ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নিঃস্বার্থভাবে যদি কেউ পাশে দাঁড়ান, তাতে  কোন আপত্তি নেই তনুর

অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হেরে গেলো দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাও !

ঈশ্বরদী থেকে ফিরে রাজেশ দত্ত, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪
  • / ৪৯৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বিরল রেটিনাজণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে  শতকরা ৯৫ ভাগ দৃষ্টিশক্তি জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ১৪ বছর আগেই ! ভিক্ষাবৃত্তিকে এড়িয়ে ও পরনির্ভরশীলতার নাগপাশ ডিঙ্গিয়ে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মনোবলকে কাজে লাগিয়েও সমাজের সুস্থ্য আর দশ জন মানুষের মতোই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবার-িপরিজন নিয়ে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা যায় – এমনটি শুনতে কল্পবাক্য মনে হলেও কখনও কখনও কঠিন বাস্তবতা  রূপকথার কল্পকাহিনফকেও হার মানায় ! যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করার উপায় নেই!
হ্যাঁ! অবিশ্বাস্য হলেও তেমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার নতুন রূপপুর মহল্লার মরহুম আকাত আলী মোল্লার ছেলে, বিসমিল্লাহ কনফেকশনারির মালিক,  দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আত্মপ্রত্যয়ী যুবক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম তনু।
সমাজের আর দশ জন মানুষের মতো, তনুও চান সুন্দর এ পৃথিবীর রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ নিতে। কিন্তু, নিয়তির নির্মম পরিহাস আর অর্থের অভাব- আজও তনুর সেই চাওয়া, পাওয়া, আশা, আকাঙ্খার অন্তরায় হয়েই আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে।
টাকার অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে না পারলেও কারও করুণা বা দয়ার পাত্র হতে চান না তনু। আর এ কারণেই দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই দোকানে কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি।  স্ত্রী শেফালী আর ছেলে আশিক সময় দেয়ায় দোকানের ভেতরেই বাকি সময় একটু ঘুমিয়ে নেন তিনি। দেখতে দেখতে ঠিক এভাবেই ১৪টি মূল্যবান বছর হারিয়ে গেছে তার জীবন থেকে !
তনুর বেচাকেনার ধরনও বেশ অদ্ভূদ ও  আশ্চর্যের ! চোখে বিন্দু বিসর্গ দেখতে না পারলেও অর্ডার করা মাত্রই সেই খাবারই দোকানের যথাস্থান থেকে বের করে ক্রেতার হাতে নিমিষেই তুলে দিতে পারেন তিনি । আর পাওনা টাকা রেখে সাইজ হিসেবে সনাক্ত করে বাদবাকি টাকাও ঠিকঠাক ফেরত দিতে পারেন ক্রেতাদেরকে।
জানা গেছে, চোখের যে বিরল রোগে তনু দৃষ্টি হারিয়েছেন, কোটিতে সেই রোগীর সংখ্যা মাত্র দুই এক জন। ২০১৯ সালে বিরল এ রোগের চিকিৎসার জন্য তনু ভারত গেলেও ব্যায়ের জোগান দিতে না পারায় দেশে চলে আসেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তনুর চিকিৎসার জন্য ভারতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আর নেপালে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন যা তার দরিদ্র পরিবাবের পক্ষে যোগান দেয়া আজও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই চোখের চিকিৎসা করানোও হয়নি।
‘পৃথিবীর সুস্থ্য আর সবার মতো, তনুও চান দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে ; কিন্তু,  কারও দয়া বা করুণায় নয়! তবে নিঃস্বার্থভাবে যদি কেউ পাশে দাঁড়ান, তাতে  কোন আপত্তি নেই  তার!’ -বাংলা খবর বিডি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি। তার সাথে যোগাযোগের ফোন নাম্বার – শুন্য এক সাত ছয় সাত- এক তিন দুই চার আট আট (০১৭৬৭-১৩২৪৮৮)।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিঃস্বার্থভাবে যদি কেউ পাশে দাঁড়ান, তাতে  কোন আপত্তি নেই তনুর

অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হেরে গেলো দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাও !

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪
বিরল রেটিনাজণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে  শতকরা ৯৫ ভাগ দৃষ্টিশক্তি জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ১৪ বছর আগেই ! ভিক্ষাবৃত্তিকে এড়িয়ে ও পরনির্ভরশীলতার নাগপাশ ডিঙ্গিয়ে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মনোবলকে কাজে লাগিয়েও সমাজের সুস্থ্য আর দশ জন মানুষের মতোই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবার-িপরিজন নিয়ে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা যায় – এমনটি শুনতে কল্পবাক্য মনে হলেও কখনও কখনও কঠিন বাস্তবতা  রূপকথার কল্পকাহিনফকেও হার মানায় ! যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করার উপায় নেই!
হ্যাঁ! অবিশ্বাস্য হলেও তেমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার নতুন রূপপুর মহল্লার মরহুম আকাত আলী মোল্লার ছেলে, বিসমিল্লাহ কনফেকশনারির মালিক,  দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আত্মপ্রত্যয়ী যুবক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম তনু।
সমাজের আর দশ জন মানুষের মতো, তনুও চান সুন্দর এ পৃথিবীর রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ নিতে। কিন্তু, নিয়তির নির্মম পরিহাস আর অর্থের অভাব- আজও তনুর সেই চাওয়া, পাওয়া, আশা, আকাঙ্খার অন্তরায় হয়েই আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে।
টাকার অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে না পারলেও কারও করুণা বা দয়ার পাত্র হতে চান না তনু। আর এ কারণেই দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই দোকানে কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি।  স্ত্রী শেফালী আর ছেলে আশিক সময় দেয়ায় দোকানের ভেতরেই বাকি সময় একটু ঘুমিয়ে নেন তিনি। দেখতে দেখতে ঠিক এভাবেই ১৪টি মূল্যবান বছর হারিয়ে গেছে তার জীবন থেকে !
তনুর বেচাকেনার ধরনও বেশ অদ্ভূদ ও  আশ্চর্যের ! চোখে বিন্দু বিসর্গ দেখতে না পারলেও অর্ডার করা মাত্রই সেই খাবারই দোকানের যথাস্থান থেকে বের করে ক্রেতার হাতে নিমিষেই তুলে দিতে পারেন তিনি । আর পাওনা টাকা রেখে সাইজ হিসেবে সনাক্ত করে বাদবাকি টাকাও ঠিকঠাক ফেরত দিতে পারেন ক্রেতাদেরকে।
জানা গেছে, চোখের যে বিরল রোগে তনু দৃষ্টি হারিয়েছেন, কোটিতে সেই রোগীর সংখ্যা মাত্র দুই এক জন। ২০১৯ সালে বিরল এ রোগের চিকিৎসার জন্য তনু ভারত গেলেও ব্যায়ের জোগান দিতে না পারায় দেশে চলে আসেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তনুর চিকিৎসার জন্য ভারতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আর নেপালে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন যা তার দরিদ্র পরিবাবের পক্ষে যোগান দেয়া আজও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই চোখের চিকিৎসা করানোও হয়নি।
‘পৃথিবীর সুস্থ্য আর সবার মতো, তনুও চান দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে ; কিন্তু,  কারও দয়া বা করুণায় নয়! তবে নিঃস্বার্থভাবে যদি কেউ পাশে দাঁড়ান, তাতে  কোন আপত্তি নেই  তার!’ -বাংলা খবর বিডি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি। তার সাথে যোগাযোগের ফোন নাম্বার – শুন্য এক সাত ছয় সাত- এক তিন দুই চার আট আট (০১৭৬৭-১৩২৪৮৮)।