ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নাজিরপুরে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ : অবৈধ নিয়োগ বৈধ করার পায়তারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩
  • / ৪৭১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

// নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি //

পিরোজপুরের নাজিরপুরে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগে। জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বপন কুমার হালদার এর ভাই সন্তোষ কুমার হালদার কয়েকজন শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের অবিভাবক সদস্য, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্যদের নিকট থেকে জানা যায়, তাদেরকে পাস কাটিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বপন কুমার হালদার, গত ৮ জুলাই নিজ বিদ্যালয়ে বসে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় নিয়োগ প্রক্রিয়াতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মৌখিক অভিযোগ করেন এবং ম্যানেজিং কমিটির ৩ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র তাৎক্ষণিক সভাপতির নিকট দাখিল করেন, অভিযোগে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাব সদস্য হিসাবে নিয়োগ বোর্ডের দায়িত্বরত ছিলেন মহেশ্বর পান্ডে, তার বিরুদ্ধে কমিটির অধিকাংশ সদস্য সভাপতির কাছে তাকে নিয়োগ বোর্ড থেকে বাদ দেওয়ার জন্য অভিযোগ পত্র দাখিল করলেও সভাপতি তার এক আধ্যিপত্ব দেখিয়ে কারো কোন কাথায় কর্ণপাত না করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রাখেন।

নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে কোন প্রার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি এবং প্রধান শিক্ষক পদে মাত্র তিন জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, তার মধ্যে মৌখিক (ভাইবা) পরীক্ষায় দুই জন অংশগ্রহন করেন। শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী কমপেক্ষে তিন জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করলে নিয়োগ সম্পন্ন হয় না। তবে সভাপতি বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়মের তদবির করে নিয়োগকে বৈধ করার পায়তারা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য আশুতোষ বেপারী জানান, দীর্ঘা ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পূর্ব থেকে একটি ঐতিহ্য রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় কাঙ্খিত শিক্ষক পাওয়া যায় নাই তাই শিক্ষা অফিসার নিয়োগ দেন নাই, তবে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমার কাছে এক প্রার্থী বলেছেন যে তার নিকট নাকি এক লাখ টাকা চাইছে।

এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘা ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহন করেছে তাদের মধ্যে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে কোন প্রার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি,  প্রধান শিক্ষক পদে তিন জন  উত্তীর্ণ হলেও মৌখিক পরীক্ষায় দুইজন অংশগ্রহন করেন, নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী কমপক্ষে তিন জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষা শেষে সভাপতি নিয়োগ কার্যক্রম বৈধ দেখানোর জন্য আমাকে স্বাক্ষর করার কথা বললে আমি এ নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা খেতে পারবনা বলে স্বাক্ষর করিনি।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতার প্রতিনিধি, নাজিরপুর সিরাজুল হক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার বলেন, প্রধান শিক্ষকের যে কাঙ্খিত সংখ্যক শিক্ষক থাকার কথা তা অত্যন্ত দূর্বল, তিন জন পাশ করেছিল তাও আবার মৌখিক পরীক্ষায় দুইজন অশংগ্রহন করেছেন, ফলাফল ঘোষনা হয়নি ওভাবেই রয়েছে। তবে মৌখিক ভাবে জানি কমপেক্ষে তিনজন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হবে।
এবিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বপন কুমার হালদারের সাথে কথা হলে তিনি প্রথমেই লিখিত অভিযোগের কাথা অস্বীকার করলেও পরে তিনি স্বীকার করেন এবং বলেন আমি অভিযোগ পেয়ে, উক্ত সদস্যকে প্রশ্নপত্র করা সহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখছি এবং সাংবাদিকদের বলেন, Conflate the interest এর অর্থ বোঝেন ? নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে আগামী দিন এসে জেনে নিবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নাজিরপুরে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ : অবৈধ নিয়োগ বৈধ করার পায়তারা

আপডেট সময় : ০৬:১৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩

// নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি //

পিরোজপুরের নাজিরপুরে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগে। জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বপন কুমার হালদার এর ভাই সন্তোষ কুমার হালদার কয়েকজন শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের অবিভাবক সদস্য, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্যদের নিকট থেকে জানা যায়, তাদেরকে পাস কাটিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বপন কুমার হালদার, গত ৮ জুলাই নিজ বিদ্যালয়ে বসে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় নিয়োগ প্রক্রিয়াতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মৌখিক অভিযোগ করেন এবং ম্যানেজিং কমিটির ৩ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র তাৎক্ষণিক সভাপতির নিকট দাখিল করেন, অভিযোগে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাব সদস্য হিসাবে নিয়োগ বোর্ডের দায়িত্বরত ছিলেন মহেশ্বর পান্ডে, তার বিরুদ্ধে কমিটির অধিকাংশ সদস্য সভাপতির কাছে তাকে নিয়োগ বোর্ড থেকে বাদ দেওয়ার জন্য অভিযোগ পত্র দাখিল করলেও সভাপতি তার এক আধ্যিপত্ব দেখিয়ে কারো কোন কাথায় কর্ণপাত না করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রাখেন।

নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে কোন প্রার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি এবং প্রধান শিক্ষক পদে মাত্র তিন জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, তার মধ্যে মৌখিক (ভাইবা) পরীক্ষায় দুই জন অংশগ্রহন করেন। শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী কমপেক্ষে তিন জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করলে নিয়োগ সম্পন্ন হয় না। তবে সভাপতি বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়মের তদবির করে নিয়োগকে বৈধ করার পায়তারা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য আশুতোষ বেপারী জানান, দীর্ঘা ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পূর্ব থেকে একটি ঐতিহ্য রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় কাঙ্খিত শিক্ষক পাওয়া যায় নাই তাই শিক্ষা অফিসার নিয়োগ দেন নাই, তবে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমার কাছে এক প্রার্থী বলেছেন যে তার নিকট নাকি এক লাখ টাকা চাইছে।

এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘা ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহন করেছে তাদের মধ্যে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে কোন প্রার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি,  প্রধান শিক্ষক পদে তিন জন  উত্তীর্ণ হলেও মৌখিক পরীক্ষায় দুইজন অংশগ্রহন করেন, নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী কমপক্ষে তিন জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষা শেষে সভাপতি নিয়োগ কার্যক্রম বৈধ দেখানোর জন্য আমাকে স্বাক্ষর করার কথা বললে আমি এ নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা খেতে পারবনা বলে স্বাক্ষর করিনি।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতার প্রতিনিধি, নাজিরপুর সিরাজুল হক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার বলেন, প্রধান শিক্ষকের যে কাঙ্খিত সংখ্যক শিক্ষক থাকার কথা তা অত্যন্ত দূর্বল, তিন জন পাশ করেছিল তাও আবার মৌখিক পরীক্ষায় দুইজন অশংগ্রহন করেছেন, ফলাফল ঘোষনা হয়নি ওভাবেই রয়েছে। তবে মৌখিক ভাবে জানি কমপেক্ষে তিনজন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হবে।
এবিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বপন কুমার হালদারের সাথে কথা হলে তিনি প্রথমেই লিখিত অভিযোগের কাথা অস্বীকার করলেও পরে তিনি স্বীকার করেন এবং বলেন আমি অভিযোগ পেয়ে, উক্ত সদস্যকে প্রশ্নপত্র করা সহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখছি এবং সাংবাদিকদের বলেন, Conflate the interest এর অর্থ বোঝেন ? নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে আগামী দিন এসে জেনে নিবেন।