত নয়। বিএনপির এই গণসমাবেশ মানুষের ভোটাধিকার আদায়ের জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, স্বাভাবিক জীবনের গ্যারান্টির জন্য, যা আপনারা কেড়ে নিয়েছেন। আপনাদের দেড় যুগের দুঃশাসনে দেয়ালে পিঠ ঠেকে এখন রাজপথে নেমে এসেছে সারা দেশের মানুষ।

তিনি আওয়ামী লীগের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা যদি ব্যাপক লোকসমাগম করতে পারেন, তবে নিশিরাতে ভোট ডাকাতি কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ভোট করতে হয় কেন? ভোটের দুই তিন মাস আগে থেকে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন কেন, অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেন কেন, গুম ও ক্রসফায়ারের আশ্রয় নেন কেন?

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে বলছেন, দুর্ভিক্ষ আসছে। আপনি যে রাষ্ট্রনায়ক নন, আপনি যে আওয়ামীনায়ক, আপনার এ কথায় আবার প্রমাণ করলেন, রাষ্ট্রের বারোটা বাজিয়ে এখন আপনি জনগণকে উপদেশ দিচ্ছেন ভেন্নার তেল দিয়ে কুপি ও হারিকেন জ্বালানোর প্রস্তুতি নিতে। দেশের সম্পদ লুটেপুটে খেয়ে দেশটাকে ধংস করে এখন বলছেন আদিম যুগে ফিরে যেতে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ভেসে গেছে বঙ্গোপসাগরে। ১৪ বছর দেশ চালিয়ে দেশটাকে ভেন্নাগাছে তুলে এখন তাদের বাচাল গল্পবাজ মন্ত্রীরা আর ইউরোপ-আমেরিকা-সিঙ্গাপুরের গল্প শোনায় না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে টেনে রিজভী আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ২০০৩ সালে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে ন্যাটো বাহিনীর যুদ্ধে আরও কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তখন খালেদা জিয়ার সরকার সবকিছু স্বাভাবিক রেখেছিলেন। এখন যুদ্ধ চলছে সাত সাগর তেরো নদীর ওপারে আর তখন যুদ্ধ চলছিল এই এশিয়ায় আমাদের কাছেই। কই তখন তো বেগম জিয়া জনগণের ওপর প্রভাব পড়তে দেননি।

এ সময় রিজভী ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশে আসার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বিএনপি নেতাদের ওপর মামলা দায়ের করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শারাফাত আলী সপুসহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের বুকে কাঁপন : রিজভী

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণের বাঁধভাঙা উত্তাল স্রোত দেখে নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের বুকে কাঁপন ধরেছে। মাত্র দুটি গণসমাবেশ দেখেই বিনা ভোটের সরকারের মন্ত্রীরা প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, গত ১৪ বছর ধরে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার মানুষ সর্বশক্তি নিয়ে সারা দেশে জেগে ওঠেছে। গুম, খুন, অপহরণ, হামলা-মামলা, জুলুম করে এত দিন মানুষকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। জনগণ আর ঘরে বসে মাফিয়া সরকারের হাতে অসহায়ের মতো জান-মালহারা হতে চায় না। জনগণ এবার আটঘাট বেঁধে শেষ প্রস্তুতি নিয়েই রাজপথে নেমে এসেছে। তারা স্লোগান তুলেছে, ‘হটাও মাফিয়া বাঁচাও দেশ– টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।

তিনি বলেন, ভোটাধিকারের দাবিতে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে জনগণের বাঁধভাঙা উত্তাল স্রোত দেখে নিশিরাতের সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের বুকে কাঁপন ধরেছে। আমাদের মাত্র দুটি গণসমাবেশ দেখেই বিনা ভোটের সরকারের মন্ত্রীরা প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন।

‘চট্টগ্রামে জব্বারের বলি খেলায় যে সংখ্যক লোকসমাগম হয়, বিএনপির সমাবেশে তাও হয়নি। বিএনপি হাঁকডাক করে মহাসমাবেশ নাম দিয়ে একটি ফ্লপ সমাবেশ করেছে।’ – তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন কথার জবাবে রিজভী বলেন, এই ‘হাছান মাহমুদ সাহেবকে’ জনগণ কেন ‘হাসাও মাহমুদ’ বলে, বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম নিয়ে মন্তব্য করে তিনি এর যথার্থতা প্রমাণ করেছেন। জব্বারের বলি খেলা দেখতে জড়ো হওয়া মানুষ আর শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে জড়ো হওয়া মানুষের মধ্যে যারা পার্থক্য বোঝে না, এ ধরনের নেতা-মন্ত্রীদেরই বলে ‘হবু চন্দ্র রাজার গবু চন্দ্র মন্ত্রী’।

বিএনপি ঢাকায় ১০ লাখ লোকসমাগম করলে আওয়ামী লীগ ৩০ লাখ লোকসমাগম করতে পারবে ওবায়দুল কাদেরের এমন কথার জবাবে বিএনপির এ নেতা বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবদের জানা উচিত, জনগণ চিড়িয়াখানার প্রাণী নয়। বিএনপি মানুষ জড়ো করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত নয়। বিএনপির এই গণসমাবেশ মানুষের ভোটাধিকার আদায়ের জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, স্বাভাবিক জীবনের গ্যারান্টির জন্য, যা আপনারা কেড়ে নিয়েছেন। আপনাদের দেড় যুগের দুঃশাসনে দেয়ালে পিঠ ঠেকে এখন রাজপথে নেমে এসেছে সারা দেশের মানুষ।

তিনি আওয়ামী লীগের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা যদি ব্যাপক লোকসমাগম করতে পারেন, তবে নিশিরাতে ভোট ডাকাতি কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ভোট করতে হয় কেন? ভোটের দুই তিন মাস আগে থেকে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন কেন, অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেন কেন, গুম ও ক্রসফায়ারের আশ্রয় নেন কেন?

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে বলছেন, দুর্ভিক্ষ আসছে। আপনি যে রাষ্ট্রনায়ক নন, আপনি যে আওয়ামীনায়ক, আপনার এ কথায় আবার প্রমাণ করলেন, রাষ্ট্রের বারোটা বাজিয়ে এখন আপনি জনগণকে উপদেশ দিচ্ছেন ভেন্নার তেল দিয়ে কুপি ও হারিকেন জ্বালানোর প্রস্তুতি নিতে। দেশের সম্পদ লুটেপুটে খেয়ে দেশটাকে ধংস করে এখন বলছেন আদিম যুগে ফিরে যেতে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ভেসে গেছে বঙ্গোপসাগরে। ১৪ বছর দেশ চালিয়ে দেশটাকে ভেন্নাগাছে তুলে এখন তাদের বাচাল গল্পবাজ মন্ত্রীরা আর ইউরোপ-আমেরিকা-সিঙ্গাপুরের গল্প শোনায় না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে টেনে রিজভী আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ২০০৩ সালে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে ন্যাটো বাহিনীর যুদ্ধে আরও কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তখন খালেদা জিয়ার সরকার সবকিছু স্বাভাবিক রেখেছিলেন। এখন যুদ্ধ চলছে সাত সাগর তেরো নদীর ওপারে আর তখন যুদ্ধ চলছিল এই এশিয়ায় আমাদের কাছেই। কই তখন তো বেগম জিয়া জনগণের ওপর প্রভাব পড়তে দেননি।

এ সময় রিজভী ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশে আসার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বিএনপি নেতাদের ওপর মামলা দায়ের করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শারাফাত আলী সপুসহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী।