বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কাদের ঋণ দিচ্ছে ব্যাংক, জানাতে হবে ওয়েবসাইটে: হাইকোর্ট রাজধানীর মাদকবিরোধী অভিযান গ্রেফতার ২৫ ম্যারাডোনা খুব খুশি হবেন: মেসি সেরে উঠেছেন নেইমার, ফিরছেন শেষ ষোলোতেই! গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত : প্রতিমন্ত্রী স্থায়ী জামিন পেলেন ভোরের পাতার সম্পাদক এরতেজা হাসান ৯৪ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন জোড়া লাগা নুহা-নুবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী তিতাসে ৩২শ কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠিত  অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন পাবনা পুলিশ সুপার যমুনা-হুরাসাগরে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস দিয়ে রাতের আধারে মাছ শিকার বিজয়ের মাস শুরু সৌদি আরবকে হারিয়েও নক আউটে যেতে পারলো না মেক্সিকো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক  : 

গেল বার গ্রুপ পর্বে ভারতকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টের ফেভারিট হিসেবে দেখা শুরু করেছিলেন অনেকেই। তবে সেবার সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিদায়ঘণ্টা বেজেছিল বাবর আজমের দলের। ২০২১ সালের সেই আক্ষেপ ২০২২ সালে এসে ঘুচিয়েছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে।

সিডনিতে বুধবার (৯ নভেম্বর) ব্ল্যাক ক্যাপসদের দেয়া ১৫৩ রান তাড়া করতে নেমে ৫ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

সিডনির গ্যালারিতে পাকিস্তানের এক সমর্থক ইংরেজিতে ‘হিস্ট্রি রিপিট’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। টেলিভিশনের সম্প্রচার ক্যামেরা ম্যাচের মাঝে মাঝে সেটাকেও ফোকাস দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত পাক সমর্থকের আশা পূরণ হয়েছে। পুনরাবৃত্তি হয়েছে ৩০ বছর আগের ইতিহাসের।

চলতি আসরে পাকিস্তান শেষ চারে ওঠেছে নেদারল্যান্ডসের কল্যাণে। সেটা অকপটে স্বীকার করেছেন দলটির মেন্টর ম্যাথু হেইডেন নিজেও। সুপার টুয়েলভে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যদি ডাচরা না হারাতো, তাহলে এতক্ষণে বাড়ির পথে থাকতো বাবর বাহিনী।

অন্যদিকে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দুর্দান্ত নিউজিল্যান্ড। সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচেই তারা স্বাগতিক ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারায় বড় ব্যবধানে। সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গ্রুপ-১ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে পা রাখে কেন উইলিয়ামসনরা। অথচ ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে সে কিউইদের বিপক্ষে বেশ দাপুটে ধুঁকতে ধুঁকতে শেষ চারে পা রাখা পাকিস্তান। এ যেন ৩০ বছর আগে ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে।

সে বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মার্টিন ক্রোর নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান। বাবরদের মতো সেবারও ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ধুঁকতে ধুঁকতে শিরোপার মঞ্চে উঠেই বাজিমাত করেছিল। সবকিছু ঠিক থাকলে তিন দশক পর আবারও সে ঘটনার পুনর্মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে।

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বেশ দাপুটে পাকিস্তান। আসরজুড়ে বিবর্ণ পারফরম্যান্সে সমালোচিত দুই পাক ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন এই এক ম্যাচেই। ১৫৩ রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে তারাই দলকে এনে দেন ১০৫ রান। দলকে জয়ের ভীত গড়ে দিয়ে ৪২ বলে ৫৩ রান করে আউট হন বাবর। ক্যারিয়ারের ৩০তম ফিফটি হাঁকানো ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭ বাউন্ডারিতে।

অন্যদিকে দল যখন নিশ্চিত জয়ের পথে তখন বিদায় নেন রিজওয়ানও। ৪৩ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৫৭ রান করে আউট হন তিনি। দুজনকেই সাজঘরে ফেরান ট্রেন্ট বোল্ট। এরপর মোহাম্মদ হারিস বাকি দায়িত্বটা সামলে জয়ের জন্য যখন ৭ বলে ২ রান প্রয়োজন তখন স্যান্টনারের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তিনি ২৬ বলে ২ চার ও এ ছক্কায় ৩০ রান করেন। ৭ উইকেটের জয়ে ফাইনালে পা রাখে পাকিস্তান। কিউইদের পক্ষে ট্রেন্ট বোল্ট ৩৩ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন। ২৬ রান খরচায় একটি উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেন মিচেল স্যান্টনার।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। দলীয় পঞ্চাশের আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে কিউইরা। সিডনির মাঠ রানপ্রসবা জানাই ছিল। শাহিন আফ্রিদির ইনিংসের প্রথম বলেই মিড অন দিয়ে চার মেরে ঝড় তোলার বার্তাও দিয়েছিলেন কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন। তবে পরের বলে পুরোপুরি পরাস্ত। এলবিডব্লিউর আবেদন উঠতেই বেশ খানিকটা সময় নিয়ে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার মারাইস ইরাসমাস।

তবে আল্ট্রা-এজে ছিল স্পষ্ট স্পাইক; সে দফা রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান অ্যালেন। ঠিক পরের বলে আবার ফুল লেংথে, আবারও লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে মিস করেন অ্যালেন। এবারও ইরাসমাস আউট দিতে সময় নেননি খুব একটা। অ্যালেন রিভিউ করেছিলেন, তবে লাভ হয়নি তাতে।

অ্যালেনের আউটের পর ডেভন কনওয়েকে নিয়ে শুরুর চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টায় ছিলেন দলীয় কান্ডারি কেন উইলিয়ামসন। তবে পাক পেসারদের তোপের মুখে উইকেট বাঁচাতে গিয়ে মাঝে ১৮ বল বাউন্ডারিশূন্য ছিল। তবুও ইনিংসটা যখন এগোচ্ছিল, তখন আবারও ধাক্কা। ২০ বলে ২১ রান করে সাজঘরে ফেরেন ডেভন কনওয়ে। সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙেছেন শাদাব খান।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে অবশ্য চাপ সামলে দলকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান উইলিয়ামসন ও মিচেল। তবে পাক বোলারদের ওপর খুব একটা আধিপত্য করতে পারেননি তারা। প্রথম বাউন্ডারি পেতে উইলিয়ামসনকে মোকাবিলা করতে হয় ২৯টি বল। দুজনের জুটিতে আসে ৬৮ রান। দলীয় ১১৭ রানে শাহিন আফ্রিদিকে স্কুপ খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন উইলিয়ামসন।

সাজঘরে ফেরেন ক্যারিয়ারের ১৭তম ফিফটি থেকে ৪ রান দূরে থেকে। ৪২ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ করেন তিনি। তবে একপ্রান্ত আগলে ধরে ৩২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন ড্যারেল মিচেল। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এ ব্যাটার। শেষদিকে নেমে জেমস নিশাম ১২ বলে ১৬ রান করে। তাতে ১৫২ রানে থামে তাদের ইনিংস।

পাকিস্তানের পক্ষে শাহিন শাহ আফ্রিদি ২৪ রান খরচায় ২টি উইকেট তুলে নেন। একটি উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ নেওয়াজ। উইকেট তুলতে ২ ওভারে তার খরচ ১২ রান।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *