ঢাকা ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪
  • / ৪৯৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের আলোকবালী ইউনিয়নের বাখরনগর, মুরাদনগর ও বকশালীপুর গ্রামে একযোগে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ উল্লাহ গ্রুপের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দিপুর সমর্থকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে।

আহতদের নরসিংদী সদর ও জেলা হাসপাতালসহ ও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহতরা হলেন- মনির উদ্দিন (৫৩), বজলুর রহমান (৪৫), আব্দুর রহমান (২২), মাহফুজ (২০), শীতল মিয়া (৫০), খোকা মিয়া (৬৫), সজিব (২৫), মুরাদ মিয়া (২২), আল মাসুদ (১৮) ও ওবায়দুল (২৬)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আসাদ উল্লাহ গ্রুপের সাথে আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দীপু গ্রুপের বিরোধ চলে আসছিল।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দুই পক্ষ আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকার প্রার্থী নজরল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরজ্জামানের পক্ষে বিপক্ষে কাজ করা নিয়ে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। এ নিয়ে দফায় দফায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে নৌকার সমর্থক দীপুর লোকজন আসাদ উল্লাহ গ্রুপের ১৫-২০ জন সমর্থককে এলাকা ছাড়া করে। বুধবার সকালে এলাকা ছাড়া হওয়া আসাদ উল্লাহর সমর্থকরা বাখরনগর গ্রামে ফিরে এলে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় একযোগে তিন গ্রামের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুর হলে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। রাবার বুলেটবিদ্ধসহ মারধরে আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও ঢাকা

মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসময় একাধিক বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আসাদ উল্লাহ বলেন, “আলোকবালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার হত্যার আত্মস্বীকৃত আসামী ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরকে সাথে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু জোট বেঁধে আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে ৬ জনকে গুলি করে আহত করেছে। আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরজ্জামানের নির্বাচন করেছিলাম। নির্বাচনের দিন থেকে ২০ জন কর্মীকে গ্রাম ছাড়া করেছে। এখনও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা করে আমাদের কর্মী সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করছে।

দেলোয়ার হোসেন দিপু গ্রুপের নেতা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমেন মিয়া বলেন, “এডভোকেট আসাদ উল্লাহ তার আইন পেশাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের মারপ্যাচে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে অযথা হয়রানি করছেন। গত সপ্তাহে আমার নামেও মিথ্যা অপহরণ মামলা করেছেন। তার মামলা ও অত্যাচার থেকে বাচঁতে সাধারণ লোকজন তাদের প্রতিহত করে এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, কাউকে আটক করা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

আপডেট সময় : ১০:২২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের আলোকবালী ইউনিয়নের বাখরনগর, মুরাদনগর ও বকশালীপুর গ্রামে একযোগে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ উল্লাহ গ্রুপের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দিপুর সমর্থকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে।

আহতদের নরসিংদী সদর ও জেলা হাসপাতালসহ ও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহতরা হলেন- মনির উদ্দিন (৫৩), বজলুর রহমান (৪৫), আব্দুর রহমান (২২), মাহফুজ (২০), শীতল মিয়া (৫০), খোকা মিয়া (৬৫), সজিব (২৫), মুরাদ মিয়া (২২), আল মাসুদ (১৮) ও ওবায়দুল (২৬)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আসাদ উল্লাহ গ্রুপের সাথে আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দীপু গ্রুপের বিরোধ চলে আসছিল।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দুই পক্ষ আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকার প্রার্থী নজরল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরজ্জামানের পক্ষে বিপক্ষে কাজ করা নিয়ে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। এ নিয়ে দফায় দফায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে নৌকার সমর্থক দীপুর লোকজন আসাদ উল্লাহ গ্রুপের ১৫-২০ জন সমর্থককে এলাকা ছাড়া করে। বুধবার সকালে এলাকা ছাড়া হওয়া আসাদ উল্লাহর সমর্থকরা বাখরনগর গ্রামে ফিরে এলে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় একযোগে তিন গ্রামের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুর হলে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। রাবার বুলেটবিদ্ধসহ মারধরে আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও ঢাকা

মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসময় একাধিক বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আসাদ উল্লাহ বলেন, “আলোকবালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার হত্যার আত্মস্বীকৃত আসামী ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরকে সাথে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু জোট বেঁধে আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে ৬ জনকে গুলি করে আহত করেছে। আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরজ্জামানের নির্বাচন করেছিলাম। নির্বাচনের দিন থেকে ২০ জন কর্মীকে গ্রাম ছাড়া করেছে। এখনও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা করে আমাদের কর্মী সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করছে।

দেলোয়ার হোসেন দিপু গ্রুপের নেতা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমেন মিয়া বলেন, “এডভোকেট আসাদ উল্লাহ তার আইন পেশাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের মারপ্যাচে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে অযথা হয়রানি করছেন। গত সপ্তাহে আমার নামেও মিথ্যা অপহরণ মামলা করেছেন। তার মামলা ও অত্যাচার থেকে বাচঁতে সাধারণ লোকজন তাদের প্রতিহত করে এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, কাউকে আটক করা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

 

বাখ//আর